রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর হাসপাতালটি থেকে ১৭৩ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। একই সময়ে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রোগী ও তাদের স্বজনরা বিকল্প চিকিৎসাকেন্দ্রের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।
রোগী স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়া রোগীদের সংখ্যা ১৭৩ জনে পৌঁছেছে। তবে এখনো প্রায় ২৪৩ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর হাসপাতালটিতে নতুন কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। ফলে বিদ্যমান রোগীদের নিরাপদে স্থানান্তর এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংকটাপন্ন রোগীদের নিয়ে উদ্বেগ
হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ), উচ্চ নির্ভরশীলতা ইউনিট (এইচডিইউ) এবং করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) থাকা রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
তাদের আশঙ্কা, এসব গুরুতর অসুস্থ রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় শারীরিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জীবনরক্ষাকারী সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রোগীদের ক্ষেত্রে স্থানান্তর প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
স্বজনদের দাবি, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা বজায় রেখেই যেকোনো স্থানান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা উচিত।
পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে কর্তৃপক্ষ
এদিকে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তাদের বক্তব্য, জনস্বার্থ এবং দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া চিকিৎসাসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হবে।
হাসপাতালটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে এবং একটি ইতিবাচক সমাধান পাওয়া যাবে।
লাইসেন্স বাতিলের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার পর তদন্ত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এবং রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়।
বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগী স্থানান্তর এবং কর্তৃপক্ষের আপিল প্রক্রিয়া ঘিরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের রোগী স্থানান্তর
লাইসেন্স বাতিলের পর আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে ১৭৩ রোগী ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর ১৭৩ রোগী ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। এখনো ২৪৩ জন চিকিৎসাধীন। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় আপিল করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
#আদ_দ্বীন_হাসপাতাল #রোগী_স্থানান্তর #লাইসেন্স_বাতিল #স্বাস্থ্য_অধিদপ্তর #মগবাজার #স্বাস্থ্যখাত #বাংলাদেশ #জাতীয়_সংবাদ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















