আবুধাবিতে এক হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাতে এমিরাতি সমাজের সংহতি, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং জাতি গঠনের মূল্যবোধের কথা নতুন করে সামনে আনলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। শনিবার নিজ বাসভবনে শেখ মোহাম্মদ বিন বুতি আল হামেদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্মের অবদানই আজকের শক্তিশালী আমিরাত গড়ে তুলেছে এবং এই মূল্যবোধ ভবিষ্যতেও জাতির পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।
প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্মের অবদান
সাক্ষাৎকালে দুই নেতার আলোচনায় উঠে আসে জাতি গঠনে প্রতিষ্ঠাতা প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাঁরা বলেন, জনগণের সেবায় তাঁদের ত্যাগ ও দূরদর্শিতা আজও আমিরাতি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। এই প্রজন্মের আদর্শ থেকেই সংহতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা দেশের সামাজিক শক্তির মূল ভিত্তি। আলোচনার শেষে তাঁরা দেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেনশিয়াল কোর্টের বিশেষ বিষয়ক উপচেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা শেখ মোহাম্মদ বিন হামাদ বিন তাহনুন আল নাহিয়ানসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
কমিউনিটি পরিচালিত ভার্চুয়াল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ
সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে একটি নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দক্ষ নাগরিকদের হাতে একটি কর্তৃপক্ষের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরিচালক ও দল গঠন করা হবে, যারা দেশের মানুষের জন্য বাস্তব ও টেকসই সুফল বয়ে আনবে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে।
এই ব্যবস্থায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে বদলানো হবে, যাতে নতুন চিন্তা ও অভিজ্ঞতার প্রবাহ অব্যাহত থাকে। এতে একদিকে যৌথ দায়িত্ববোধ জোরদার হবে, অন্যদিকে সমাজভিত্তিক নেতৃত্বের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে।

মানুষকেন্দ্রিক শাসন ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টি
এই নতুন কর্তৃপক্ষ এমন একটি শাসন মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে মানব উন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কেন্দ্রে থাকবে। বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, তরুণ, উদ্যোক্তা ও অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, যাতে প্রজন্মগত অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটে এবং বৈচিত্র্যই জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
এর কাজ হবে সমাজের চাহিদা ও প্রত্যাশা থেকে সরাসরি নেওয়া ধারণার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ ও কর্মসূচি তৈরি করা। সামাজিক সংহতি জোরদার করা, জীবনমান উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। স্পষ্ট নীতিমালা, ধাপে ধাপে কর্মপরিকল্পনা এবং জ্ঞান হস্তান্তরের ব্যবস্থার মাধ্যমে এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
এই উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে মানুষের সম্ভাবনা বিকাশ, উদ্ভাবনের সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎমুখী শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















