০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়লেন ১৭৩ রোগী ফ্লোরিডা জ্বালানি সংকটে পড়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশে তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি- বিদ্যুৎমন্ত্রীর দাবি ফেসবুক-মেসেঞ্জারে হঠাৎ বিভ্রাট, বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি রংপুর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, ১১ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কেন? ঢাকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত কাতারের গোপন তৎপরতা: গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নেতৃত্বের ফাঁদে আটকে ট্রাম্প ও পুতিন: যুদ্ধ শুরু করা সহজ, শেষ করা কঠিন বিলি আইলিশ ও জেমস ক্যামেরনের 3D কনসার্ট ফিল্ম প্যারামাউন্ট প্লাসে আসছে — ‘টাইটানিক’-এর পরিচালক এবার পপস্টারকে পর্দায় অমর করলেন পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, আশ্বস্ত করলেন গভর্নর

অস্কারের দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য তেয়ানা টেইলর: অভিনয়, সংগীত ও পরিচালনায় এক সৃজনশীল বিস্ময়

একই দিনে অস্কারের প্রচারণা, নতুন জুতার প্রচার, নিজের ছবির প্রস্তুতি, সংলাপ পুনরায় রেকর্ড এবং রান্নাশালার কাজ—সব মিলিয়ে যেন অসম্ভব এক ব্যস্ততা। কিন্তু তেয়ানা টেইলরের কাছে এই ব্যস্ততাই প্রেরণা। তাঁর ভাষায়, কঠিন কাজ মানেই উদ্দেশ্যপূর্ণ পথ। আর সেই পথ ধরেই আজ তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড় সাফল্য

৩৫ বছর বয়সী তেয়ানা টেইলর বহু বছর ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন। কয়েক বছর আগেও তিনি সংগীত থেকে অবসর নিয়েছিলেন এবং অভিনয়ে তাঁর বড় পরিচিতি ছিল কেবল একটি ছোট চরিত্রে উপস্থিতি।

কিন্তু সময় বদলেছে দ্রুত। তাঁর অ্যালবাম “এস্কেপ রুম” তাকে এনে দিয়েছে সংগীতের বড় মনোনয়ন। অভিনয়ে জয় করেছেন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার এবং এখন তিনি অস্কারের সহকারী অভিনেত্রী বিভাগে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায়।

নিজেকে তিনি শুধু অভিনেত্রী বা গায়িকা হিসেবে দেখেন না। বরং তিনি নিজেকে বলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ—যিনি অভিনয় করেন, গান করেন, নাচের কোরিওগ্রাফি করেন এবং পরিচালনাও করেন।

ছোট সুযোগ থেকে বড় যাত্রা

তেয়ানা টেইলরের সাফল্যের গল্প শুরু হয় কিশোরী বয়সে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নাচের লড়াইয়ে অংশ নিতে গিয়ে তিনি এমন এক সুযোগ পান, যা তাঁর জীবন বদলে দেয়। একটি নাচ শেখাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরো সংগীত ভিডিওর নৃত্যপরিকল্পনা করেন তিনি।

অল্প বয়সেই তিনি সংগীত জগতে প্রবেশ করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেন। সেই সময় থেকেই তিনি বুঝেছিলেন—যে সুযোগই আসুক, সেটিকে পুরো শক্তি দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।

Women of the year - 28 Feb 2026 - Time Magazine Europe - Readly

বড় ছবিতে শক্তিশালী উপস্থিতি

নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে তাঁর সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের চরিত্র পারফিডিয়া। বিপ্লবী একটি দলের নেতা হিসেবে তিনি পর্দায় হাজির হন সাহসী ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব নিয়ে।

চরিত্রটি শুধু শক্তি নয়, গভীর মানবিক দিকও তুলে ধরে। বিশেষ করে মাতৃত্বের পর মানসিক চাপে ভেঙে পড়া এক নারীর দৃশ্য দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তেয়ানা মনে করেন, অনেক নারী এই অনুভূতির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পান। সমাজ প্রায়ই নারীদের শক্ত হতে বাধ্য করে, কিন্তু তাদের দুর্বলতার মুহূর্তগুলোকে খুব কমই বোঝে।

নিজের পথ নিজেই বেছে নেওয়া

তেয়ানা টেইলর সবসময়ই একাধিক কাজ একসঙ্গে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকেই তাকে একটিমাত্র পথে মনোযোগ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তা মানেননি।

সংগীত ছেড়ে অভিনয়ে মন দেওয়ার সিদ্ধান্তও একসময় সমালোচিত হয়েছিল। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, একদিন তিনি বড় অভিনেত্রী এবং পরিচালক হবেন। আজ সেই স্বপ্নই বাস্তবতার পথে।

সামনে আরও বড় পরিকল্পনা

অস্কারের ফলাফল যাই হোক, তেয়ানা মনে করেন তিনি ইতিমধ্যেই জয়ী। কারণ এই মনোনয়ন তাকে বিশ্বের সেরা শিল্পীদের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

অস্কারের পর সামান্য বিশ্রাম নিয়ে তিনি আবার কাজে ফিরবেন। নতুন চলচ্চিত্রের শুটিং, সংগীত সফর এবং রান্নাশালার পড়াশোনা শেষ করা—সব মিলিয়ে সামনে আরও ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে।

তাঁর বিশ্বাস, একজন সত্যিকারের সৃষ্টিশীল মানুষকে কখনো সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। সুযোগ দিলে সে নিজেই নিজের আকাশ তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়লেন ১৭৩ রোগী

অস্কারের দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য তেয়ানা টেইলর: অভিনয়, সংগীত ও পরিচালনায় এক সৃজনশীল বিস্ময়

০৪:০০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

একই দিনে অস্কারের প্রচারণা, নতুন জুতার প্রচার, নিজের ছবির প্রস্তুতি, সংলাপ পুনরায় রেকর্ড এবং রান্নাশালার কাজ—সব মিলিয়ে যেন অসম্ভব এক ব্যস্ততা। কিন্তু তেয়ানা টেইলরের কাছে এই ব্যস্ততাই প্রেরণা। তাঁর ভাষায়, কঠিন কাজ মানেই উদ্দেশ্যপূর্ণ পথ। আর সেই পথ ধরেই আজ তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড় সাফল্য

৩৫ বছর বয়সী তেয়ানা টেইলর বহু বছর ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন। কয়েক বছর আগেও তিনি সংগীত থেকে অবসর নিয়েছিলেন এবং অভিনয়ে তাঁর বড় পরিচিতি ছিল কেবল একটি ছোট চরিত্রে উপস্থিতি।

কিন্তু সময় বদলেছে দ্রুত। তাঁর অ্যালবাম “এস্কেপ রুম” তাকে এনে দিয়েছে সংগীতের বড় মনোনয়ন। অভিনয়ে জয় করেছেন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার এবং এখন তিনি অস্কারের সহকারী অভিনেত্রী বিভাগে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায়।

নিজেকে তিনি শুধু অভিনেত্রী বা গায়িকা হিসেবে দেখেন না। বরং তিনি নিজেকে বলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ—যিনি অভিনয় করেন, গান করেন, নাচের কোরিওগ্রাফি করেন এবং পরিচালনাও করেন।

ছোট সুযোগ থেকে বড় যাত্রা

তেয়ানা টেইলরের সাফল্যের গল্প শুরু হয় কিশোরী বয়সে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নাচের লড়াইয়ে অংশ নিতে গিয়ে তিনি এমন এক সুযোগ পান, যা তাঁর জীবন বদলে দেয়। একটি নাচ শেখাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরো সংগীত ভিডিওর নৃত্যপরিকল্পনা করেন তিনি।

অল্প বয়সেই তিনি সংগীত জগতে প্রবেশ করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেন। সেই সময় থেকেই তিনি বুঝেছিলেন—যে সুযোগই আসুক, সেটিকে পুরো শক্তি দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।

Women of the year - 28 Feb 2026 - Time Magazine Europe - Readly

বড় ছবিতে শক্তিশালী উপস্থিতি

নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে তাঁর সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের চরিত্র পারফিডিয়া। বিপ্লবী একটি দলের নেতা হিসেবে তিনি পর্দায় হাজির হন সাহসী ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব নিয়ে।

চরিত্রটি শুধু শক্তি নয়, গভীর মানবিক দিকও তুলে ধরে। বিশেষ করে মাতৃত্বের পর মানসিক চাপে ভেঙে পড়া এক নারীর দৃশ্য দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তেয়ানা মনে করেন, অনেক নারী এই অনুভূতির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পান। সমাজ প্রায়ই নারীদের শক্ত হতে বাধ্য করে, কিন্তু তাদের দুর্বলতার মুহূর্তগুলোকে খুব কমই বোঝে।

নিজের পথ নিজেই বেছে নেওয়া

তেয়ানা টেইলর সবসময়ই একাধিক কাজ একসঙ্গে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকেই তাকে একটিমাত্র পথে মনোযোগ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তা মানেননি।

সংগীত ছেড়ে অভিনয়ে মন দেওয়ার সিদ্ধান্তও একসময় সমালোচিত হয়েছিল। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, একদিন তিনি বড় অভিনেত্রী এবং পরিচালক হবেন। আজ সেই স্বপ্নই বাস্তবতার পথে।

সামনে আরও বড় পরিকল্পনা

অস্কারের ফলাফল যাই হোক, তেয়ানা মনে করেন তিনি ইতিমধ্যেই জয়ী। কারণ এই মনোনয়ন তাকে বিশ্বের সেরা শিল্পীদের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

অস্কারের পর সামান্য বিশ্রাম নিয়ে তিনি আবার কাজে ফিরবেন। নতুন চলচ্চিত্রের শুটিং, সংগীত সফর এবং রান্নাশালার পড়াশোনা শেষ করা—সব মিলিয়ে সামনে আরও ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে।

তাঁর বিশ্বাস, একজন সত্যিকারের সৃষ্টিশীল মানুষকে কখনো সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। সুযোগ দিলে সে নিজেই নিজের আকাশ তৈরি করতে পারে।