০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ডাকযোগে ভোট ঠেকাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ কি ব্যর্থ হতে চলেছে? ফ্লোরিডাকে বদলে দিয়েছেন ডি-স্যান্টিস, এবার বড় পরীক্ষা জীবনযাত্রার ব্যয় গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চাইল পোশাক রপ্তানিকারকরা ট্রাম্পের শুল্কচাপে কানাডা: নরম কৌশলই কি মার্ক কার্নির সবচেয়ে বড় শক্তি? গ্যাস সংকট কাটাতে আরও দুই বছর, শিল্পখাতে স্বস্তি কবে? ওয়াশিংটন বৈঠক: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কি সংকটের মুখে? নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ: মানুষ স্বস্তি চায়, কিন্তু ভোগান্তি নয় একের পর এক ধাক্কা: নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আসিয়ান কতটা প্রস্তুত? চীন-রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার হুমকিতে জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় সংস্কার ইউক্রেনকে সাহায্যে শুল্ক নয়, দরকার আরও কার্যকর মার্কিন কৌশল

ভাঙা ভাস্কর্যে মুছে যাচ্ছে ইতিহাস, ঢাবির ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্স এখন নীরব ধ্বংসস্তূপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই বছর ধরে দৃশ্যমান হয়ে আছে ধ্বংসের ক্ষত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভাঙচুরের শিকার হওয়া অধিকাংশ ভাস্কর্য এখনো মাটিতে পড়ে আছে। কোথাও ছড়িয়ে আছে বিচ্ছিন্ন মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ, আবার কিছু ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোতেও স্পষ্ট ভাঙচুরের চিহ্ন।

একসময় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক

একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর শামীম সিকদারের নির্মিত এই কমপ্লেক্সে ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ঘটনাবলিকে তুলে ধরা প্রায় ১১৬টি ভাস্কর্য। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—দেশের ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এসব ভাস্কর্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

ফলে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্সটি শুধু একটি ভাস্কর্যস্থল ছিল না; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের দৃশ্যমান স্মারক হিসেবেও পরিচিত ছিল।

দুই বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়

ভাঙচুরের পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কর্যগুলো সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ। ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশগুলো সরিয়ে নিরাপদে রাখা কিংবা ভাস্কর্যগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার কাজও চোখে পড়ছে না।

দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় ভাস্কর্যগুলোর ক্ষয় আরও বাড়ছে। বৃষ্টি ও আর্দ্রতার পাশাপাশি চারপাশে বেড়ে ওঠা আগাছাও ধ্বংসাবশেষের ওপর প্রভাব ফেলছে। ফলে ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সময়ের সঙ্গে আরও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর ৫ আগস্টের ঘটনার পর  থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান  কোনো সংস্কারকাজ হয়নি ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির।, ...

ইতিহাসের স্মারক থেকে নীরব ধ্বংসস্তূপ

একসময় দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতার সংগ্রামের স্মৃতি বহন করা এই কমপ্লেক্স এখন অনেকটাই নীরব ধ্বংসস্তূপের মতো দেখাচ্ছে। মাটিতে পড়ে থাকা ভাঙা ভাস্কর্য, ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন অংশ এবং অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা পুরো স্থানটির বর্তমান অবস্থার চিত্র তুলে ধরছে।

ভাস্কর্যগুলোর এই পরিণতি শুধু একটি শিল্পকর্মের ক্ষয় নয়; কমপ্লেক্সটির মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনাগুলোকে স্মরণ করা হয়েছিল, সেগুলোর দৃশ্যমান স্মারকও ক্রমে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

ভাঙচুরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্সের ভাস্কর্যগুলো প্রকৃতি ও অবহেলার মধ্যেই আরও ক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের এই স্থানটি তাই এখন তার অতীত গৌরবের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা ভাঙা ইতিহাসের এক নীরব চিত্র হয়ে উঠেছে।

ভাঙা ভাস্কর্যে মুছে যাচ্ছে ইতিহাস, ঢাবির ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্স এখন নীরব ধ্বংসস্তূপ—দুই বছর পরও পড়ে আছে অধিকাংশ ভাস্কর্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকযোগে ভোট ঠেকাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ কি ব্যর্থ হতে চলেছে?

ভাঙা ভাস্কর্যে মুছে যাচ্ছে ইতিহাস, ঢাবির ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্স এখন নীরব ধ্বংসস্তূপ

০৫:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই বছর ধরে দৃশ্যমান হয়ে আছে ধ্বংসের ক্ষত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভাঙচুরের শিকার হওয়া অধিকাংশ ভাস্কর্য এখনো মাটিতে পড়ে আছে। কোথাও ছড়িয়ে আছে বিচ্ছিন্ন মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ, আবার কিছু ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোতেও স্পষ্ট ভাঙচুরের চিহ্ন।

একসময় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক

একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর শামীম সিকদারের নির্মিত এই কমপ্লেক্সে ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ঘটনাবলিকে তুলে ধরা প্রায় ১১৬টি ভাস্কর্য। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—দেশের ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এসব ভাস্কর্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

ফলে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্সটি শুধু একটি ভাস্কর্যস্থল ছিল না; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের দৃশ্যমান স্মারক হিসেবেও পরিচিত ছিল।

দুই বছরেও সংস্কারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়

ভাঙচুরের পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কর্যগুলো সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ। ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশগুলো সরিয়ে নিরাপদে রাখা কিংবা ভাস্কর্যগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার কাজও চোখে পড়ছে না।

দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় ভাস্কর্যগুলোর ক্ষয় আরও বাড়ছে। বৃষ্টি ও আর্দ্রতার পাশাপাশি চারপাশে বেড়ে ওঠা আগাছাও ধ্বংসাবশেষের ওপর প্রভাব ফেলছে। ফলে ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সময়ের সঙ্গে আরও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর ৫ আগস্টের ঘটনার পর  থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান  কোনো সংস্কারকাজ হয়নি ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির।, ...

ইতিহাসের স্মারক থেকে নীরব ধ্বংসস্তূপ

একসময় দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতার সংগ্রামের স্মৃতি বহন করা এই কমপ্লেক্স এখন অনেকটাই নীরব ধ্বংসস্তূপের মতো দেখাচ্ছে। মাটিতে পড়ে থাকা ভাঙা ভাস্কর্য, ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন অংশ এবং অবহেলায় বেড়ে ওঠা আগাছা পুরো স্থানটির বর্তমান অবস্থার চিত্র তুলে ধরছে।

ভাস্কর্যগুলোর এই পরিণতি শুধু একটি শিল্পকর্মের ক্ষয় নয়; কমপ্লেক্সটির মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনাগুলোকে স্মরণ করা হয়েছিল, সেগুলোর দৃশ্যমান স্মারকও ক্রমে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

ভাঙচুরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্সের ভাস্কর্যগুলো প্রকৃতি ও অবহেলার মধ্যেই আরও ক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের এই স্থানটি তাই এখন তার অতীত গৌরবের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা ভাঙা ইতিহাসের এক নীরব চিত্র হয়ে উঠেছে।

ভাঙা ভাস্কর্যে মুছে যাচ্ছে ইতিহাস, ঢাবির ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ কমপ্লেক্স এখন নীরব ধ্বংসস্তূপ—দুই বছর পরও পড়ে আছে অধিকাংশ ভাস্কর্য।