কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের দুই রাজ্য তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। তামিলনাড়ু সরকার অভিযোগ করেছে, কাবেরী পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (সিডব্লিউএমএ) নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কর্ণাটক নির্ধারিত পরিমাণ পানি ছাড়ছে না। তাই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে কর্ণাটককে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছে রাজ্যটি।
১৫ দিনের জন্য পানি ছাড়ার নির্দেশ কার্যকরের দাবি
তামিলনাড়ু সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, গত ৩০ জুলাই সিডব্লিউএমএ সিদ্ধান্ত দেয় যে কর্ণাটকের কাবিনি ও কৃষ্ণরাজ সাগর জলাধার থেকে টানা ১৫ দিন প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ কিউসেক হারে পানি ছাড়া হবে। এই হিসাবে মোট ৪ দশমিক ৫৩৬ টিএমসি ফুট পানি ১২ আগস্টের মধ্যে তামিলনাড়ুর প্রাপ্য।
কিন্তু তামিলনাড়ুর দাবি, এই নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়নি। ফলে আদালতের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও প্রায় ২৭ টিএমসি ফুট পানির দাবি
আবেদনে তামিলনাড়ু বলেছে, ১ জুন থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃরাজ্য সীমান্তের বিলিগুন্ডলু পয়েন্টে যে পরিমাণ পানি পৌঁছানোর কথা ছিল, তার তুলনায় বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণের জন্য অবিলম্বে ২৬ দশমিক ৯৫৪ টিএমসি ফুট পানি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কর্ণাটকের জলাধারগুলোর পানির প্রবাহ প্রতি ১০ দিন অন্তর পর্যবেক্ষণ করে নির্ধারিত মাসিক ও দৈনিক পানি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ
তামিলনাড়ুর অভিযোগ, কাবেরী পানি নিয়ন্ত্রণ কমিটি এবং সিডব্লিউএমএর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২৯ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সীমান্তে পানির প্রবাহ ছিল মাত্র ১৫৮ থেকে ৫৩০ কিউসেকের মধ্যে। যা নির্ধারিত ৩ হাজার ৫০০ কিউসেকের তুলনায় অনেক কম।
রাজ্যটির দাবি, এটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করার স্পষ্ট প্রমাণ।

জলাধারে পর্যাপ্ত পানি থাকার দাবিও তামিলনাড়ুর
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তামিলনাড়ু জানিয়েছে, ৩ আগস্ট পর্যন্ত কর্ণাটকের চারটি প্রধান জলাধারে মোট ৭৭ দশমিক ৫৩৭ টিএমসি ফুট পানি মজুত ছিল। তাই পর্যাপ্ত পানি থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তারা।
তামিলনাড়ুর মতে, চলতি সেচ মৌসুমে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলেও বিদ্যমান পানি মজুতের ভিত্তিতে নির্ধারিত অংশ ছাড়া সম্ভব ছিল।
কর্ণাটকের অবস্থান
এদিকে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের পানির পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কন্নড় সংগঠনগুলোর ডাকা ১৩ আগস্টের রাজ্যব্যাপী বন্ধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই রাজ্যের এই বিরোধ বহু দশক ধরে চলমান। আদালতের রায়, ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত এবং কাবেরী পানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রায়ই পানি ছাড়া নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ুর নতুন আবেদন। কর্ণাটকের বিরুদ্ধে পানি ছাড়ার নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে আবারও আইনি লড়াই তীব্র হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















