বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমজাদ খান মৃত্যুর পরও রেখে গিয়েছিলেন সম্মান আর নীতির এক বিরল উদাহরণ। ‘শোলে’ ছবির গব্বর সিং চরিত্রে অমর হয়ে থাকা এই অভিনেতার পরিবারকে বহু প্রযোজক ও নির্মাতা বিপুল অঙ্কের টাকা পরিশোধ করেননি বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে শাদাব খান। তবে সেই টাকা আদায়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সহায়তার প্রস্তাবও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছিলেন অমজাদ খানের স্ত্রী শাইলা খান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাদাব খান জানান, তাঁর বাবার প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ রুপি পাওনা ছিল চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত প্রযোজক ও নির্মাতার কাছে। তিনি বলেন, অমজাদ খান জীবদ্দশায় অনেকের বকেয়া ক্ষমা করে দিলেও যাঁদের সামর্থ্য ছিল, তাঁদের কাছ থেকে ওই অর্থ আর ফেরত আসেনি।
শাদাবের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময়ের হিসেবে এই অর্থ দিয়ে মুম্বাইয়ের অভিজাত পালি হিল এলাকায় তিন থেকে চারটি ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব ছিল। কিন্তু অর্থ ফেরত চাওয়ার বদলে তাঁর মা বিষয়টিকে আত্মসম্মান ও নীতির প্রশ্ন হিসেবে দেখেছিলেন।
‘ঈশ্বর আমাদের দেখবেন’
শাদাব বলেন, তাঁর মা সবসময় বিশ্বাস করতেন যে সম্মান বিসর্জন দিয়ে টাকা আদায় করা উচিত নয়। তিনি স্মরণ করেন, শাইলা খান বলেছিলেন, “ঈশ্বর আমাদের দেখবেন।” সেই বিশ্বাস থেকেই পরিবারটি কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করার পথে হাঁটেনি।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব
সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক ব্যক্তির ফোন কল নিয়ে শাদাবের বক্তব্য। তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর কয়েক মাস পর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, অমজাদ খানের পাওনা টাকা তিন দিনের মধ্যেই আদায় করে তাঁদের দরজায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
শাদাব বলেন, ফোনটি তিনি নিজেই রিসিভ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। শাইলা খান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর স্বামী কখনও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাহায্য নেননি এবং তিনি নিজেও সেই পথ অনুসরণ করতে চান না।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অমজাদ খানের পরিবারের নীতিগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এমন কোনো সহায়তা গ্রহণ করেননি, যা তাঁদের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বলিউডে অমজাদ খানের উত্তরাধিকার
দুই দশকের ক্যারিয়ারে অমজাদ খান ১৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে ১৯৭৫ সালের ‘শোলে’ ছবিতে গব্বর সিং চরিত্রই তাঁকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা এনে দেয়। তাঁর সংলাপ, অভিনয়ভঙ্গি এবং উপস্থিতি আজও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়।
মাত্র ৫১ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর পরিবারকে ঘিরে উঠে আসা এই নতুন তথ্য আবারও মনে করিয়ে দিল, পর্দার বাইরে তাঁর জীবনও ছিল সম্মান, নীতি এবং আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















