০৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আসল সংকট সীমান্তে, না অবিশ্বাসে? জ্বালানি সংকটে সংযমের আহ্বান মোদির, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর বিজয়ের উত্থান, কংগ্রেসের সংকট এবং ভারতের বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ জাহানারা ইমাম: এক মায়ের শোক থেকে জাতির বিবেক হয়ে ওঠার গল্প টিকের কামড়ে বাড়ছে ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়াচ্ছে ছয় বিপজ্জনক রোগ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: শ্রমিকদের হার, না কি শাসকশ্রেণির নৈতিক পরাজয়? মা: ভালোবাসার প্রথম ঠিকানা

আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত একটি আঞ্চলিক তেল ভাগাভাগি কাঠামো কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিপাইনের সেবু দ্বীপে অনুষ্ঠিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে নেতারা জ্বালানি নিরাপত্তাকে এখন সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আমদানিনির্ভর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান আসিয়ান চেয়ার ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি স্বেচ্ছাভিত্তিক ও বাণিজ্যিক কাঠামোর তেল ভাগাভাগি চুক্তি দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এটি কার্যকর করতে এখনও অনেক কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি।

তিনি বলেন, কোন দেশ কত জ্বালানি পাবে, কীভাবে মূল্য পরিশোধ হবে, এটি বিনিময় পদ্ধতিতে হবে কি না—এসব প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে সংকটের সময় কোন দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটিও নির্ধারণ করা বাকি রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। যুদ্ধের আগে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

সম্মেলন শেষে আসিয়ান নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবিও জানানো হবে।

প্রায় ৭০ কোটি মানুষের আবাসস্থল এবং সম্মিলিতভাবে ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির এই জোটের জন্য জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাঘাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর একটি।

ASEAN summit ends with only a push to fast-track oil share pact | Reuters

সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ

দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এখনও দুর্বল। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্য এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভাব অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নকে ধীর করে দিয়েছে।

আসিয়ানের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প সরবরাহ উৎস ও নতুন পরিবহন রুট নিয়ে আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা সামনে আসেনি।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ দ্রুত কমবে না। তাই আসিয়ানকে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে।

দক্ষিণ চীন সাগরেও নতুন উদ্যোগ

সম্মেলনে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুও গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট মার্কোস জানান, ফিলিপাইন একটি আসিয়ান সামুদ্রিক কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত সমন্বয় ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে।

তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখার উদ্যোগ। প্রতিবছর প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে, যা ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি আসিয়ান দেশের সামুদ্রিক দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মিয়ানমার নিয়েও অচলাবস্থা

সম্মেলনে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কোস বলেন, দেশটির নতুন বেসামরিক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে আসিয়ানের মধ্যে “আবেগপূর্ণ ও প্রাণবন্ত” আলোচনা হয়েছে। তবে গৃহযুদ্ধ বন্ধে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের নেতৃত্বকে আসিয়ান সম্মেলন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং আঞ্চলিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কোসের ভাষায়, মিয়ানমার ইস্যুতে বর্তমান প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং এটি এগিয়ে নিতে নতুন পথ খুঁজতে হবে।

আসিয়ান তেল ভাগাভাগি চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের প্রভাবে আসিয়ান দ্রুত তেল ভাগাভাগি কাঠামো কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

০৮:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত একটি আঞ্চলিক তেল ভাগাভাগি কাঠামো কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিপাইনের সেবু দ্বীপে অনুষ্ঠিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে নেতারা জ্বালানি নিরাপত্তাকে এখন সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আমদানিনির্ভর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কার্যত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান আসিয়ান চেয়ার ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি স্বেচ্ছাভিত্তিক ও বাণিজ্যিক কাঠামোর তেল ভাগাভাগি চুক্তি দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এটি কার্যকর করতে এখনও অনেক কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি।

তিনি বলেন, কোন দেশ কত জ্বালানি পাবে, কীভাবে মূল্য পরিশোধ হবে, এটি বিনিময় পদ্ধতিতে হবে কি না—এসব প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে সংকটের সময় কোন দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটিও নির্ধারণ করা বাকি রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। যুদ্ধের আগে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

সম্মেলন শেষে আসিয়ান নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবিও জানানো হবে।

প্রায় ৭০ কোটি মানুষের আবাসস্থল এবং সম্মিলিতভাবে ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির এই জোটের জন্য জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাঘাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর একটি।

ASEAN summit ends with only a push to fast-track oil share pact | Reuters

সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ

দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এখনও দুর্বল। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্য এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অভাব অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নকে ধীর করে দিয়েছে।

আসিয়ানের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প সরবরাহ উৎস ও নতুন পরিবহন রুট নিয়ে আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা সামনে আসেনি।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ দ্রুত কমবে না। তাই আসিয়ানকে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে।

দক্ষিণ চীন সাগরেও নতুন উদ্যোগ

সম্মেলনে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুও গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট মার্কোস জানান, ফিলিপাইন একটি আসিয়ান সামুদ্রিক কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত সমন্বয় ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে।

তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখার উদ্যোগ। প্রতিবছর প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে, যা ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি আসিয়ান দেশের সামুদ্রিক দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মিয়ানমার নিয়েও অচলাবস্থা

সম্মেলনে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কোস বলেন, দেশটির নতুন বেসামরিক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে আসিয়ানের মধ্যে “আবেগপূর্ণ ও প্রাণবন্ত” আলোচনা হয়েছে। তবে গৃহযুদ্ধ বন্ধে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের নেতৃত্বকে আসিয়ান সম্মেলন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং আঞ্চলিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কোসের ভাষায়, মিয়ানমার ইস্যুতে বর্তমান প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং এটি এগিয়ে নিতে নতুন পথ খুঁজতে হবে।

আসিয়ান তেল ভাগাভাগি চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের প্রভাবে আসিয়ান দ্রুত তেল ভাগাভাগি কাঠামো কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।