০৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আসল সংকট সীমান্তে, না অবিশ্বাসে? জ্বালানি সংকটে সংযমের আহ্বান মোদির, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর বিজয়ের উত্থান, কংগ্রেসের সংকট এবং ভারতের বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ জাহানারা ইমাম: এক মায়ের শোক থেকে জাতির বিবেক হয়ে ওঠার গল্প টিকের কামড়ে বাড়ছে ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়াচ্ছে ছয় বিপজ্জনক রোগ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: শ্রমিকদের হার, না কি শাসকশ্রেণির নৈতিক পরাজয়? মা: ভালোবাসার প্রথম ঠিকানা

হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন ও ইটনা উপজেলার হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। পানিতে তলিয়ে ধান নষ্ট হচ্ছে, আবার কেটে আনা ধান শুকানোর মতো রোদও মিলছে না। এর মধ্যে বাজারে ধানের দাম নেমে গেছে তলানিতে। কৃষকদের অভিযোগ, বেপারিরা ভেজা ধান কিনতে চায় না, আবার সরকারি গুদামেও নানা শর্ত দেখিয়ে ধান নেওয়া হচ্ছে না।

মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জপন দেবনাথ জানান, হাওরের তিনটি জমিতে ধান চাষ করতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে কাটা দেড় খানি জমির ধান এখন বিক্রি করতে গিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ধান ভেজা থাকায় ব্যবসায়ীরা নিতে চায় না, আবার সরকারি গুদামেও ধান জমা দেওয়া যাচ্ছে না। সংসার চালানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই তিনি বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করেছেন।

ঋণের বোঝা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

স্থানীয় আরেক কৃষক রবীন্দ্রনাথ দেবনাথও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান। তার ভাষায়, ধান বিক্রি না হলে মহাজনের ঋণ শোধ করতে গরু-বাছুর বিক্রি করতে হতে পারে। অনেক পরিবারই জীবিকার তাগিদে বছরের বড় সময় ফেনী ও কুমিল্লায় গিয়ে শ্রমের কাজ করেন। এবার ধান নিয়ে সংকট আরও বাড়িয়েছে সেই অনিশ্চয়তা।

ইটনা উপজেলার বরি বাড়ি গ্রামের কৃষক সৈকত আলী বলেন, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে অনেক কষ্টে ধান কেটে আনা হচ্ছে। কিন্তু শুকানোর জায়গা পানির নিচে থাকায় নতুন বিপদ তৈরি হয়েছে। রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না, আবার নদীর পানিও প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে হাওরের পানি দ্রুত নামার সম্ভাবনাও কমে গেছে।

দেখা মিলছে সূর্যের, মিলছে না 'কাঙ্ক্ষিত' ধান; হাওরে হাহাকার - Agri Sangbad

শ্রমিক সংকট ও যন্ত্র ব্যবহারে বাধা

মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি একরে গড়ে প্রায় ৬০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে পানির কারণে আধুনিক যন্ত্র দিয়েও ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের দাবি, প্রতি একরে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। অথচ বর্তমানে ভেজা ধান মণপ্রতি মাত্র ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

সরকারি গুদামে জটিলতা

সরকারি ক্রয়মূল্য মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কৃষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে আর্দ্রতার মাত্রা ও ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হয়।

মিঠামইন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ধানে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের ধানে ২০ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২৭ টন ধান কেনা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আগামী সপ্তাহ থেকে আরও ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে ধান ক্রয় সংগঠনের সভাপতি দুর্বাজ মিয়া বলেন, ভেজা ধান কম দামে কিনতে হচ্ছে কারণ ভালো মানের না হলে আড়তদার ও চালকল মালিকরা তা নিতে চান না। তার দাবি, বাজারে ভালো ধানের চাহিদা থাকলেও ভেজা ধানের দাম স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের আশঙ্কা, আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে এবার মৌসুম শেষে অনেক পরিবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা

০৮:২৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন ও ইটনা উপজেলার হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। পানিতে তলিয়ে ধান নষ্ট হচ্ছে, আবার কেটে আনা ধান শুকানোর মতো রোদও মিলছে না। এর মধ্যে বাজারে ধানের দাম নেমে গেছে তলানিতে। কৃষকদের অভিযোগ, বেপারিরা ভেজা ধান কিনতে চায় না, আবার সরকারি গুদামেও নানা শর্ত দেখিয়ে ধান নেওয়া হচ্ছে না।

মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জপন দেবনাথ জানান, হাওরের তিনটি জমিতে ধান চাষ করতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে কাটা দেড় খানি জমির ধান এখন বিক্রি করতে গিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ধান ভেজা থাকায় ব্যবসায়ীরা নিতে চায় না, আবার সরকারি গুদামেও ধান জমা দেওয়া যাচ্ছে না। সংসার চালানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই তিনি বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করেছেন।

ঋণের বোঝা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

স্থানীয় আরেক কৃষক রবীন্দ্রনাথ দেবনাথও একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান। তার ভাষায়, ধান বিক্রি না হলে মহাজনের ঋণ শোধ করতে গরু-বাছুর বিক্রি করতে হতে পারে। অনেক পরিবারই জীবিকার তাগিদে বছরের বড় সময় ফেনী ও কুমিল্লায় গিয়ে শ্রমের কাজ করেন। এবার ধান নিয়ে সংকট আরও বাড়িয়েছে সেই অনিশ্চয়তা।

ইটনা উপজেলার বরি বাড়ি গ্রামের কৃষক সৈকত আলী বলেন, পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে অনেক কষ্টে ধান কেটে আনা হচ্ছে। কিন্তু শুকানোর জায়গা পানির নিচে থাকায় নতুন বিপদ তৈরি হয়েছে। রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না, আবার নদীর পানিও প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে হাওরের পানি দ্রুত নামার সম্ভাবনাও কমে গেছে।

দেখা মিলছে সূর্যের, মিলছে না 'কাঙ্ক্ষিত' ধান; হাওরে হাহাকার - Agri Sangbad

শ্রমিক সংকট ও যন্ত্র ব্যবহারে বাধা

মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি একরে গড়ে প্রায় ৬০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই ধান ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে পানির কারণে আধুনিক যন্ত্র দিয়েও ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের দাবি, প্রতি একরে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। অথচ বর্তমানে ভেজা ধান মণপ্রতি মাত্র ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

সরকারি গুদামে জটিলতা

সরকারি ক্রয়মূল্য মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কৃষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে আর্দ্রতার মাত্রা ও ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হয়।

মিঠামইন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ধানে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ আর্দ্রতা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের ধানে ২০ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২৭ টন ধান কেনা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আগামী সপ্তাহ থেকে আরও ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে ধান ক্রয় সংগঠনের সভাপতি দুর্বাজ মিয়া বলেন, ভেজা ধান কম দামে কিনতে হচ্ছে কারণ ভালো মানের না হলে আড়তদার ও চালকল মালিকরা তা নিতে চান না। তার দাবি, বাজারে ভালো ধানের চাহিদা থাকলেও ভেজা ধানের দাম স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের আশঙ্কা, আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে এবার মৌসুম শেষে অনেক পরিবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে।