ম্যানিলায় অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর জেনারেল রোমিও পোকুইজকে রাষ্ট্রদ্রোহে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘আইনের শাসনের’ অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে আর্মড ফোর্সেস অব দ্য ফিলিপিন্স। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবিধান ও প্রচলিত আইনের আওতায় থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এতে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পটভূমি
সোমবার ব্যাংকক থেকে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরার সময় ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আটক হন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রোমিও পোকুইজ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি প্রকাশ্যে সেনাপ্রধানকে আহ্বান জানান যেন তিনি প্রেসিডেন্টের প্রতি সেনাবাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহার করেন। একই ভিডিওতে তিনি রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে গুরুতর ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

সেনাবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান
ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী জানায়, কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সক্রিয় সামরিক নেতৃত্বকে প্রভাবিত করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেনাবাহিনীর মতে, তারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে কেবল সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চাপ
এই ঘটনার পেছনে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বর্তমানে কয়েক শ কোটি পেসো ব্যয়ের বিতর্কিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে রয়েছেন। এসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়েছে এবং সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।

স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ
সেনাবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, কিছু অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সক্রিয় কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আইনের শাসনের বার্তা
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রোমিও পোকুইজের গ্রেপ্তার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল নয়। এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি উদাহরণ, যেখানে রাষ্ট্রদ্রোহে উসকানির মতো অভিযোগ উঠলে আইন তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই কার্যকর হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















