দেশের উত্তরের জেলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর আসন্ন চার দিনের সফর নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো লঙ্ঘন নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রচার নয়; জুলাইয়ের ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো—যা দলীয় নয়, জাতীয় দায়িত্ব।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাই সফরের মূল উদ্দেশ্য
বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কেউ কেউ ভিন্ন দৃষ্টিতে সফরটিকে দেখলেও শহীদদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন জাতির প্রত্যাশা। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ ও তা আরও উচ্চকিত করতেই এই যাত্রা। সেই বিবেচনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নই ওঠে না।
জাতীয় প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগ
সালাহউদ্দিন আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে তারেক রহমান শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করলে সেটিই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সম্মান জানানো ও জাতির প্রত্যাশা পূরণের শামিল। তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে শহীদদের ত্যাগকে আরও সম্মানিত করতে।

সফরের রুট ও কর্মসূচি
আগামী ১১ জানুয়ারি সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারেক রহমান। সফরকালে তিনি রংপুরে গিয়ে ২০২৪ সালের ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদের কবরেও শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বোঝানো ও শান্ত করার চেষ্টা চলছে। বড় দলে অনেকের প্রত্যাশা থাকে, মনোনয়ন না পেলে হতাশা তৈরি হয়—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে আসন সমঝোতা ও বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে ছাড় দিতে হয়েছে।

নির্বাচনী পরিবেশ ও সাম্প্রতিক ঘটনা
স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার হত্যাকাণ্ড নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষ্য, সব রাজনৈতিক দল এখন সুষ্ঠু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সবার আন্তরিকতায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে নানা দাবি ও অভিযোগ থাকলেও এখন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সবাই এক জায়গায় এসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আন্তরিক। কোনো দলের অভিযোগ থাকলে তারা যেন সরাসরি নির্বাচন কমিশন-কে জানায়—এমন পরামর্শও দেন তিনি।
Sarakhon Report 



















