বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভ্যাপ ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, ধূমপানের ক্ষতি কমানো বা তামাক ছাড়ার বিকল্প হিসেবে অনেকেই এই পণ্য ব্যবহার করছেন। এ অবস্থায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫–এ ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেমস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন।
ভ্যাপ নিষিদ্ধের প্রস্তাবকে নীতিগত বৈষম্য বলছে ব্যবসায়ীরা
সংগঠনটির সভাপতি সুমন জামান বলেন, ভ্যাপ পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা একটি নীতিগত বৈষম্য তৈরি করছে। তার মতে, ধূমপানের বিকল্প হিসেবে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভ্যাপ ব্যবহার করছেন। ফলে এ ধরনের পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আগে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির নেতারা জানান, বর্তমানে এই বিষয়টি উচ্চ আদালতে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। আদালত ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণে বলেছেন, অধ্যাদেশের ৬(গ) ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পাশাপাশি বৈধভাবে আমদানি করা ভ্যাপ পণ্য জব্দ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা দিলে কালোবাজার বাড়ার আশঙ্কা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বাজার দ্রুত কালোবাজারের দিকে চলে যেতে পারে। তখন নিম্নমানের পণ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং কিশোরদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব পণ্যের নাগাল পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এতে শেষ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তাদের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই ধরনের পণ্যকে সরাসরি নিষিদ্ধ না করে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করছে। তাই বাংলাদেশেও বাস্তবসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক নীতিমালা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অর্থনীতিতেও পড়তে পারে প্রভাব
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এই খাতে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ছয়শোর বেশি চেইন দোকান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, ব্যাংক ঋণ, ব্যবসায়িক দায় এবং কর্মচারীদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
স্বাস্থ্যনীতির উদাহরণ তুলে ধরলেন বক্তারা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির ২৬ নম্বর দফায় যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আদলে স্বাস্থ্যনীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য কৌশলে ধূমপানের ক্ষতি কমানো, ধূমপান ত্যাগে সহায়তা এবং বিকল্প হিসেবে ভ্যাপ ব্যবহারের মতো প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ভ্যাপ পণ্যের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো তৈরি করা বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















