সিঙ্গাপুরের চারটি জনপ্রিয় ভেজা বাজার আবারও সরকারি আবাসন উন্নয়ন বোর্ড এইচডিবির নিয়ন্ত্রণে ফিরতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩০ বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার পর বাজারগুলোর লিজ শেষ হলে সেগুলো সংস্কার করে নতুনভাবে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক বাজার পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যে চারটি বাজার এই পরিবর্তনের আওতায় আসছে সেগুলো হলো ফাজার শপিং সেন্টার, ইউ টি স্কয়ার, বুকিত বাতোক ওয়েস্ট শপিং সেন্টার এবং উডল্যান্ডস নর্থ প্লাজার বাজার। এসব বাজারের লিজ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে।
নতুন অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে কিয়াট হং এবং সেরাঙ্গুনের ভেজা বাজার এইচডিবির হাতে ফিরে যাওয়ার পর সেগুলো সংস্কার করা হয় এবং নতুন ব্যবস্থাপনায় চালু করা হয়। সংস্কারের পর বাজারগুলোতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত আলো, খাবারের জায়গা এবং কমিউনিটি স্পেস যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের জন্য এটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
সেরাঙ্গুনের বাজার পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বাজারগুলোকে শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ ও কমিউনিটির অংশ হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। তরুণদের জন্য পড়াশোনা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের সুযোগও রাখা হয়েছে।
বেসরকারি মালিকানার অধ্যায়ের সমাপ্তি
২০০৯ সালে এসব বাজার নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যখন একটি সুপারমার্কেট চেইন বাজারগুলো কিনে সেগুলোকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে রূপান্তরের পরিকল্পনা করে। তখন অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ঐতিহ্যবাহী ভেজা বাজার ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। পরে সরকারি হস্তক্ষেপে বাজারগুলোর মূল চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার শর্ত আরোপ করা হয়।
এখন লিজ শেষ হওয়ার মাধ্যমে এইচডিবি পরিচালিত ভেজা বাজারের বেসরকারি মালিকানার অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। বর্তমানে আরও ১৩টি বাজার বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সংস্কারের পর কিছু ব্যবসায়ী ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বললেও কেউ কেউ বিক্রি কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সেরাঙ্গুনের এক মাংস বিক্রেতা জানান, নতুন পরিবেশ ভালো হলেও অনেক ক্রেতা তুলনামূলক কম দামের বাজারে চলে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী মনে করেন, পরিচ্ছন্নতা ও নতুন খাবারের জায়গা বাড়তি ক্রেতা টানতে সাহায্য করছে।
উডল্যান্ডস নর্থের এক দোকান মালিক আশা প্রকাশ করেছেন, এইচডিবির নিয়ন্ত্রণে গেলে ভবিষ্যতে ভাড়ার চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, তখন পণ্যের ধরন ও দোকান পরিচালনায় নিয়ম আরও কঠোর হতে পারে।
ভাড়া ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম
এইচডিবি জানিয়েছে, লিজ শেষ হওয়ার পর বাজার মালিকদের এক বছরের অন্তর্বর্তী ভাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে যাতে সেবা চালু থাকে। পাশাপাশি বর্তমান দোকানদারদের আগের ভাড়ায় অন্তত তিন বছর ব্যবসা চালানোর সুযোগ রাখা হবে। নতুন ব্যবস্থাপনায় বাজার পরিচালনার দায়িত্ব মাস্টার টেন্যান্টদের হাতে দেওয়া হবে, যারা বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















