০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
হলিউডের পর্দায় আমেরিকার ২৫০ বছরের গল্প: যে চলচ্চিত্রগুলো গড়ে তুলেছে একটি জাতির আত্মপরিচয় ইরানের দাবি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান চুক্তি ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ নিউইয়র্কের রাজনীতি, ইসরায়েল বিতর্ক ও নতুন নাগরিক অধিকার সংকট সিঙ্গাপুরের নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দ্রুত অভিযোজনের আহ্বান মার্কিন জাতীয় উদ্যানে মৃত্যু-দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশে নতুন বিধিনিষেধ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কি বদলে যাবে ইরানের অর্থনীতি? ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আমিরাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা শুধু খাবার নয়, মানুষকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নাম অ্যান্থনি বোর্দেইন ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জাতীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দিলেন চলচ্চিত্রকার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে

মা: ভালোবাসার প্রথম ঠিকানা

মানুষের জীবনের প্রথম শব্দগুলোর একটি “মা”। জন্মের আগে থেকে শুরু করে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে সম্পর্ক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ, নিরাপত্তা আর আশ্রয়ের প্রতীক হয়ে থাকে, সেটিই মাতৃত্ব। পৃথিবীর সব সম্পর্কের ভিড়ে মা এমন এক নাম, যার কাছে সন্তানের বয়স কখনো বড় হয়ে ওঠে না। তাই পৃথিবীর নানা দেশে নানা সময়ে পালিত হলেও “মা দিবস” আসলে প্রতিদিনের অনুভূতিরই এক বিশেষ প্রকাশ।

আজ বিশ্ব মা দিবস। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের এই দিনটি এখন বিশ্বজুড়ে এক আবেগঘন উপলক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজন—সবখানেই আজ মায়ের গল্প, মায়ের হাসি, মায়ের ত্যাগ আর মায়ের স্মৃতির উপস্থিতি।

মা দিবসের ইতিহাস

আধুনিক মা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ শতকের শুরুতে আনা জার্ভিস নামের এক নারী তার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি দিনের দাবি তোলেন। তার মা ছিলেন সমাজসেবী এবং মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে “মাদার্স ডে” হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশেও গত দুই দশকে মা দিবস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যদিও বাঙালি সংস্কৃতিতে মা শুধুই একটি দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন; তবু এই দিনটি অনেককে মায়ের প্রতি অনুভূতি প্রকাশের একটি উপলক্ষ এনে দেয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও মধুরতম ডাক 'মা'

মায়ের ভালোবাসা: ভাষার বাইরের অনুভূতি

মায়ের ভালোবাসাকে ব্যাখ্যা করা যায় না কোনো সংজ্ঞায়। সন্তানের ক্ষুধা, অসুস্থতা, ভয় কিংবা কষ্ট—সবকিছু মা বুঝে যান না বলা কথাতেই। জীবনের প্রতিটি বাঁকে মা হয়ে ওঠেন একজন শিক্ষক, একজন বন্ধু, একজন নির্ভরতার জায়গা।

একজন মা নিজের স্বপ্নকে আড়াল করে সন্তানের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করেন। মধ্যবিত্ত সংসারে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাতে নিজের শখ বিসর্জন দেওয়া মা যেমন আছেন, তেমনি দিনমজুর পরিবারের সেই মাও আছেন, যিনি না খেয়ে থেকেও সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে মায়ের ত্যাগের গল্প একই রকম গভীর।

বদলে যাওয়া সমাজে মায়ের ভূমিকা

সময়ের সঙ্গে সমাজ বদলেছে, পরিবার কাঠামো বদলেছে, বদলেছে মায়ের দায়িত্বের ধরনও। এখন অনেক মা একসঙ্গে সামলাচ্ছেন সংসার, সন্তান এবং পেশাগত জীবন। অফিসের ব্যস্ততা শেষে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের দেখভাল—সবকিছু সামলে চলা আধুনিক মায়েরা প্রতিদিন নতুন এক সংগ্রামের গল্প লিখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মজীবী মায়েরা আজ দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে প্রযুক্তি ও নগরজীবনের চাপে সন্তানদের সঙ্গে মানসিক দূরত্বও তৈরি হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। তাই শুধু মা দিবসে শুভেচ্ছা জানানো নয়, প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো, তার অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং মানসিক সহায়তা করাও জরুরি।

বৃদ্ধাশ্রমের নীরবতা

মা দিবসের আনন্দের মধ্যেও এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা রয়েছে। দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক মা-বাবা শেষ বয়সে সন্তানের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সঙ্গ ও যত্ন পান না। যেসব মা একসময় সন্তানের জন্য নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ আজ নিঃসঙ্গতায় দিন পার করছেন।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনযাপন এই সংকট বাড়াচ্ছে। মা দিবস তাই শুধু উদযাপনের দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনারও একটি সময়।

মাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দিন আজ | The Daily Adin

সাহিত্যে, সংগীতে ও সংস্কৃতিতে মা

বাংলা সাহিত্য, গান ও চলচ্চিত্রে মায়ের উপস্থিতি চিরন্তন। কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিক কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় মা এক অনিবার্য আবেগ। “মাগো, ভাবনা কেন” কিংবা “জনম জনম গেল আশাপথ চাহি”—এসব গানে মায়ের মমতা ও আকুলতার প্রতিফলন দেখা যায়।

গ্রামবাংলার লোরি, শহুরে সংসারের গল্প কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস—সবখানেই মায়ের ত্যাগ ও শক্তি অনন্যভাবে উঠে এসেছে।

মা দিবসে কী চায় একজন মা?

হয়তো খুব দামি উপহার নয়। একজন মা চান সন্তানের একটু সময়, আন্তরিকতা আর ভালোবাসা। অনেক মা-ই বলেন, সন্তানের একটি ফোনকল, একসঙ্গে বসে খাওয়া বা খোঁজ নেওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

এই ব্যস্ত সময়ে আমরা অনেকেই হয়তো মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় পাই না। অথচ মা অপেক্ষা করেন—সন্তানের কণ্ঠ শুনবেন বলে।

শেষ কথা

মা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানুষকে তার শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। মা আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয়, প্রথম ভালোবাসা। তাই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের আচরণে, যত্নে এবং ভালোবাসায় প্রকাশ করাই হোক সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

কারণ পৃথিবীতে অনেক শব্দের ভিড়ে “মা” এখনো সবচেয়ে নিরাপদ উচ্চারণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডের পর্দায় আমেরিকার ২৫০ বছরের গল্প: যে চলচ্চিত্রগুলো গড়ে তুলেছে একটি জাতির আত্মপরিচয়

মা: ভালোবাসার প্রথম ঠিকানা

০৭:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মানুষের জীবনের প্রথম শব্দগুলোর একটি “মা”। জন্মের আগে থেকে শুরু করে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে সম্পর্ক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ, নিরাপত্তা আর আশ্রয়ের প্রতীক হয়ে থাকে, সেটিই মাতৃত্ব। পৃথিবীর সব সম্পর্কের ভিড়ে মা এমন এক নাম, যার কাছে সন্তানের বয়স কখনো বড় হয়ে ওঠে না। তাই পৃথিবীর নানা দেশে নানা সময়ে পালিত হলেও “মা দিবস” আসলে প্রতিদিনের অনুভূতিরই এক বিশেষ প্রকাশ।

আজ বিশ্ব মা দিবস। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের এই দিনটি এখন বিশ্বজুড়ে এক আবেগঘন উপলক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজন—সবখানেই আজ মায়ের গল্প, মায়ের হাসি, মায়ের ত্যাগ আর মায়ের স্মৃতির উপস্থিতি।

মা দিবসের ইতিহাস

আধুনিক মা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ শতকের শুরুতে আনা জার্ভিস নামের এক নারী তার মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে বিশেষ একটি দিনের দাবি তোলেন। তার মা ছিলেন সমাজসেবী এবং মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে “মাদার্স ডে” হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশেও গত দুই দশকে মা দিবস ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যদিও বাঙালি সংস্কৃতিতে মা শুধুই একটি দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন; তবু এই দিনটি অনেককে মায়ের প্রতি অনুভূতি প্রকাশের একটি উপলক্ষ এনে দেয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ও মধুরতম ডাক 'মা'

মায়ের ভালোবাসা: ভাষার বাইরের অনুভূতি

মায়ের ভালোবাসাকে ব্যাখ্যা করা যায় না কোনো সংজ্ঞায়। সন্তানের ক্ষুধা, অসুস্থতা, ভয় কিংবা কষ্ট—সবকিছু মা বুঝে যান না বলা কথাতেই। জীবনের প্রতিটি বাঁকে মা হয়ে ওঠেন একজন শিক্ষক, একজন বন্ধু, একজন নির্ভরতার জায়গা।

একজন মা নিজের স্বপ্নকে আড়াল করে সন্তানের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করেন। মধ্যবিত্ত সংসারে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাতে নিজের শখ বিসর্জন দেওয়া মা যেমন আছেন, তেমনি দিনমজুর পরিবারের সেই মাও আছেন, যিনি না খেয়ে থেকেও সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে মায়ের ত্যাগের গল্প একই রকম গভীর।

বদলে যাওয়া সমাজে মায়ের ভূমিকা

সময়ের সঙ্গে সমাজ বদলেছে, পরিবার কাঠামো বদলেছে, বদলেছে মায়ের দায়িত্বের ধরনও। এখন অনেক মা একসঙ্গে সামলাচ্ছেন সংসার, সন্তান এবং পেশাগত জীবন। অফিসের ব্যস্ততা শেষে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের দেখভাল—সবকিছু সামলে চলা আধুনিক মায়েরা প্রতিদিন নতুন এক সংগ্রামের গল্প লিখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মজীবী মায়েরা আজ দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে প্রযুক্তি ও নগরজীবনের চাপে সন্তানদের সঙ্গে মানসিক দূরত্বও তৈরি হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। তাই শুধু মা দিবসে শুভেচ্ছা জানানো নয়, প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো, তার অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং মানসিক সহায়তা করাও জরুরি।

বৃদ্ধাশ্রমের নীরবতা

মা দিবসের আনন্দের মধ্যেও এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা রয়েছে। দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক মা-বাবা শেষ বয়সে সন্তানের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সঙ্গ ও যত্ন পান না। যেসব মা একসময় সন্তানের জন্য নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ আজ নিঃসঙ্গতায় দিন পার করছেন।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনযাপন এই সংকট বাড়াচ্ছে। মা দিবস তাই শুধু উদযাপনের দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনারও একটি সময়।

মাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দিন আজ | The Daily Adin

সাহিত্যে, সংগীতে ও সংস্কৃতিতে মা

বাংলা সাহিত্য, গান ও চলচ্চিত্রে মায়ের উপস্থিতি চিরন্তন। কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিক কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় মা এক অনিবার্য আবেগ। “মাগো, ভাবনা কেন” কিংবা “জনম জনম গেল আশাপথ চাহি”—এসব গানে মায়ের মমতা ও আকুলতার প্রতিফলন দেখা যায়।

গ্রামবাংলার লোরি, শহুরে সংসারের গল্প কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস—সবখানেই মায়ের ত্যাগ ও শক্তি অনন্যভাবে উঠে এসেছে।

মা দিবসে কী চায় একজন মা?

হয়তো খুব দামি উপহার নয়। একজন মা চান সন্তানের একটু সময়, আন্তরিকতা আর ভালোবাসা। অনেক মা-ই বলেন, সন্তানের একটি ফোনকল, একসঙ্গে বসে খাওয়া বা খোঁজ নেওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

এই ব্যস্ত সময়ে আমরা অনেকেই হয়তো মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় পাই না। অথচ মা অপেক্ষা করেন—সন্তানের কণ্ঠ শুনবেন বলে।

শেষ কথা

মা দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানুষকে তার শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। মা আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয়, প্রথম ভালোবাসা। তাই মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের আচরণে, যত্নে এবং ভালোবাসায় প্রকাশ করাই হোক সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

কারণ পৃথিবীতে অনেক শব্দের ভিড়ে “মা” এখনো সবচেয়ে নিরাপদ উচ্চারণ।