মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন চাপের মুখে পড়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। যাত্রী সংখ্যা ও আয় বাড়লেও বাড়তি পরিচালন ব্যয় এবং এয়ার ইন্ডিয়ায় বিনিয়োগজনিত ক্ষতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির নিট মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ কম। তবে একই সময়ে পরিচালন মুনাফা বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। যাত্রী পরিবহন ও আয় বাড়ার কারণে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জ্বালানি খরচে বাড়তি চাপ

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জেট জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। যদিও তারা বিভিন্ন রুটে বিমান ভাড়া বাড়িয়েছে, তবুও সেই বাড়তি আয় জ্বালানি ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি সামাল দিতে পারছে না। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই বাড়তি ব্যয়ের পুরো প্রভাব আগামী আর্থিক ফলাফলে আরও স্পষ্ট হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ায় বিনিয়োগে ধাক্কা
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক চাপে বড় ভূমিকা রেখেছে এয়ার ইন্ডিয়ায় বিনিয়োগ। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এয়ার ইন্ডিয়ায় ২৫ দশমিক ১ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। গত অর্থবছরে এয়ার ইন্ডিয়ার বড় ধরনের ক্ষতির প্রভাবও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের হিসাবপত্রে পড়েছে। বিমান দুর্ঘটনা, পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকা এবং জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়া বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।
এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রধান নির্বাহী খুঁজছে। গত কয়েক বছরে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে এক হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরও সামনে এসেছে। তবুও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়াকে তারা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখছে।
যাত্রী ও আয়ে রেকর্ড
_0.jpg&w=1920&q=75)
চাপের মধ্যেও যাত্রী পরিবহনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ও তাদের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্কুট। গত এক বছরে দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ৪ কোটি ২৪ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে মোট আয় বেড়ে রেকর্ড ২০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
নতুন রুট ও ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা
চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এয়ারলাইন্সটি তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। স্কুট ইন্দোনেশিয়ার নতুন কয়েকটি গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে। এছাড়া চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স লন্ডন, মিলান ও মিউনিখসহ ইউরোপের কয়েকটি রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে দুবাই ও জেদ্দার ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। রিয়াদে নতুন ফ্লাইট চালুর সময়ও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বব্যাপী বিমান শিল্প আরও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে। আর সেই চাপ থেকে বড় এয়ারলাইন্সগুলিও রেহাই পাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















