যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প জানান, তার সফরে অংশ নেওয়া শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা চীনা নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন। তিনি বলেন, এসব ব্যবসায়ী কেবল চুক্তি করতেই আসেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগও তৈরি করবেন।
বৈঠকে প্রযুক্তি খাতের বড় নাম

ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের প্রধান টিম কুকের মতো ব্যবসায়ীরা। ট্রাম্প জানান, শুরুতে তাদের বৈঠকের অংশ হওয়ার কথা ছিল না। তবে তিনি নিজেই শি জিনপিংকে তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
তার ভাষায়, প্রথমে চীনা কর্মকর্তারা কিছুটা বিস্মিত হলেও পরে পুরো পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোয়। শি জিনপিংও এই উদ্যোগকে ভালো ধারণা হিসেবে উল্লেখ করেন বলে জানান ট্রাম্প।
ইরান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
দুই নেতার বৈঠকে ইরান ইস্যুও গুরুত্ব পায়। ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম দেবে না। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, চীন এখনও ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে। তবে শি চান না যে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ুক কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হোক।

পরমাণু অস্ত্র ও কূটনৈতিক বার্তা
বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই একমত হয়েছে যে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, শি জিনপিং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের পুনর্জাগরণ এবং “আমেরিকাকে আবার মহান করা” একসঙ্গে এগোতে পারে।
বাণিজ্য থেকে তাইওয়ান, আলোচনায় বিস্তৃত বিষয়
দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ইরান এবং তাইওয়ানসহ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, বেইজিংয়ের ঝংনানহাই এলাকায় আরও একটি বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প ও শি। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ এবং চা বৈঠকের মধ্য দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে দুই দেশের সমন্বয় ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















