০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি লাজুক জুঁই

স্টারমারের নেতৃত্বে ভাঙনের শঙ্কা, পদত্যাগ করলেন ওয়েস স্ট্রিটিং, সামনে লেবার পার্টির ক্ষমতার লড়াই

ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না বলেই তিনি মনে করেন। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

স্ট্রিটিং নিজের পদত্যাগপত্রে বলেন, সরকার পরিচালনা কঠিন হলেও দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার জন্য আরও সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। তার ভাষায়, যেখানে নেতৃত্বের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন ছিল, সেখানে এখন শূন্যতা ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা লেবার পার্টির রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

দলের অভ্যন্তরীণ সংকট

গত কয়েকদিন ধরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর বহু এমপি প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ জন লেবার এমপি স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, যদিও সমর্থকদের একটি অংশ এখনো তার পাশে রয়েছে।

স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট মনে করছে, তার পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হবে। এ অবস্থায় লেবার পার্টি কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

Streeting Quits as Leadership Pressure Mounts on Starmer - Pharmacy Business

রেসে নতুন মুখ

দলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইতোমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারের নাম এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। এইচএমআরসি তদন্ত শেষে তিনি ৪০ হাজার পাউন্ড কর পরিশোধ করলেও ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এরপর থেকেই তাকে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রেইনার বলেছেন, তিনি সরাসরি নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে চান না, তবে পরিস্থিতি তৈরি হলে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি ক্ষমতার জন্য মরিয়া নন, কিন্তু প্রয়োজনে সামনে আসতে পারেন।

এছাড়া গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড এবং সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে আল কার্নসকে নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্টারমারের অবস্থান

সব চাপের মধ্যেও কিয়ার স্টারমার এখনো সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেননি। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, নেতৃত্ব নির্বাচন হলে সরকার কয়েক মাসের জন্য কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস সতর্ক করে বলেছেন, এই সময়ে নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে অর্থনীতি ও সরকারের স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তার মতে, এখন সরকারের উচিত ভেতরের দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে দেশের অর্থনীতি ও জনসেবার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

এদিকে নাটকীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও এনএইচএসের অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমার তথ্য সামনে এসেছে। স্ট্রিটিং দাবি করেছেন, সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা সফল হচ্ছে এবং এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে অপেক্ষমাণ তালিকা কমার সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। তবে সেই সাফল্যও এখন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ

স্টারমারের নেতৃত্বে ভাঙনের শঙ্কা, পদত্যাগ করলেন ওয়েস স্ট্রিটিং, সামনে লেবার পার্টির ক্ষমতার লড়াই

০৭:৩২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না বলেই তিনি মনে করেন। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

স্ট্রিটিং নিজের পদত্যাগপত্রে বলেন, সরকার পরিচালনা কঠিন হলেও দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যার জন্য আরও সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। তার ভাষায়, যেখানে নেতৃত্বের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন ছিল, সেখানে এখন শূন্যতা ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা লেবার পার্টির রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

দলের অভ্যন্তরীণ সংকট

গত কয়েকদিন ধরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর বহু এমপি প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ জন লেবার এমপি স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, যদিও সমর্থকদের একটি অংশ এখনো তার পাশে রয়েছে।

স্ট্রিটিংয়ের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট মনে করছে, তার পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হবে। এ অবস্থায় লেবার পার্টি কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

Streeting Quits as Leadership Pressure Mounts on Starmer - Pharmacy Business

রেসে নতুন মুখ

দলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইতোমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারের নাম এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। এইচএমআরসি তদন্ত শেষে তিনি ৪০ হাজার পাউন্ড কর পরিশোধ করলেও ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এরপর থেকেই তাকে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রেইনার বলেছেন, তিনি সরাসরি নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে চান না, তবে পরিস্থিতি তৈরি হলে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি ক্ষমতার জন্য মরিয়া নন, কিন্তু প্রয়োজনে সামনে আসতে পারেন।

এছাড়া গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড এবং সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে আল কার্নসকে নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্টারমারের অবস্থান

সব চাপের মধ্যেও কিয়ার স্টারমার এখনো সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেননি। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, নেতৃত্ব নির্বাচন হলে সরকার কয়েক মাসের জন্য কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস সতর্ক করে বলেছেন, এই সময়ে নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে অর্থনীতি ও সরকারের স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তার মতে, এখন সরকারের উচিত ভেতরের দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে দেশের অর্থনীতি ও জনসেবার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

এদিকে নাটকীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও এনএইচএসের অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমার তথ্য সামনে এসেছে। স্ট্রিটিং দাবি করেছেন, সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা সফল হচ্ছে এবং এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে অপেক্ষমাণ তালিকা কমার সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। তবে সেই সাফল্যও এখন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে।