০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আসল সংকট সীমান্তে, না অবিশ্বাসে? জ্বালানি সংকটে সংযমের আহ্বান মোদির, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর বিজয়ের উত্থান, কংগ্রেসের সংকট এবং ভারতের বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ জাহানারা ইমাম: এক মায়ের শোক থেকে জাতির বিবেক হয়ে ওঠার গল্প টিকের কামড়ে বাড়ছে ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়াচ্ছে ছয় বিপজ্জনক রোগ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: শ্রমিকদের হার, না কি শাসকশ্রেণির নৈতিক পরাজয়? মা: ভালোবাসার প্রথম ঠিকানা

রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের ব্যবসায়ীরা কর কমানো, নতুন পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ চালু এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘আমলাতান্ত্রিক হয়রানি’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং ব্যয় বৃদ্ধির চাপে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্প কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

রোববার ঢাকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এই দাবি তুলে ধরে। সংগঠনটি একই সঙ্গে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে, যার মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে ভ্যাট ও কর নির্ধারণ, লাইসেন্স ও অনুমোদনের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং নতুন গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

করের চাপ নিয়ে উদ্বেগ

সংগঠনের নেতারা জানান, আলোচনার মাধ্যমে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনা হলেও এখনো ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, উৎসে কর এবং অন্যান্য বিভিন্ন করের চাপ বহাল রয়েছে। তাদের দাবি, ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সেবার জন্য সমানভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করতে হবে এবং উৎসে কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, অতিরিক্ত করহার ব্যবসায়ীদের কর প্রদানে নিরুৎসাহিত করে এবং এতে কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়ে। তার মতে, করহার কমিয়ে করজালের পরিধি বাড়ানো হলে সরকার দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি রাজস্ব পাবে।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা থেকে এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রেস্তোরাঁ শিল্প। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খাতটির পরিচালন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও খাদ্যমূল্য

সংগঠনটির দাবি, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়। একই সঙ্গে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সংকটও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

রেস্তোরাঁ মালিকরা এলপিজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ চালুর আহ্বান জানান। তাদের মতে, এতে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং খাবারের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে ১০ দফা দাবি, লাইনের গ্যাস চালুর আহ্বান

লাইসেন্সে জটিলতা

সংবাদ সম্মেলনে রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়। সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে ১০ থেকে ১২ ধরনের অনুমোদন নিতে হয়, যা সম্পন্ন করতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

ইমরান হাসানের ভাষ্য, এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া অনেক ব্যবসায়ীকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মের বাইরে যেতে উৎসাহিত করছে। তাই তারা দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করার দাবি জানান।

আরও যেসব দাবি

সংগঠনটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে ট্রেড লাইসেন্স সেবা পুনরায় চালু করা, গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দিয়ে খরচ কমানো, খাতে ‘করপোরেট আগ্রাসন’ নিয়ন্ত্রণ এবং অদক্ষ কর্মীদের জন্য সরকারি সহায়তায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না এবং তারা কর ব্যবস্থার আওতায়ও নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি

০৮:৩১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের ব্যবসায়ীরা কর কমানো, নতুন পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ চালু এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘আমলাতান্ত্রিক হয়রানি’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং ব্যয় বৃদ্ধির চাপে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্প কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

রোববার ঢাকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এই দাবি তুলে ধরে। সংগঠনটি একই সঙ্গে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে, যার মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে ভ্যাট ও কর নির্ধারণ, লাইসেন্স ও অনুমোদনের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং নতুন গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

করের চাপ নিয়ে উদ্বেগ

সংগঠনের নেতারা জানান, আলোচনার মাধ্যমে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনা হলেও এখনো ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, উৎসে কর এবং অন্যান্য বিভিন্ন করের চাপ বহাল রয়েছে। তাদের দাবি, ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সেবার জন্য সমানভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণ করতে হবে এবং উৎসে কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, অতিরিক্ত করহার ব্যবসায়ীদের কর প্রদানে নিরুৎসাহিত করে এবং এতে কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়ে। তার মতে, করহার কমিয়ে করজালের পরিধি বাড়ানো হলে সরকার দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি রাজস্ব পাবে।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা থেকে এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রেস্তোরাঁ শিল্প। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি খাতটির পরিচালন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও খাদ্যমূল্য

সংগঠনটির দাবি, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়। একই সঙ্গে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সংকটও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

রেস্তোরাঁ মালিকরা এলপিজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন পাইপলাইন গ্যাস সংযোগ চালুর আহ্বান জানান। তাদের মতে, এতে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং খাবারের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে ১০ দফা দাবি, লাইনের গ্যাস চালুর আহ্বান

লাইসেন্সে জটিলতা

সংবাদ সম্মেলনে রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়। সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে ১০ থেকে ১২ ধরনের অনুমোদন নিতে হয়, যা সম্পন্ন করতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

ইমরান হাসানের ভাষ্য, এই দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া অনেক ব্যবসায়ীকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মের বাইরে যেতে উৎসাহিত করছে। তাই তারা দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করার দাবি জানান।

আরও যেসব দাবি

সংগঠনটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে ট্রেড লাইসেন্স সেবা পুনরায় চালু করা, গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দিয়ে খরচ কমানো, খাতে ‘করপোরেট আগ্রাসন’ নিয়ন্ত্রণ এবং অদক্ষ কর্মীদের জন্য সরকারি সহায়তায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না এবং তারা কর ব্যবস্থার আওতায়ও নেই।