যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আবারও পার্লামেন্টে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পর লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ড এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে এবং সরকারি ঋণের খরচ বেড়েছে।
লেবারের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে এমন এক সময়, যখন স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছেন। যদিও তিনি সরাসরি নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামেননি, তবে বিদায়ী চিঠিতে স্টারমারের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, বর্তমান নেতৃত্বে দিকনির্দেশনা ও সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ভিশনের অভাব রয়েছে।
বার্নহ্যামের প্রত্যাবর্তনের পথ

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ওয়িগানের মেকারফিল্ড আসনে উপনির্বাচনে অংশ নিতে চান। সাবেক মন্ত্রী জশ সাইমনস এই আসন ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে বার্নহ্যামের জন্য পথ তৈরি হয়। তবে তার প্রার্থিতা এখনো লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবার তাকে বাধা দেওয়া হবে না। কারণ গতবারের তুলনায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। লেবারের অনেক নেতাই মনে করছেন, বার্নহ্যাম দলের জন্য শক্তিশালী মুখ হতে পারেন।
তবে এই লড়াই সহজ হবে না। স্থানীয় নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের দল রিফর্ম ইউকে মেকারফিল্ডের আটটি ওয়ার্ডেই বড় জয় পেয়েছে। তারা ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে, যেখানে লেবারের ভোট ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ।
লেবারের ভেতরে অস্থিরতা
স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একাধিক মন্ত্রী ও এমপি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। দলের একাংশ চাইছে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণা করুন, যাতে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত এড়ানো যায়।
যদিও হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড দাবি করেছেন, স্টারমার পদত্যাগের কথা ভাবছেন না। তার ভাষায়, “লেবার পার্টি কনজারভেটিভদের মতো বিশৃঙ্খলার পথে যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন এমপির সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
নতুন স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জেমস মারে। তিনি সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে
রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। ব্রিটিশ পাউন্ড ডলারের বিপরীতে কমে ১ দশমিক ৩৩৪৭ ডলারে নেমেছে, যা এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বার্নহ্যাম ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরলে সরকারের ব্যয় বাড়তে পারে এবং নতুন ঋণ ইস্যুর প্রয়োজন হতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির ভেতরের এই দ্বন্দ্ব আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচনায় পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের ফলাফল স্টারমারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















