চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শি-ট্রাম্প বৈঠকে। দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বৈঠকের শুরুতেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার” হিসেবে এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই নেতার সম্পর্ককে “চমৎকার” বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে “অপেক্ষা করুন” বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি বলেন, “চীন দারুণ সুন্দর।”
দুই পরাশক্তির সম্পর্কে সতর্ক ইতিবাচকতা
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক হলেও অত্যন্ত সতর্ক। বেইজিংয়ের ছিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশল কেন্দ্রের গবেষক সান চেংহাও বলেন, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য সম্পর্ককে পুরোপুরি নতুনভাবে শুরু করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার মধ্যেও একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, তাইওয়ান ইস্যু ও কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় এবারের বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের সফরে বড় করপোরেট প্রতিনিধিদল
ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৩ মে সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছান। তাকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। সফরের শেষ দিনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার চা বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজের কথা রয়েছে।
এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় চীন সফর। এর আগে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি প্রথমবার চীন সফর করেছিলেন। চলতি সফরটি মূলত মার্চের শেষ দিকে হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের কারণে সফর পিছিয়ে যায়।
এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহীও রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, টেসলার ইলন মাস্ক, অ্যাপলের টিম কুক এবং বোয়িংয়ের কেলি অর্টবার্গ।
বাণিজ্য ইস্যুতে বাড়ছে প্রত্যাশা
বিশ্লেষকদের একটি অংশ আশা করছে, সফরের শেষ দিনে দুই দেশ বাণিজ্য সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারে। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শির বৈঠকে উভয় পক্ষ এক বছরের জন্য তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল।
সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের জবাবে চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিল। ফলে এবারের বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
চীনের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান
বিশ্লেষক হান শেন লিনের মতে, এবারের শীর্ষ বৈঠক চীনকে একটি আত্মবিশ্বাসী বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, এখন চীনকে আর চাপের মুখে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে একই ধরনের উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়া কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন কংগ্রেস, বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক চাপের বিষয়গুলো তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















