১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার, ‘প্রয়োজন হলে নতুন সামরিক পদক্ষেপ’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে আবার ফিরছে ‘সবকিছু একসঙ্গে’ অ্যাপের ধারণা, এবার কি সফল হবে প্রযুক্তি জায়ান্টরা? পুলিশ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হার্পারের হত্যাকারীদের আগাম মুক্তি ঠেকাতে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত সমুদ্রে নিখোঁজ ১৩ বছরের কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, শোকে স্তব্ধ উপকূলীয় জনপদ তিন বছর পর মিলল ১১২ মরদেহ, গাজায় গণকবরের শোকযাত্রায় কান্নায় ভেঙে পড়ল স্বজনরা অনশন ভাঙাতে জোর করে নল ঢুকিয়ে খাবার, অভিবাসী আটককেন্দ্রে নির্যাতনের অভিযোগে তীব্র বিতর্ক দুর্বল ইয়েন ও মোটরসাইকেলের শক্তিশালী বিক্রিতে হোন্ডার মুনাফার পূর্বাভাস বেড়েছে শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল, নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি

স্টারমারের নেতৃত্ব যুদ্ধ, অস্থিরতার নতুন মূল্য গুনতে পারে ব্রিটেন

ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট এখন দেশটির রাজনীতিকে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব পদ থেকে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ব্রিটেন অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক ক্লান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পরই কার্যত লেবার পার্টির নেতৃত্ব দৌড় শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ডও। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান নেতা হিসেবে স্টারমার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারবেন, যদিও অন্যদের এমপিদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

দীর্ঘ নেতৃত্ব লড়াইয়ের আশঙ্কা

স্ট্রিটিং তার পদত্যাগপত্রে “ধারণার লড়াই” এবং “সেরা প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা”র কথা বলেছেন। কিন্তু এতে দ্রুত সমাধানের বদলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিতই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস ধরে চলতে পারে এই অভ্যন্তরীণ লড়াই।

ব্রিটিশ জনগণের বড় অংশ ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত। কনজারভেটিভ শাসনের দীর্ঘ টালমাটাল সময়ের পর লেবার পার্টি স্থিতিশীলতা ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এখন সেই দলই আবার অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ

রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আবারও মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ অবস্থায় ব্রিটেনের জাতীয় ঋণ ইতোমধ্যেই জিডিপির ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির ঋণ ব্যবস্থাপনাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব সংকট বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল করবে এবং সরকারি বন্ডের সুদ বাড়িয়ে দিতে পারে।

British Prime Minister Keir Starmer faces Labour Party leadership challenge  | Pittsburgh Post-Gazette

স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমছে

লেবার পার্টির ভেতরেও স্টারমারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফল তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে। এর পরপরই লেবারের সঙ্গে যুক্ত ১১টি ট্রেড ইউনিয়ন প্রকাশ্যে স্টারমারকে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগেই সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।

সমালোচকদের মতে, স্টারমার চাইলে দলকে সংঘাত থেকে বাঁচিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত না দেওয়ায় দলীয় বিভাজন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সংশয়

ওয়েস স্ট্রিটিংকে তুলনামূলকভাবে বাজারবান্ধব ও মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে দেখা হলেও, লেবারের বামঘেঁষা অংশের কাছে সেটিই তার দুর্বলতা। অন্যদিকে এড মিলিব্যান্ড অতীতে নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বলেই সমালোচনা রয়েছে।

অ্যাঞ্জেলা রেইনারের আর্থিক সিদ্ধান্ত ও কর-সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যামও নিশ্চিত সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে, বিশেষ করে রিফর্ম ইউকের উত্থানের কারণে।

ভোটারদের আস্থা নিয়ে শঙ্কা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবার পার্টি এখন এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় নেমেছে, যা সাধারণ ভোটারদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যে দল দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই দলই এখন ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে ব্যস্ত।

এ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে শুধু লেবার পার্টিই নয়, পুরো ব্রিটেনকে তার মূল্য দিতে হতে পারে।

স্টারমারের নেতৃত্ব যুদ্ধ

লেবার পার্টির নেতৃত্ব সংকট ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে ব্রিটেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার, ‘প্রয়োজন হলে নতুন সামরিক পদক্ষেপ’

স্টারমারের নেতৃত্ব যুদ্ধ, অস্থিরতার নতুন মূল্য গুনতে পারে ব্রিটেন

০৬:৪০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট এখন দেশটির রাজনীতিকে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব পদ থেকে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ব্রিটেন অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক ক্লান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পরই কার্যত লেবার পার্টির নেতৃত্ব দৌড় শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ডও। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান নেতা হিসেবে স্টারমার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারবেন, যদিও অন্যদের এমপিদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

দীর্ঘ নেতৃত্ব লড়াইয়ের আশঙ্কা

স্ট্রিটিং তার পদত্যাগপত্রে “ধারণার লড়াই” এবং “সেরা প্রার্থীদের প্রতিযোগিতা”র কথা বলেছেন। কিন্তু এতে দ্রুত সমাধানের বদলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিতই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস ধরে চলতে পারে এই অভ্যন্তরীণ লড়াই।

ব্রিটিশ জনগণের বড় অংশ ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত। কনজারভেটিভ শাসনের দীর্ঘ টালমাটাল সময়ের পর লেবার পার্টি স্থিতিশীলতা ও দক্ষ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এখন সেই দলই আবার অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে।

অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ

রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আবারও মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ অবস্থায় ব্রিটেনের জাতীয় ঋণ ইতোমধ্যেই জিডিপির ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির ঋণ ব্যবস্থাপনাও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব সংকট বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল করবে এবং সরকারি বন্ডের সুদ বাড়িয়ে দিতে পারে।

British Prime Minister Keir Starmer faces Labour Party leadership challenge  | Pittsburgh Post-Gazette

স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমছে

লেবার পার্টির ভেতরেও স্টারমারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফল তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে। এর পরপরই লেবারের সঙ্গে যুক্ত ১১টি ট্রেড ইউনিয়ন প্রকাশ্যে স্টারমারকে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগেই সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।

সমালোচকদের মতে, স্টারমার চাইলে দলকে সংঘাত থেকে বাঁচিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত না দেওয়ায় দলীয় বিভাজন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সংশয়

ওয়েস স্ট্রিটিংকে তুলনামূলকভাবে বাজারবান্ধব ও মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে দেখা হলেও, লেবারের বামঘেঁষা অংশের কাছে সেটিই তার দুর্বলতা। অন্যদিকে এড মিলিব্যান্ড অতীতে নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বলেই সমালোচনা রয়েছে।

অ্যাঞ্জেলা রেইনারের আর্থিক সিদ্ধান্ত ও কর-সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যামও নিশ্চিত সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে, বিশেষ করে রিফর্ম ইউকের উত্থানের কারণে।

ভোটারদের আস্থা নিয়ে শঙ্কা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবার পার্টি এখন এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় নেমেছে, যা সাধারণ ভোটারদের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যে দল দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল শাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই দলই এখন ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে ব্যস্ত।

এ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে শুধু লেবার পার্টিই নয়, পুরো ব্রিটেনকে তার মূল্য দিতে হতে পারে।

স্টারমারের নেতৃত্ব যুদ্ধ

লেবার পার্টির নেতৃত্ব সংকট ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে ব্রিটেন।