০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
এইচডিবির নিয়ন্ত্রণে ফিরছে চার ভেজা বাজার, বদলে যাবে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় কেনাকাটার অভিজ্ঞতা ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বৈঠক, আধুনিক ট্র্যাফিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরে নতুন স্পেস ল্যাব, মহাকাশ প্রযুক্তিকে সাধারণ ব্যবসায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ আফ্রিকান কোম্পানি কিনে নিল বাংলাদেশের বিক্রয়.কম মে মাসের ১৩ দিনেই রেমিট্যান্স ১৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল পরীক্ষার হল যখন তাপদাহের কারাগার চীনের ওপর নির্ভরতা কমছে, নাকি নতুন রূপে আরও গভীর হচ্ছে? ব্রিকসের শক্তি ঐক্যে নয়, বরং অস্বস্তিতে হোটেল সেবায় প্রযুক্তির বাড়তি ব্যবহার, কিন্তু হারাচ্ছে মানবিক স্পর্শ ইন্দোনেশিয়ায় দুর্নীতি মামলার আতঙ্ক, মেধাবীরা কি সরকারি চাকরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন?

চীন সফরে ট্রাম্পকে ঘিরে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে কূটনৈতিক সমঝোতার আশঙ্কা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে বেইজিং সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক মহল, বিশ্লেষক এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উদ্বেগ। অনেকের আশঙ্কা, উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টায় ট্রাম্প এমন কিছু কৌশলগত ছাড় দিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষ করে তাইওয়ান, প্রযুক্তি সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান কতটা নমনীয় হতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং এই সফরকে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে বড় ধরনের সমঝোতা করতে আগ্রহী। তাঁদের মতে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি চীনের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্প-শি বৈঠকে ছায়া ফেলেছে ইরান যুদ্ধ, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের জোট  রাজনীতি

বিশ্লেষকদের ভাষায়, চীন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক চাপ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তাদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। বিরল খনিজের বাজারে চীনের আধিপত্যও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একটি বড় চাপ হিসেবে কাজ করছে।

মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসত, তখন জাপানসহ মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ ও স্বার্থও আলোচনায় স্থান পেত। এতে মিত্রদের মধ্যে আস্থা তৈরি হতো যে ওয়াশিংটন তাদের পাশে রয়েছে। কিন্তু এবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

এই সফরে ট্রাম্প কেবল চীনের সঙ্গেই বৈঠক করছেন। এর আগে মিত্র দেশগুলো সফরসূচিতে না থাকা অনেকের কাছে নতুন বার্তা বহন করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত জোট রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

Trump-Xi summit comes with high stakes for Taiwan, the island democracy  that China claims as its own :: WRAL.com

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও চীন নীতি নিয়ে মতভেদ দেখা যাচ্ছে। একদল মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত চীনা অর্থনীতি এবং বেসরকারি খাতনির্ভর মার্কিন অর্থনীতি একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সমানভাবে চলতে পারে না।

আবার অন্য একদল বিশ্লেষক বলছেন, ট্রাম্প ও শি উভয়েই বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন না। তাই দুই নেতা হয়তো নতুন ধরনের বৈশ্বিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন।

স্থিতিশীলতা নাকি প্রভাব বিস্তার

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই ‘স্থিতিশীলতা’ শব্দটি ব্যবহার করলেও দুই দেশের উদ্দেশ্য এক নয়। ওয়াশিংটনের কাছে স্থিতিশীলতা মানে সংঘাত এড়িয়ে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর সময় তৈরি করা। অন্যদিকে বেইজিংয়ের কাছে স্থিতিশীলতা হলো ইতোমধ্যে অর্জিত বৈশ্বিক প্রভাব আরও মজবুত করার সুযোগ।

এই বাস্তবতায় ট্রাম্প-শি বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তাও।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচডিবির নিয়ন্ত্রণে ফিরছে চার ভেজা বাজার, বদলে যাবে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় কেনাকাটার অভিজ্ঞতা

চীন সফরে ট্রাম্পকে ঘিরে উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে কূটনৈতিক সমঝোতার আশঙ্কা

০৪:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে বেইজিং সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক মহল, বিশ্লেষক এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উদ্বেগ। অনেকের আশঙ্কা, উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টায় ট্রাম্প এমন কিছু কৌশলগত ছাড় দিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষ করে তাইওয়ান, প্রযুক্তি সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান কতটা নমনীয় হতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং এই সফরকে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে বড় ধরনের সমঝোতা করতে আগ্রহী। তাঁদের মতে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি চীনের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্প-শি বৈঠকে ছায়া ফেলেছে ইরান যুদ্ধ, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের জোট  রাজনীতি

বিশ্লেষকদের ভাষায়, চীন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা এবং শুল্ক চাপ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তাদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। বিরল খনিজের বাজারে চীনের আধিপত্যও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একটি বড় চাপ হিসেবে কাজ করছে।

মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসত, তখন জাপানসহ মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ ও স্বার্থও আলোচনায় স্থান পেত। এতে মিত্রদের মধ্যে আস্থা তৈরি হতো যে ওয়াশিংটন তাদের পাশে রয়েছে। কিন্তু এবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে।

এই সফরে ট্রাম্প কেবল চীনের সঙ্গেই বৈঠক করছেন। এর আগে মিত্র দেশগুলো সফরসূচিতে না থাকা অনেকের কাছে নতুন বার্তা বহন করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত জোট রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

Trump-Xi summit comes with high stakes for Taiwan, the island democracy  that China claims as its own :: WRAL.com

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও চীন নীতি নিয়ে মতভেদ দেখা যাচ্ছে। একদল মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত চীনা অর্থনীতি এবং বেসরকারি খাতনির্ভর মার্কিন অর্থনীতি একসঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সমানভাবে চলতে পারে না।

আবার অন্য একদল বিশ্লেষক বলছেন, ট্রাম্প ও শি উভয়েই বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন না। তাই দুই নেতা হয়তো নতুন ধরনের বৈশ্বিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন।

স্থিতিশীলতা নাকি প্রভাব বিস্তার

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই ‘স্থিতিশীলতা’ শব্দটি ব্যবহার করলেও দুই দেশের উদ্দেশ্য এক নয়। ওয়াশিংটনের কাছে স্থিতিশীলতা মানে সংঘাত এড়িয়ে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর সময় তৈরি করা। অন্যদিকে বেইজিংয়ের কাছে স্থিতিশীলতা হলো ইতোমধ্যে অর্জিত বৈশ্বিক প্রভাব আরও মজবুত করার সুযোগ।

এই বাস্তবতায় ট্রাম্প-শি বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তাও।