ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটিতে এবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বহুক্যানসার আগাম শনাক্তকরণ পরীক্ষা, যা একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি শনাক্ত করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এটি ক্যানসার চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হতে যাওয়া এই গবেষণায় অংশ নেবেন এক হাজার মানুষ। যাদের মধ্যে জেনেটিক কারণ বা শারীরিক জটিলতার কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, তাদেরকেই মূলত অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গবেষণাটি পরিচালনা করবে ন্যাশনাল ক্যানসার সেন্টার সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষজ্ঞ দল।
রক্ত পরীক্ষাতেই মিলবে ক্যানসারের ইঙ্গিত
নতুন এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘লিকুইড বায়োপসি’। সাধারণ টিস্যু পরীক্ষার বদলে রক্তের নমুনা থেকেই ক্যানসারের ডিএনএ ও অন্যান্য চিহ্ন শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে একইসঙ্গে একাধিক ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
গবেষকরা বলছেন, এই পরীক্ষার অন্যতম সুবিধা হলো এটি খুব কম ক্ষেত্রে ভুল সংকেত দেয়। পাশাপাশি শরীরের কোন অংশ থেকে ক্যানসারের সূচনা হয়েছে, সেটিও অনেক সময় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। তবে শুরুর দিকের টিউমারে ক্যানসারের ডিএনএ কম থাকায় সব ক্ষেত্রে নির্ভুল ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এশীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা মূল্যায়ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পর্যন্ত বহুক্যানসার শনাক্তকরণ নিয়ে অধিকাংশ গবেষণা পশ্চিমা দেশগুলোতে হয়েছে এবং সেগুলোর অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। তাই এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল মিলবে কি না, তা নিশ্চিত হতে নতুন গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
এই পরীক্ষার খরচও বেশ বেশি। একটি পরীক্ষার ব্যয় প্রায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে। ফলে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এজন্য এখনই জাতীয় ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচিতে এই পরীক্ষা যুক্ত করা হয়নি।
ঝুঁকিভিত্তিক স্ক্রিনিংয়েও নতুন গবেষণা
একইসঙ্গে আরও একটি গবেষণা শুরু হয়েছে, যেখানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও স্থূলতার মতো সমস্যার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হবে। গবেষকরা বলছেন, এসব শারীরিক জটিলতা কোলন, ফুসফুস ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই গবেষণার মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করে উপযুক্ত পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসার প্রতিরোধ ব্যবস্থার পথ খুলে দিতে পারে এই উদ্যোগ।
আগাম শনাক্তে বদলে গেছে জীবন
এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন এক ক্যানসারজয়ী নারী। পরিবারের ইতিহাস থাকায় তিনি নিয়মিত পরীক্ষা করাতেন। পরে ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে তার স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক স্তর শনাক্ত হয়। দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কারণে তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, সময়মতো পরীক্ষা করানোই তাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। তার আশা, এই অভিজ্ঞতা অন্যদেরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে উৎসাহিত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















