বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশের বাইরে গিয়ে ‘মন্ত্রীর মর্যাদা’ চাওয়ার বিষয়টি চিঠিতে যুক্ত করেছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মাহমুদুল হাসান। এ ঘটনায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডা. মাহমুদুল হাসানকে। কিন্তু সেই চিঠিতে তিনি এমন কিছু বিষয় যুক্ত করেন যা দলের আমিরের নির্দেশনায় ছিল না। বিশেষ করে ‘মন্ত্রীর মর্যাদা’ সম্পর্কিত অংশটি দলের আমিরের নির্দেশনার মধ্যে ছিল না।

নির্দেশনার বাইরে যাওয়ায় ব্যবস্থা
বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি দলের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত ২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. মাহমুদুল হাসানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মির আহমদ বিন কাসেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা, বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এলেও এটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় দলটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কোনো বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি তৈরি হলে দ্রুত তা সংশোধন করাই দলের নীতি।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই।
চিঠি নিয়ে যে বিতর্ক
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার জন্য মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছিল।
ওই চিঠিতে উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও খবর প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে দলটির পক্ষ থেকে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















