ইউএনবি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ ফিরে এসেছে। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার সরকারি সময়সীমা পেরিয়ে তিন সপ্তাহ হলেও কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর।
কিছু হাওরে কাজ শুরু হলেও সামগ্রিক গতি খুবই কম। সময়মতো বাঁধ নির্মাণের ওপর নির্ভরশীল বোরো চাষিদের মধ্যে এতে হতাশা বাড়ছে। অনেক কৃষকের আশঙ্কা, বিলম্ব চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়নে একাধিক কারণ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওর থেকে পানি নামতে দেরি হওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে জটিলতার কারণে তাহিরপুর, দিরাই ও শাল্লাসহ একাধিক উপজেলায় কাজ থমকে আছে।
এ ছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার কারণে আগে প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই নির্মাণকাজ গতি পাবে এবং সব প্রকল্প আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, কাজের বিনিময়ে টাকা নীতির আওতায় ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে ১২টি উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য মোট ৭০৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩৭ কোটি টাকা।
১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হলেও অগ্রগতি সীমিতই রয়ে গেছে। ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৪০০টির মতো প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে, সামগ্রিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।
কর্মকর্তারা জানান, বাকি প্রকল্পগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে।
বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনুমোদিত অধিকাংশ প্রকল্পেই এখনো কাজ শুরু হয়নি। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এখনো সরকারি কার্যাদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

ধীরগতির কারণে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকেও সমালোচনা উঠেছে। সংগঠনটির নেতারা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি শুরুর তারিখ পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ উপজেলায় নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদন ও অতিরিক্ত বরাদ্দের অভিযোগ তুলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, এবারের বাঁধের কাজ নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক। এখনই ব্যবস্থা না নিলে হাওরবাসীর জন্য এটি অশনি সংকেত হতে পারে।
এর জবাবে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাঁধ নির্মাণ শেষ করা হবে।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের সাতটি জেলায় এসব হাওর বিস্তৃত, যার মোট আয়তন প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর।
এর মধ্যে শুধু সুনামগঞ্জ জেলাতেই রয়েছে ৯৫টি হাওর, যার আয়তন প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫৩১ হেক্টর।
কৃষি মৌসুম এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে সুনামগঞ্জের কৃষকেরা বাঁধ নির্মাণের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের আশা, পানি বাড়ার আগেই কাজের গতি বাড়বে এবং জীবিকা রক্ষায় বড় কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে না।
Sarakhon Report 



















