০১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
কেরালার কারিগরদের হাতে ফিরল প্রাচীন নৌযানের গৌরব, সমুদ্রে পাড়ি দিল কৌণ্ডিন্য ইউনিক্লোর ঝলমলে বিক্রি, লাভের পূর্বাভাস বাড়াল ফাস্ট রিটেইলিং ঋণের বদলে যুদ্ধবিমান: সৌদি অর্থ সহায়তা রূপ নিতে পারে জেএফ–সতেরো চুক্তিতে গৌর নদী: বরিশালের শিরা-উপশিরায় ভর করে থাকা এক জীবন্ত স্মৃতি আমার মতো আর কারও না হোক আকুর বিল পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২.৪৩ বিলিয়ন ডলার জ্যোতির নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দল ঘোষণা প্রবাসী আয়ে গতি আনতে নতুন নির্দেশনা, একই দিনে গ্রাহকের হিসাবে টাকা জমার আদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ভালুকায় তরুণ হত্যাকাণ্ডে আরও এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, ঢাকায় লুকিয়ে ছিল মূল উসকানিদাতা উত্তরে তারেকের সফর নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙছে না: সালাহউদ্দিন

পাকিস্তান-বাংলাদেশের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি

দীর্ঘ বিরতির পর সামরিক যোগাযোগে নতুন কাঠামো
পাবলিক ঘোষণার বাইরে বাস্তবায়নই হবে আসল পরীক্ষা
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগকে আরও কাঠামোবদ্ধ করতে পারে। ঘোষণায় এটিকে এককালীন সফর বা প্রতীকী উদ্যোগ নয়, বরং নিয়মিত সহযোগিতার জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জনসমক্ষে চুক্তির শর্তাবলি সীমিতভাবে আসলেও, বার্তাটি স্পষ্ট—দুই পক্ষ একটি স্থায়ী চ্যানেল রাখতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় এগোয়।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে একাধিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। সীমান্ত, সাগর, সাইবার ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তুতি—সব জায়গায় সক্ষমতা ব্যবস্থাপনা এখন আরও জটিল। পাশাপাশি বাজেট ও সরবরাহ-শৃঙ্খলও দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব—যতই তা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকুক—আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের নজর টানে।
পাকিস্তানের দৃষ্টিতে, চুক্তিটি তাদের প্রতিরক্ষা কূটনীতিকে আরও বিস্তৃত করার একটি পদক্ষেপ। তারা সাধারণত প্রশিক্ষণ, স্টাফ এক্সচেঞ্জ ও পেশাগত যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সহযোগিতার কাঠামো দাঁড় করায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা সম্পর্কগুলো বহুমুখী—একাধিক দেশের সঙ্গে কাজ করে বাস্তব সুবিধা নেওয়া, কিন্তু এমনভাবে যাতে কৌশলগত নমনীয়তা বজায় থাকে। তাই এই ধরনের চুক্তি বাংলাদেশের বৃহত্তর ব্যালান্সিং কৌশলের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে।
অনেক সময় দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক কথাবার্তা যতটা দৃশ্যমান, প্রতিরক্ষা স্তরের যোগাযোগ ততটা প্রচারিত হয় না। তবু সামরিক পেশাজীবীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয় দ্রুত হয়। নীতিগতভাবে সেটিই এই ধরনের চুক্তির বড় মূল্য—হটলাইন, প্রক্রিয়া, এবং পরিচিত মুখ—সব কিছু আগেভাগে তৈরি থাকা।
প্রশিক্ষণ, যৌথ কার্যক্রম ও সক্ষমতার প্রশ্ন
পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে, এই কাঠামোর ভেতরে সাধারণত যে ধরনের বিষয় থাকে—প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সফর, এবং সম্ভাব্য যৌথ কার্যক্রম—সেগুলোই সামনে এগোতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের উদ্দেশ্য বেশ বাস্তব: অফিসারদের পরিচিতি বাড়ানো, মৌলিক প্রটোকল মিলিয়ে নেওয়া, এবং সময়ের সঙ্গে কাজের অভ্যাস গড়ে তোলা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বা সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়ের মতো ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি হবে—এতে প্রস্তুতি ও সক্ষমতায় কী ধরনের যোগমূল্য যোগ হচ্ছে। আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় কেবল চুক্তি নয়, বাস্তব প্রশিক্ষণ, টেবিল-টপ অনুশীলন, এবং নিয়মিত যোগাযোগই ফল দেয়। পাকিস্তানের জন্যও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারলে উদ্যোগ দ্রুতই প্রতীকী পর্যায়ে আটকে যায়।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার দিকটিও প্রাসঙ্গিক। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রায়ই তৃতীয় পক্ষের চোখে ‘সিগন্যালিং’ হিসেবে পড়া হয়, এমনকি যখন তা রুটিন পেশাগত বিনিময় হয়। তবে একটি চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৌশলগত মানচিত্র বদলে দেয় না। এটি বেশি করে ধারণা, যোগাযোগ, এবং সম্ভাবনার পরিসর তৈরি করে—যা সময়ের সঙ্গে বড় বা ছোট প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বাস্তবায়নে। কাগজে স্বাক্ষরিত কাঠামো তখনই কার্যকর হয়, যখন নির্দিষ্ট কর্মসূচি, সফর, এবং যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবে শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতা থাকলে এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা যোগাযোগকে দীর্ঘমেয়াদে আরও নিয়মিত ও পূর্বানুমেয় করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরালার কারিগরদের হাতে ফিরল প্রাচীন নৌযানের গৌরব, সমুদ্রে পাড়ি দিল কৌণ্ডিন্য

পাকিস্তান-বাংলাদেশের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি

০৯:২০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ বিরতির পর সামরিক যোগাযোগে নতুন কাঠামো
পাবলিক ঘোষণার বাইরে বাস্তবায়নই হবে আসল পরীক্ষা
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগকে আরও কাঠামোবদ্ধ করতে পারে। ঘোষণায় এটিকে এককালীন সফর বা প্রতীকী উদ্যোগ নয়, বরং নিয়মিত সহযোগিতার জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জনসমক্ষে চুক্তির শর্তাবলি সীমিতভাবে আসলেও, বার্তাটি স্পষ্ট—দুই পক্ষ একটি স্থায়ী চ্যানেল রাখতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় এগোয়।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে একাধিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। সীমান্ত, সাগর, সাইবার ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তুতি—সব জায়গায় সক্ষমতা ব্যবস্থাপনা এখন আরও জটিল। পাশাপাশি বাজেট ও সরবরাহ-শৃঙ্খলও দেশগুলোর সামরিক পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব—যতই তা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকুক—আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের নজর টানে।
পাকিস্তানের দৃষ্টিতে, চুক্তিটি তাদের প্রতিরক্ষা কূটনীতিকে আরও বিস্তৃত করার একটি পদক্ষেপ। তারা সাধারণত প্রশিক্ষণ, স্টাফ এক্সচেঞ্জ ও পেশাগত যোগাযোগকে কেন্দ্র করে সহযোগিতার কাঠামো দাঁড় করায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা সম্পর্কগুলো বহুমুখী—একাধিক দেশের সঙ্গে কাজ করে বাস্তব সুবিধা নেওয়া, কিন্তু এমনভাবে যাতে কৌশলগত নমনীয়তা বজায় থাকে। তাই এই ধরনের চুক্তি বাংলাদেশের বৃহত্তর ব্যালান্সিং কৌশলের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে।
অনেক সময় দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক কথাবার্তা যতটা দৃশ্যমান, প্রতিরক্ষা স্তরের যোগাযোগ ততটা প্রচারিত হয় না। তবু সামরিক পেশাজীবীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয় দ্রুত হয়। নীতিগতভাবে সেটিই এই ধরনের চুক্তির বড় মূল্য—হটলাইন, প্রক্রিয়া, এবং পরিচিত মুখ—সব কিছু আগেভাগে তৈরি থাকা।
প্রশিক্ষণ, যৌথ কার্যক্রম ও সক্ষমতার প্রশ্ন
পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে, এই কাঠামোর ভেতরে সাধারণত যে ধরনের বিষয় থাকে—প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সফর, এবং সম্ভাব্য যৌথ কার্যক্রম—সেগুলোই সামনে এগোতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের উদ্দেশ্য বেশ বাস্তব: অফিসারদের পরিচিতি বাড়ানো, মৌলিক প্রটোকল মিলিয়ে নেওয়া, এবং সময়ের সঙ্গে কাজের অভ্যাস গড়ে তোলা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বা সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়ের মতো ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি হবে—এতে প্রস্তুতি ও সক্ষমতায় কী ধরনের যোগমূল্য যোগ হচ্ছে। আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় কেবল চুক্তি নয়, বাস্তব প্রশিক্ষণ, টেবিল-টপ অনুশীলন, এবং নিয়মিত যোগাযোগই ফল দেয়। পাকিস্তানের জন্যও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে ধারাবাহিকতা দেখাতে না পারলে উদ্যোগ দ্রুতই প্রতীকী পর্যায়ে আটকে যায়।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার দিকটিও প্রাসঙ্গিক। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রায়ই তৃতীয় পক্ষের চোখে ‘সিগন্যালিং’ হিসেবে পড়া হয়, এমনকি যখন তা রুটিন পেশাগত বিনিময় হয়। তবে একটি চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৌশলগত মানচিত্র বদলে দেয় না। এটি বেশি করে ধারণা, যোগাযোগ, এবং সম্ভাবনার পরিসর তৈরি করে—যা সময়ের সঙ্গে বড় বা ছোট প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বাস্তবায়নে। কাগজে স্বাক্ষরিত কাঠামো তখনই কার্যকর হয়, যখন নির্দিষ্ট কর্মসূচি, সফর, এবং যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবে শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতা থাকলে এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা যোগাযোগকে দীর্ঘমেয়াদে আরও নিয়মিত ও পূর্বানুমেয় করে তুলতে পারে।