খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় নিজের বাড়ির রান্নাঘর থেকে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বড়বিল এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত নারী রামরা মারমা, বয়স একচল্লিশ। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের মা।
মেয়ের চোখে ধরা পড়ে মায়ের মরদেহ
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের খাবার শেষে রামরা মারমা ও তার মেয়ে অনুমা মারমা নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। অনুমা স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন তার মা ঘরে নেই।
মাকে খুঁজতে গিয়ে তিনি বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে দেখেন একটি খাটের ওপর কম্বল দিয়ে ঢাকা অবস্থায় কেউ শুয়ে আছে। কম্বল সরিয়ে দেখেন সেটি তার মায়ের নিথর দেহ। মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্নসহ শরীর রক্তে ভেজা ছিল। এ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মানুষ দ্রুত সেখানে জড়ো হন।

হত্যার সন্দেহ পুলিশের
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মানিকছড়ি থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন জানান, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
সংগ্রাম করে সন্তানদের বড় করছিলেন
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর রামরা মারমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। তার একমাত্র মেয়ে তার সঙ্গেই থাকতেন। দুই ছেলে কাজের কারণে অন্য জায়গায় থাকতেন এবং আরেক ছেলে ঘটনার রাতে কাছের একটি বৌদ্ধ বিহারে ছিল।
এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















