যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২২ ঘণ্টা বিলম্বের পর অবশেষে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে ফ্লাইটটি দীর্ঘ সময় বিলম্বিত হলেও যাত্রীদের অভিযোগ, বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের সময়মতো কোনো আপডেট দেয়নি। এমনকি বিমানের ওয়েবসাইটেও ফ্লাইটটিকে ‘অনটাইম’ দেখানো হচ্ছিল। ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—দুই প্রান্ত মিলিয়ে ৮ শতাধিক যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিজি-০২৩৫ ফ্লাইটটি ৪০১ জন ওমরাহ যাত্রী নিয়ে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।
দুই দেশে আট শতাধিক যাত্রীর ভোগান্তি
ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে না পারায় শুধু সিলেটেই নয়, জেদ্দা বিমানবন্দরেও ফিরতি ফ্লাইটের শত শত যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। সিলেটে ওমরাহযাত্রী এবং জেদ্দায় বাংলাদেশগামী যাত্রী—উভয় মিলিয়ে ৮ শতাধিক মানুষ এই বিলম্বের কারণে দুর্ভোগে পড়েন।
বিমানটির ফিরতি ফ্লাইট বিজি-০২৩৬ একই উড়োজাহাজে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকায় পুরো সূচিই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
কীভাবে ঘটল বিলম্ব
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, সোমবার বিকালে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বিমানটি সিলেটে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে ওমরাহ যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিমানের প্রকৌশলীরা মেরামত কাজ শুরু করেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় ত্রুটি দূর করার পর বিকেলে ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করে।
যাত্রীদের অভিযোগ: কোনো আগাম তথ্য দেওয়া হয়নি
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, বিলম্বের বিষয়টি শুরুতেই জানানো হলে অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ফ্লাইট বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্ব সম্পর্কে কার্যকর কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। ওয়েবসাইটেও ফ্লাইটের অবস্থা ‘অনটাইম’ দেখানো হচ্ছিল, যা যাত্রীদের আরও বিভ্রান্ত করেছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত এক যাত্রী মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইন জানান, তারা নির্ধারিত সময়েই জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছালেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিলম্বের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে যাত্রীদের কয়েকটি বাসে করে একটি নিম্নমানের হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, নিম্নমানের খাবারের কারণে কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আরেক যাত্রী মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, তার পরিবারের নয়জন সদস্য ফিরতি ফ্লাইটে ছিলেন। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
একই ফ্লাইটের যাত্রী সুলতান আহমদও অভিযোগ করেন, বিমান কর্তৃপক্ষ সময়মতো কোনো তথ্য দেয়নি। ওয়েবসাইটেও ফ্লাইটকে ‘অনটাইম’ দেখানো হচ্ছিল, যা যাত্রীদের সঙ্গে অসংগত আচরণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিমানের স্বীকারোক্তি
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেটের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার শরিফুল হাসান বলেন, সিলেট থেকে যাওয়া ফ্লাইটে ৪০১ জন এবং ফিরতি ফ্লাইটেও প্রায় একই সংখ্যক যাত্রী ছিলেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি আগে থেকেই যাত্রীদের জানানো হলে তারা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পেতেন এবং এত দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ২২ ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ছেড়েছে, তবে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগে দুই দেশের ৮ শতাধিক যাত্রী দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















