ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর মাত্র ১১ দিনের মধ্যে ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। একই সময়ে ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন সাতজন মার্কিন সেনাসদস্য।
যুদ্ধের শুরু থেকে হতাহত পরিস্থিতি
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ১১ দিনে মার্কিন সেনাদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন মোট ১৪০ জন সেনাসদস্য।
তবে আহতদের বেশিরভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। মোট আহতদের মধ্যে ১০৮ জন আবার সক্রিয় দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

গুরুতর আহত সেনাদের অবস্থা
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, আহতদের বেশিরভাগের চোট তুলনামূলকভাবে হালকা। তবে আটজন সেনা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই গুরুতর আহত সেনাদের উন্নত চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সার্জেন্ট বেঞ্জামিন পেনিংটনের মৃত্যু
রবিবার পেন্টাগন জানায়, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সপ্তম মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। পরে সোমবার তাকে শনাক্ত করা হয়। নিহত সেনা হলেন ২৬ বছর বয়সী আর্মি সার্জেন্ট বেঞ্জামিন পেনিংটন, যিনি কেন্টাকির গ্লেনডেল এলাকার বাসিন্দা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, গত ১ মার্চ সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
সার্জেন্ট পেনিংটনের সামরিক দায়িত্ব
সার্জেন্ট পেনিংটন গত জুন মাসে স্পেস ব্যাটালিয়নে যোগ দেন। তিনি কলোরাডোর ফোর্ট কারসন ঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রথম স্পেস ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন।
কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয় সেনার মৃত্যু
এর আগে শনিবার ডেলাওয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে এক শোকাবহ অনুষ্ঠানে যুদ্ধের প্রথম ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়।
এই ছয়জন আর্মি রিজার্ভ সেনা কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত হন। ওই হামলাটি যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘটিত হয়।
এই ঘটনাগুলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্রমবর্ধমান মানবিক ক্ষয়ক্ষতির দিকটি স্পষ্ট করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















