০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
TIME100 ফিলানথ্রপি তালিকায় BRAC-এর আসিফ সালেহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাঠে নামছে BNP সিঙ্গাপুরে ক্যানসার শনাক্তে নতুন উদ্যোগ, চালু হচ্ছে বহুক্যানসার আগাম পরীক্ষা চট্টগ্রামে তিন ফুচকা কারখানায় জরিমানা, মেঝে ভাঙা — ভাতের কুঁড়া মেশানো আটা ঈদুল আযহায় সরকারি ছুটি ২৫ মে থেকে সাত দিন ঢাকায় এআই ক্যামেরা: লাল বাতি পার করলেই ধরা পড়বেন এইচডিবির নিয়ন্ত্রণে ফিরছে চার ভেজা বাজার, বদলে যাবে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় কেনাকাটার অভিজ্ঞতা ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বৈঠক, আধুনিক ট্র্যাফিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরে নতুন স্পেস ল্যাব, মহাকাশ প্রযুক্তিকে সাধারণ ব্যবসায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ আফ্রিকান কোম্পানি কিনে নিল বাংলাদেশের বিক্রয়.কম

ইন্দোনেশিয়ায় চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন

ইন্দোনেশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দেশটির বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ব্যবসায়ী মহলে ছড়িয়ে পড়া একটি চিঠিকে ঘিরে এই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার খনিজ ও বিশেষ করে নিকেল শিল্পে নতুন নীতিমালা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। চীনা বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, দ্রুত বদলে যাওয়া নিয়মকানুন তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নিকেল শিল্পে চীনের বড় উপস্থিতি

গত কয়েক বছরে ইন্দোনেশিয়ার নিকেল শিল্পে চীনা কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ হয়েছে। দেশটি কাঁচা নিকেল রপ্তানি বন্ধ করার পর সেখানে গড়ে ওঠে বিশাল প্রক্রিয়াজাত শিল্প। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ উৎপাদনে এই খাত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

China's Nickel Plants in Indonesia Created Needed Jobs, and Pollution - The  New York Times

তবে নতুন কর, রয়্যালটি বৃদ্ধি এবং নিকেল আকরিকের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিনিয়োগকারীদের দাবি, এতে কারখানাগুলোর আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

নীতিগত অনিশ্চয়তায় অস্বস্তি

চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠছে। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে পর্যাপ্ত সময় বা প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা হুমকির মুখে পড়ছে।

একাধিক ব্যবসায়ীও জানিয়েছেন, বাস্তব পরিস্থিতি চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গে মিল রয়েছে। তারা বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে।

প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, দেশটিতে বিনিয়োগ অনুমোদন পেতে অনেক সময় লাগে। তিনি বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের জন্য এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যেখানে প্রতিবেশী কিছু দেশে একই কাজ কয়েক সপ্তাহেই শেষ হয়।

Indonesia's Prabowo says ready to recognise Israel if Palestinians get  state | International | Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

তিনি আরও স্বীকার করেন, কিছু কর্মকর্তা নিয়মকানুনকে ঘুষ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি চীনা নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনাও চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ব্যয় ব্যবসার জন্য বড় সমস্যা না হলেও নীতিগত অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পেলে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়ার সরকার বলছে, দেশটির নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতি রয়েছে এবং তা জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় পরিচালিত হবে। তবে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ মনে করছে, স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ নীতিমালা ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

TIME100 ফিলানথ্রপি তালিকায় BRAC-এর আসিফ সালেহ

ইন্দোনেশিয়ায় চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন

০৪:০৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দেশটির বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ব্যবসায়ী মহলে ছড়িয়ে পড়া একটি চিঠিকে ঘিরে এই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার খনিজ ও বিশেষ করে নিকেল শিল্পে নতুন নীতিমালা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। চীনা বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, দ্রুত বদলে যাওয়া নিয়মকানুন তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নিকেল শিল্পে চীনের বড় উপস্থিতি

গত কয়েক বছরে ইন্দোনেশিয়ার নিকেল শিল্পে চীনা কোম্পানিগুলোর বড় বিনিয়োগ হয়েছে। দেশটি কাঁচা নিকেল রপ্তানি বন্ধ করার পর সেখানে গড়ে ওঠে বিশাল প্রক্রিয়াজাত শিল্প। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ উৎপাদনে এই খাত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

China's Nickel Plants in Indonesia Created Needed Jobs, and Pollution - The  New York Times

তবে নতুন কর, রয়্যালটি বৃদ্ধি এবং নিকেল আকরিকের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিনিয়োগকারীদের দাবি, এতে কারখানাগুলোর আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

নীতিগত অনিশ্চয়তায় অস্বস্তি

চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠছে। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে পর্যাপ্ত সময় বা প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা হুমকির মুখে পড়ছে।

একাধিক ব্যবসায়ীও জানিয়েছেন, বাস্তব পরিস্থিতি চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গে মিল রয়েছে। তারা বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে।

প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, দেশটিতে বিনিয়োগ অনুমোদন পেতে অনেক সময় লাগে। তিনি বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের জন্য এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যেখানে প্রতিবেশী কিছু দেশে একই কাজ কয়েক সপ্তাহেই শেষ হয়।

Indonesia's Prabowo says ready to recognise Israel if Palestinians get  state | International | Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

তিনি আরও স্বীকার করেন, কিছু কর্মকর্তা নিয়মকানুনকে ঘুষ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি চীনা নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনাও চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ব্যয় ব্যবসার জন্য বড় সমস্যা না হলেও নীতিগত অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পেলে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়ার সরকার বলছে, দেশটির নিজস্ব অর্থনৈতিক নীতি রয়েছে এবং তা জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় পরিচালিত হবে। তবে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ মনে করছে, স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ নীতিমালা ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।