কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বদলে দিচ্ছে বৈশ্বিক কর্মবাজার। এই পরিবর্তনের সময়ে ভয় না পেয়ে কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জন ও প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির শ্রম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী কোহ পোহ কুন বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের কর্মীদের মতো সব খাতের কর্মীদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিনিয়ত নতুন ওষুধ, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও চিকিৎসাপদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেন। তারা নতুন প্রযুক্তিকে চাকরির হুমকি হিসেবে দেখেন না, বরং কাজের স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবেই গ্রহণ করেন। একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও ভয় না পেয়ে কাজে লাগানোর মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
মানবিক বুদ্ধির গুরুত্ব
কোহ পোহ কুন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই উন্নত হোক, মানবিক বিচারবোধ ও অভিজ্ঞতার বিকল্প হতে পারবে না। স্বয়ংক্রিয় যানবাহন কিংবা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের কর্মপরিবেশে শিক্ষা ও কাজকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাস্তবমুখী দক্ষতা শেখাতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে কর্মীদের প্রস্তুত করতে হবে।
কর্মীদের মানসিকতায় পরিবর্তনের আহ্বান
সম্মেলনের আরেক আলোচনায় অংশ নিয়ে একাধিক করপোরেট নেতা দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
এক বক্তা বলেন, অনেক কর্মী এখনও এমন মানসিকতায় কাজ করেন যেখানে মনে করা হয় নিয়ম মেনে কাজ করলেই ফল নিশ্চিত হবে। কিন্তু বর্তমান অনিশ্চিত পরিবেশে আরও নমনীয় ও অভিযোজনক্ষম হতে হবে। পরিস্থিতি বদলালে দ্রুত নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার দক্ষতাই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি।
ব্যবসায় টিকে থাকতে বৈচিত্র্যের ওপর জোর
আলোচনায় সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী লো ইয়েন লিং বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজার, অংশীদার ও সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে হবে। এতে ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে এবং নতুন সুযোগ তৈরি হলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বিদেশি বাজারে সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন অনুদান ও সহায়তা কর্মসূচি চালু রেখেছে। নতুন বাজারে প্রবেশে বড় বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগাভাগি করতেও সরকার কাজ করছে।
কর্মীদের জন্য “ক্যারিয়ার সেতু” প্রয়োজন
সম্মেলনে আরও বলা হয়, শিল্পখাতে পুনর্গঠন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের এক খাত থেকে অন্য খাতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। চাকরি হারালেও যেন তারা সম্মান নিয়ে আবার কর্মজীবনে ফিরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন বক্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে একবার শেখা দক্ষতার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শেখার অভ্যাসই কর্মীদের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হয়ে উঠবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















