ইরান-মার্কিন যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ — যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহ হয়। জীবাশ্ম গ্যাসনির্ভর বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় ব্যাপক বিভ্রাট শুরু হয়েছে — কারখানা ও স্কুলে প্রভাব পড়েছে।
জ্বালানি, সার ও রেমিট্যান্স — তিনদিক থেকে চাপ

বাংলাদেশ এই সংকটে তিন দিক থেকে মার খাচ্ছে। প্রথমত জ্বালানি — দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ কাতারি LNG-নির্ভর, যার সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। দ্বিতীয়ত সার — হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৩০ শতাংশ ইউরিয়া সার রপ্তানি হয়, যার ঘাটতি কৃষি উৎপাদনকে হুমকিতে ফেলছে। তৃতীয়ত রেমিট্যান্স — সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশে কর্মরত প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর জীবিকা এই সংঘাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত।
GDP প্রবৃদ্ধিতে মন্দার পূর্বাভাস
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন হরমুজ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের GDP প্রবৃদ্ধিতে মন্দার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, মূল্যস্ফীতি চাপ দিচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ক্রমশ চাপে পড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















