০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
শীতের নীরবতায় বসন্তের ছাপ: নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ সাম্প্রতিক প্রতিবেদন জানাচ্ছে: ওজোন স্তর দ্রুত সুস্থ হচ্ছে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে লিঙ্ক সংযুক্তি এখন আরও সহজ বেয়নসের অপ্রকাশিত গান চুরির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ দাবি করেছেন “বিয়ন্সের অপ্রকাশিত সংগীত চুরির অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তি দোষী নয় বলে দাবি” সিইএস ২০২৬: স্মার্ট ইটাল, কীবোর্ড কেস ও সাইবার পেটের প্রদর্শনী” দূর সমুদ্দুর মধ্য ওকলাহোমায় জানুয়ারির বিরল টর্নেডোতে পূর্বাভাস আশঙ্কা বিনা অনুমতিতে কণ্ঠ ব্যবহারে ব্যাড বানির বিরুদ্ধে ১৬ মিলিয়ন ডলারের মামলা ইরানজুড়ে বিক্ষোভে ইন্টারনেট বন্ধ, উড়োজাহাজ বাতিল

বিনা অনুমতিতে কণ্ঠ ব্যবহারে ব্যাড বানির বিরুদ্ধে ১৬ মিলিয়ন ডলারের মামলা

নারী সহপাঠীর অভিযোগ, হিট গানে ব্যবহৃত হয়েছে তার কণ্ঠ

পুয়ের্তো রিকোর জনপ্রিয় শিল্পী ব্যাড বানি ১৬ মিলিয়ন ডলারের একটি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি এক নারীর কণ্ঠ অনুমতি ছাড়া দুটি গানে ব্যবহার করেছেন। রোলিং স্টোনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইনালি ওয়াই সেরানো রিভেরা নামে ওই নারী অভিযোগ করেছেন যে ২০১৮ সালে থিয়েটারের ছাত্র থাকা অবস্থায় প্রযোজক রোবের্তো রোসাদো—যিনি “লা পাসেন্সিয়া” নামে পরিচিত—তার কাছে “মিরা, পুয়েতা, নো মে কিতেন এল পেরেও” বাক্যটি রেকর্ড করতে বলেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এটি কোনও শিক্ষামূলক প্রকল্পের জন্য হবে, কিন্তু পরে তা ব্যাড বানির ২০১৮ সালের অ্যালবাম এক্স ১০০প্রে‑এর “সোলো দে মি” ও ২০২৫ সালের অ্যালবাম দেবি তিরার মাস ফটোস‑এর “ইওও” গানে ব্যবহৃত হয় এবং কনসার্টে দর্শকদের শ্লোগানে পরিণত হয়।

সেরানো দাবি করছেন, তিনি কখনোই তার কণ্ঠ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেননি বা কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করেননি। তার আইনজীবীরা বলছেন, এই বাক্যটি ব্যাড বানির ব্র্যান্ডের অংশ হয়ে গেছে; তিনি এটি টিশার্ট ও অন্যান্য পণ্যে ব্যবহার করে বিপুল আয় করেছেন। আইনজীবী হোসে এম. মার্কসোয়াচ ফাগট ও জোয়ানা বোকানেগ্রা ওকাসিও এর আগে ২০২৩ সালে ব্যাড বানির সাবেক বান্ধবী কার্লিজ ডে লা ক্রুজের পক্ষে আরেকটি মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে তিনিও নিজের কণ্ঠ অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন মামলায় সেরানো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও প্রচার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চাইছেন।

Bad Bunny Sued by Ex-Girlfriend Over Song Using Her Voice | Hypebeast

স্যাম্পলিং ও অনুমতির বিতর্কে নতুন আলোচনার সূচনা

এই মামলা সংগীত শিল্পে স্যাম্পলিং ও সম্মতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কণ্ঠ রেকর্ড ও রিমিক্স করা সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু সহযোগীদের যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়ার নীতি এখনো পরিষ্কার নয়। সেরানোর অভিযোগে বলা হয়েছে, তার রেকর্ডিংটি বারবার কনসার্টে বাজানো হয়েছে এবং পণ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, এতে শিল্পী ও লেবেল রিমাস এন্টারটেইনমেন্ট লাভবান হলেও তিনি কিছুই পাননি। গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যাড বানির পক্ষে কেউ অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ মামলা বিচারাধীন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদালত সেরানোর পক্ষে রায় দিলে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে। হিপ‑হপ ও ইলেকট্রনিক সংগীতে স্যাম্পলিং নিয়ে আইনি ঝামেলা পরিচিত হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা বাক্য নিয়ে এত উচ্চ প্রোফাইল মামলা বিরল। রায় এমন হলে শিল্পীরা বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের সময়ও লিখিত চুক্তি করা শুরু করতে পারেন। রেকর্ড কোম্পানিগুলোও সম্ভবত তাদের কনট্রাক্ট যাচাই‑বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করবে, যাতে মহার্ঘ আইনি দ্বন্দ্ব এড়ানো যায়। এই মামলাটি ব্যাড বানির সাবেক প্রেমিকার মামলার সঙ্গে তুলনা টানছে, যা এখনো মীমাংসিত নয়।

Bad Bunny sued for $40 million by ex over “unauthorized” voice memo | The  FADER

আইনি বিষয় ছাড়াও, এই ঘটনা সৃজনশীল শিল্পে স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে। ভক্তরা প্রায়ই মনে করেন, জনপ্রিয় গানগুলোর প্রতিটি অংশ শিল্পীরই সৃষ্টি, কিন্তু অনেক সময় কম পরিচিত সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেরানোর অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি সাধারণ রেকর্ডিং বিশ্বব্যাপী স্লোগানে পরিণত হতে পারে, অথচ মূল কণ্ঠদাতা কোনো লাভ পান না। স্ট্রিমিং ও সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তায় এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এখন শিল্পীদের সব রেকর্ডিং, যতই স্বচ্ছন্দ হোক, সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হতে পারে।

ব্যাড বানি গত কয়েক বছরে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং স্পোটিফাইয়ে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম করা শিল্পীদের একজন হয়ে উঠেছেন। তিনি বর্তমানে নতুন অ্যালবাম ও বিশ্বভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলাটি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন তার জনসম্প্রীতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভক্তরা হয়তো তাকে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন, কিন্তু মামলার ফলাফল শিল্পীদের সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বদলে দিতে পারে। মেধাস্বত্ব নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে; এই মামলা শুধু একজন শিল্পীর জন্য নয়, সৃজনশীল জগতের অনেকের জন্য দিক নির্ধারণ করতে পারে।

Bad Bunny is facing a $16 million dollar lawsuit ahead of big Super Bowl  performance - The Mirror US

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের নীরবতায় বসন্তের ছাপ: নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ

বিনা অনুমতিতে কণ্ঠ ব্যবহারে ব্যাড বানির বিরুদ্ধে ১৬ মিলিয়ন ডলারের মামলা

০৬:০০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

নারী সহপাঠীর অভিযোগ, হিট গানে ব্যবহৃত হয়েছে তার কণ্ঠ

পুয়ের্তো রিকোর জনপ্রিয় শিল্পী ব্যাড বানি ১৬ মিলিয়ন ডলারের একটি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে তিনি এক নারীর কণ্ঠ অনুমতি ছাড়া দুটি গানে ব্যবহার করেছেন। রোলিং স্টোনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইনালি ওয়াই সেরানো রিভেরা নামে ওই নারী অভিযোগ করেছেন যে ২০১৮ সালে থিয়েটারের ছাত্র থাকা অবস্থায় প্রযোজক রোবের্তো রোসাদো—যিনি “লা পাসেন্সিয়া” নামে পরিচিত—তার কাছে “মিরা, পুয়েতা, নো মে কিতেন এল পেরেও” বাক্যটি রেকর্ড করতে বলেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এটি কোনও শিক্ষামূলক প্রকল্পের জন্য হবে, কিন্তু পরে তা ব্যাড বানির ২০১৮ সালের অ্যালবাম এক্স ১০০প্রে‑এর “সোলো দে মি” ও ২০২৫ সালের অ্যালবাম দেবি তিরার মাস ফটোস‑এর “ইওও” গানে ব্যবহৃত হয় এবং কনসার্টে দর্শকদের শ্লোগানে পরিণত হয়।

সেরানো দাবি করছেন, তিনি কখনোই তার কণ্ঠ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেননি বা কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করেননি। তার আইনজীবীরা বলছেন, এই বাক্যটি ব্যাড বানির ব্র্যান্ডের অংশ হয়ে গেছে; তিনি এটি টিশার্ট ও অন্যান্য পণ্যে ব্যবহার করে বিপুল আয় করেছেন। আইনজীবী হোসে এম. মার্কসোয়াচ ফাগট ও জোয়ানা বোকানেগ্রা ওকাসিও এর আগে ২০২৩ সালে ব্যাড বানির সাবেক বান্ধবী কার্লিজ ডে লা ক্রুজের পক্ষে আরেকটি মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন, যেখানে তিনিও নিজের কণ্ঠ অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন মামলায় সেরানো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও প্রচার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চাইছেন।

Bad Bunny Sued by Ex-Girlfriend Over Song Using Her Voice | Hypebeast

স্যাম্পলিং ও অনুমতির বিতর্কে নতুন আলোচনার সূচনা

এই মামলা সংগীত শিল্পে স্যাম্পলিং ও সম্মতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কণ্ঠ রেকর্ড ও রিমিক্স করা সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু সহযোগীদের যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়ার নীতি এখনো পরিষ্কার নয়। সেরানোর অভিযোগে বলা হয়েছে, তার রেকর্ডিংটি বারবার কনসার্টে বাজানো হয়েছে এবং পণ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, এতে শিল্পী ও লেবেল রিমাস এন্টারটেইনমেন্ট লাভবান হলেও তিনি কিছুই পাননি। গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যাড বানির পক্ষে কেউ অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ মামলা বিচারাধীন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদালত সেরানোর পক্ষে রায় দিলে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে। হিপ‑হপ ও ইলেকট্রনিক সংগীতে স্যাম্পলিং নিয়ে আইনি ঝামেলা পরিচিত হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা বাক্য নিয়ে এত উচ্চ প্রোফাইল মামলা বিরল। রায় এমন হলে শিল্পীরা বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের সময়ও লিখিত চুক্তি করা শুরু করতে পারেন। রেকর্ড কোম্পানিগুলোও সম্ভবত তাদের কনট্রাক্ট যাচাই‑বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করবে, যাতে মহার্ঘ আইনি দ্বন্দ্ব এড়ানো যায়। এই মামলাটি ব্যাড বানির সাবেক প্রেমিকার মামলার সঙ্গে তুলনা টানছে, যা এখনো মীমাংসিত নয়।

Bad Bunny sued for $40 million by ex over “unauthorized” voice memo | The  FADER

আইনি বিষয় ছাড়াও, এই ঘটনা সৃজনশীল শিল্পে স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে। ভক্তরা প্রায়ই মনে করেন, জনপ্রিয় গানগুলোর প্রতিটি অংশ শিল্পীরই সৃষ্টি, কিন্তু অনেক সময় কম পরিচিত সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেরানোর অভিজ্ঞতা দেখায়, একটি সাধারণ রেকর্ডিং বিশ্বব্যাপী স্লোগানে পরিণত হতে পারে, অথচ মূল কণ্ঠদাতা কোনো লাভ পান না। স্ট্রিমিং ও সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তায় এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এখন শিল্পীদের সব রেকর্ডিং, যতই স্বচ্ছন্দ হোক, সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হতে পারে।

ব্যাড বানি গত কয়েক বছরে অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং স্পোটিফাইয়ে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম করা শিল্পীদের একজন হয়ে উঠেছেন। তিনি বর্তমানে নতুন অ্যালবাম ও বিশ্বভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলাটি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন তার জনসম্প্রীতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভক্তরা হয়তো তাকে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন, কিন্তু মামলার ফলাফল শিল্পীদের সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বদলে দিতে পারে। মেধাস্বত্ব নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে; এই মামলা শুধু একজন শিল্পীর জন্য নয়, সৃজনশীল জগতের অনেকের জন্য দিক নির্ধারণ করতে পারে।

Bad Bunny is facing a $16 million dollar lawsuit ahead of big Super Bowl  performance - The Mirror US