ব্যস্ততার চাপ এমন যে দৈনন্দিন সময়সূচি দেখলে বিশ্বনেতারাও আঁতকে উঠতে পারেন। কিন্তু সুখবর হলো, প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটের জোরালো শরীরচর্চাই বড় পরিবর্তন আনতে পারে স্বাস্থ্যে। যুক্তরাজ্যের Women’s Health সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত জিম বা পরিকল্পিত ব্যায়াম না করলেও দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।
গবেষণায় কী দেখা গেছে
পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় তিন হাজার তিনশ মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা নিজেদের কখনোই নিয়মিত ব্যায়াম করেন না বলে জানিয়েছেন, তাঁরাও দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছেন। খাড়া ঢাল বেয়ে হাঁটা, ভারী ব্যাগ বহন করা বা শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলার মতো স্বাভাবিক কাজই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে University of Sydney।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে এক দশমিক এক মিনিট হৃদস্পন্দন বাড়ায় এমন জোরালো নড়াচড়া পরবর্তী ছয় বছরে যেকোনো কারণে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা, এই সময়টুকু একটানা হওয়া জরুরি নয়। পাঁচ বা ছয়টি দশ সেকেন্ডের ছোট ছোট ধাপেও একই সুফল মিলেছে।

হৃদযন্ত্রের জন্য বড় সুফল
এর আগেও বিজ্ঞানীরা স্বল্প সময়ের তীব্র নড়াচড়ার উপকারিতা তুলে ধরেছেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা যদি প্রতিদিন মাত্র তিন দশমিক চার মিনিট জোরে নড়াচড়া করেন, তবে তাঁদের স্ট্রোকের মতো হৃদরোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি প্রায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশ কমে। একই সঙ্গে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়ার আশঙ্কা কমে যায় প্রায় সাতষট্টি শতাংশ।

প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা NHS প্রতি সপ্তাহে অন্তত দেড়শ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক নড়াচড়ার পরামর্শ দেয়। তবে বাস্তব জীবনে সময় বের করা কঠিন হলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ প্রতিটি অতিরিক্ত মিনিটই শরীরের জন্য লাভজনক। ব্যস্ত দিনের ফাঁকে এক মিনিটের জোরালো নড়াচড়া দিয়েই শুরু হতে পারে সুস্থ জীবনের পথচলা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















