০৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
 হরমুজ সংকটে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি “ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে” — নতুন হামলার আশঙ্কা মালদ্বীপে গুহায় ডাইভিংয়ে পাঁচ ইতালীয়র মৃত্যু ফরিদপুরে পুকুর পাড়ে মাটিচাপা মা ও শিশুর লাশ, প্রেমিক আটক চট্টগ্রামের ফ্লাইওভারে লাশ ঝুলানো: পুলিশ বলছে রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই, পরিবার বলছে ভিন্ন কথা BLACKPINK-এর Jennie: নিজের এজেন্সি থেকে আয় ১৭০ কোটি টাকারও বেশি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আরেকজন ধ্বংসস্তূপে BTS-এর ‘Arirang World Tour’ কাল স্ট্যানফোর্ড থেকে শুরু — সাত বছর পর পূর্ণ দলে ফেরা নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজনই মারা গেলেন aespa-র নতুন MV “WDA” মুক্তি পেল G-Dragon-কে নিয়ে — ভক্তদের মধ্যে বিস্ফোরণ

চীনের ওপর নির্ভরতা কমছে, নাকি নতুন রূপে আরও গভীর হচ্ছে?

বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে তারা পরস্পরের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে আবার একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সামরিক উত্তেজনা, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, শুল্কযুদ্ধ, কূটনৈতিক সংঘাত—সবকিছুর পরও এই বাস্তবতা পাল্টায়নি। বরং সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু নির্ভরতার কাঠামো পুরোপুরি ভাঙেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দুই অর্থনীতি কি সত্যিই বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে, নাকি রাজনৈতিক ভাষণের আড়ালে তারা এখনও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে?

গত কয়েক বছরে ওয়াশিংটন “ডিকাপলিং”, “ডি-রিস্কিং” কিংবা “রিব্যালান্সিং”-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতি সামনে এনেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রক্রিয়াকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু বাস্তব তথ্য বলছে, রাজনৈতিক অবস্থান যতই কঠোর হোক, অর্থনৈতিক সম্পর্ককে পুরোপুরি ছিন্ন করা সহজ নয়।

২০১৮ সালে শুরু হওয়া শুল্কযুদ্ধ ছিল সেই বিচ্ছিন্নতার বড় সূচনা। যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে, চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। পরে বাইডেন প্রশাসনও সেই নীতির বড় অংশ বজায় রাখে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে এসে আবারও চীনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য সংঘাতকে তীব্র করেন। বেইজিংও পাল্টা কৌশল নেয়, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে।

তবু বাণিজ্যের প্রবাহ পুরোপুরি থেমে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিপুল পরিমাণ পণ্য চীনে রপ্তানি করে। একইভাবে চীনও আমেরিকান বাজার থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন শৃঙ্খল বদলেছে, সরবরাহের পথ বৈচিত্র্যময় হয়েছে, কিন্তু দুই অর্থনীতির পারস্পরিক প্রয়োজন শেষ হয়নি।

চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে মার্কিন ঋণপত্রের ক্ষেত্রে। একসময় বেইজিং ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সবচেয়ে বড় বিদেশি ধারক। কিন্তু গত এক দশকে চীন ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত হিসাব—ডলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন সম্পর্ক ক্রমশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠছে।

তবে এটিও বাস্তব যে চীন এখনও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে যেতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজার বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে রয়ে গেছে। তাই বেইজিং বিকল্প খুঁজলেও পুরোপুরি সরে দাঁড়াতে পারেনি।

China's biggest problem is lack of confidence: Standard Chartered CEO

করপোরেট জগতেও একই ধরনের দ্বৈততা দেখা যাচ্ছে। বহু মার্কিন কোম্পানি এখন ভারত, ভিয়েতনাম বা মেক্সিকোয় উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু চীনের বাজার এখনও তাদের জন্য অপরিহার্য। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এটি আরও স্পষ্ট। ইন্টেল, এনভিডিয়া কিংবা অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠান চীনা বাজার থেকে বিপুল আয় করে। রাজনৈতিক উত্তেজনা তাদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু চীনকে বাদ দিয়ে তাদের বৈশ্বিক কৌশল এখনও অসম্পূর্ণ।

এখানে মূল সংকটটি অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক। দুই দেশই এখন বুঝতে পারছে, প্রতিযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি হবে। তাই তারা এমন এক সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে যেখানে নির্ভরতা থাকবে, কিন্তু সেই নির্ভরতা যেন কৌশলগত দুর্বলতায় পরিণত না হয়।

মানুষে-মানুষে সম্পর্কেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। একসময় যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চীনা শিক্ষার্থীদের বড় উৎস হিসেবে দেখত। কিন্তু মহামারির পর সেই প্রবণতা বদলে গেছে। ভিসা সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং চীনের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা জাতীয়তাবাদ—সব মিলিয়ে আগের সেই আকর্ষণ আর নেই।

পর্যটনের ক্ষেত্রেও একই ছবি। চীনা পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে কৌতূহল ও আগ্রহ একসময় সম্পর্ককে নরম রাখত, তা এখন জায়গা করে দিচ্ছে সন্দেহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা বাস্তবসম্মত নয়, আবার আগের মতো উন্মুক্ত নির্ভরতাও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে দুই দেশই এমন এক ভারসাম্য খুঁজছে, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।

ট্রাম্পের বেইজিং সফর সেই বাস্তবতারই প্রতীক। কঠোর ভাষণ, শুল্ক, প্রযুক্তি যুদ্ধ কিংবা কূটনৈতিক সংঘাত—এসবের মাঝেও বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি এখনও একে অপরকে প্রয়োজন করে। প্রশ্ন হলো, এই প্রয়োজন ভবিষ্যতে সহযোগিতার ভিত্তি হবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের উৎস হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

 হরমুজ সংকটে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায়

চীনের ওপর নির্ভরতা কমছে, নাকি নতুন রূপে আরও গভীর হচ্ছে?

০৪:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে তারা পরস্পরের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে আবার একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সামরিক উত্তেজনা, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, শুল্কযুদ্ধ, কূটনৈতিক সংঘাত—সবকিছুর পরও এই বাস্তবতা পাল্টায়নি। বরং সম্পর্কের ধরন বদলেছে, কিন্তু নির্ভরতার কাঠামো পুরোপুরি ভাঙেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দুই অর্থনীতি কি সত্যিই বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে, নাকি রাজনৈতিক ভাষণের আড়ালে তারা এখনও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে?

গত কয়েক বছরে ওয়াশিংটন “ডিকাপলিং”, “ডি-রিস্কিং” কিংবা “রিব্যালান্সিং”-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতি সামনে এনেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রক্রিয়াকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু বাস্তব তথ্য বলছে, রাজনৈতিক অবস্থান যতই কঠোর হোক, অর্থনৈতিক সম্পর্ককে পুরোপুরি ছিন্ন করা সহজ নয়।

২০১৮ সালে শুরু হওয়া শুল্কযুদ্ধ ছিল সেই বিচ্ছিন্নতার বড় সূচনা। যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে, চীন পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। পরে বাইডেন প্রশাসনও সেই নীতির বড় অংশ বজায় রাখে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে এসে আবারও চীনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য সংঘাতকে তীব্র করেন। বেইজিংও পাল্টা কৌশল নেয়, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে।

তবু বাণিজ্যের প্রবাহ পুরোপুরি থেমে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিপুল পরিমাণ পণ্য চীনে রপ্তানি করে। একইভাবে চীনও আমেরিকান বাজার থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন শৃঙ্খল বদলেছে, সরবরাহের পথ বৈচিত্র্যময় হয়েছে, কিন্তু দুই অর্থনীতির পারস্পরিক প্রয়োজন শেষ হয়নি।

চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে মার্কিন ঋণপত্রের ক্ষেত্রে। একসময় বেইজিং ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সবচেয়ে বড় বিদেশি ধারক। কিন্তু গত এক দশকে চীন ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত হিসাব—ডলারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন সম্পর্ক ক্রমশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে উঠছে।

তবে এটিও বাস্তব যে চীন এখনও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে যেতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজার বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে রয়ে গেছে। তাই বেইজিং বিকল্প খুঁজলেও পুরোপুরি সরে দাঁড়াতে পারেনি।

China's biggest problem is lack of confidence: Standard Chartered CEO

করপোরেট জগতেও একই ধরনের দ্বৈততা দেখা যাচ্ছে। বহু মার্কিন কোম্পানি এখন ভারত, ভিয়েতনাম বা মেক্সিকোয় উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু চীনের বাজার এখনও তাদের জন্য অপরিহার্য। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এটি আরও স্পষ্ট। ইন্টেল, এনভিডিয়া কিংবা অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠান চীনা বাজার থেকে বিপুল আয় করে। রাজনৈতিক উত্তেজনা তাদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু চীনকে বাদ দিয়ে তাদের বৈশ্বিক কৌশল এখনও অসম্পূর্ণ।

এখানে মূল সংকটটি অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক। দুই দেশই এখন বুঝতে পারছে, প্রতিযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি হবে। তাই তারা এমন এক সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে যেখানে নির্ভরতা থাকবে, কিন্তু সেই নির্ভরতা যেন কৌশলগত দুর্বলতায় পরিণত না হয়।

মানুষে-মানুষে সম্পর্কেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। একসময় যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল। আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চীনা শিক্ষার্থীদের বড় উৎস হিসেবে দেখত। কিন্তু মহামারির পর সেই প্রবণতা বদলে গেছে। ভিসা সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং চীনের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা জাতীয়তাবাদ—সব মিলিয়ে আগের সেই আকর্ষণ আর নেই।

পর্যটনের ক্ষেত্রেও একই ছবি। চীনা পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে কৌতূহল ও আগ্রহ একসময় সম্পর্ককে নরম রাখত, তা এখন জায়গা করে দিচ্ছে সন্দেহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা বাস্তবসম্মত নয়, আবার আগের মতো উন্মুক্ত নির্ভরতাও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে দুই দেশই এমন এক ভারসাম্য খুঁজছে, যেখানে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।

ট্রাম্পের বেইজিং সফর সেই বাস্তবতারই প্রতীক। কঠোর ভাষণ, শুল্ক, প্রযুক্তি যুদ্ধ কিংবা কূটনৈতিক সংঘাত—এসবের মাঝেও বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি এখনও একে অপরকে প্রয়োজন করে। প্রশ্ন হলো, এই প্রয়োজন ভবিষ্যতে সহযোগিতার ভিত্তি হবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের উৎস হয়ে উঠবে।