০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
পাঁচ বছরে আফগানিস্তান: যুদ্ধ কমেছে, কিন্তু সংকুচিত হয়েছে মানুষের জীবন বিশেষজ্ঞের ভিড়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার প্রজ্ঞাবান মানুষ আমেরিকার বিজ্ঞানব্যবস্থায় বড় সংস্কারের ডাক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন পথের খোঁজ ডাকযোগে ভোট ঠেকাতে ট্রাম্পের উদ্যোগ কি ব্যর্থ হতে চলেছে? ফ্লোরিডাকে বদলে দিয়েছেন ডি-স্যান্টিস, এবার বড় পরীক্ষা জীবনযাত্রার ব্যয় গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চাইল পোশাক রপ্তানিকারকরা ট্রাম্পের শুল্কচাপে কানাডা: নরম কৌশলই কি মার্ক কার্নির সবচেয়ে বড় শক্তি? গ্যাস সংকট কাটাতে আরও দুই বছর, শিল্পখাতে স্বস্তি কবে? ওয়াশিংটন বৈঠক: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কি সংকটের মুখে? নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ: মানুষ স্বস্তি চায়, কিন্তু ভোগান্তি নয়

ইউক্রেনকে সাহায্যে শুল্ক নয়, দরকার আরও কার্যকর মার্কিন কৌশল

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করবেন তখনই, যখন তাঁর কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ শান্তি প্রতিষ্ঠার খরচের চেয়ে বেশি বলে মনে হবে। তাই ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মস্কোকে বোঝানো—এই যুদ্ধ জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়াই আরও দুর্বল হবে।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ

৭ আগস্ট মার্কিন সিনেট রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যে একটি বিল পাস করেছে। বিলটিতে রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা, জ্বালানি প্রকল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।

সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও এত বড় ব্যবধানে সমর্থন পাওয়াকে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দৃঢ় অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিলটির একটি অংশ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা দেশগুলোকেও এই শুল্কের আওতায় আনা হতে পারে।

ট্রাম্পের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতার ঝুঁকি

বিলটিতে প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় শুল্ক মওকুফ বা পরিবর্তনের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ক্ষমতার পরিধিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতিকে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে দেখিয়ে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দাবি করেছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই আইনি যুক্তি নাকচ করে দেয়। এরপরও ট্রাম্প বিভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

The price is not high enough – Foreign and security policy | IPS Journal

নতুন বিলটি পাস হলে প্রেসিডেন্টের হাতে আবারও এমন একটি ক্ষমতা ফিরে আসতে পারে, যা আদালত আগে সীমিত করেছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে ভারতসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি বিবেচনার সময় শুল্কসংক্রান্ত অংশ বাদ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

ইউক্রেনের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা

ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য শুল্কের পরিবর্তে বাস্তব ও সামরিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেশটির জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতও সীমিত। তাই ইউক্রেনকে নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ দিতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন প্রযুক্তি ও অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেন নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে পারবে।

পুতিনকে দিতে হবে স্পষ্ট বার্তা

সামরিক সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনকে বোঝাতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইউক্রেনকে পরাজিত হতে দেবে না।

ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার আগ্রহ এই বার্তা দেওয়াকে কঠিন করে তুলেছে। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বাইরেও দীর্ঘদিন কাজ করবে। ইউক্রেনের প্রতি যত বড় ও দৃঢ় রাজনৈতিক সমর্থন কংগ্রেস দেখাতে পারবে, পুতিনের কাছে তত দ্রুত পরিষ্কার হবে যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বদলে ক্ষতি মেনে আলোচনায় বসাই তাঁর জন্য বেশি লাভজনক।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক অস্ত্র হাতে ট্রাম্প, চাপে পড়তে পারে মস্কোর জ্বালানি অর্থনীতি

ইউক্রেনকে সাহায্যে শুল্ক নয়, দরকার আরও কার্যকর মার্কিন কৌশল

০৬:৫০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করবেন তখনই, যখন তাঁর কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ শান্তি প্রতিষ্ঠার খরচের চেয়ে বেশি বলে মনে হবে। তাই ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মস্কোকে বোঝানো—এই যুদ্ধ জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়াই আরও দুর্বল হবে।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ

৭ আগস্ট মার্কিন সিনেট রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যে একটি বিল পাস করেছে। বিলটিতে রাশিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা, জ্বালানি প্রকল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।

সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও এত বড় ব্যবধানে সমর্থন পাওয়াকে ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দৃঢ় অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিলটির একটি অংশ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা দেশগুলোকেও এই শুল্কের আওতায় আনা হতে পারে।

ট্রাম্পের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতার ঝুঁকি

বিলটিতে প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় শুল্ক মওকুফ বা পরিবর্তনের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ক্ষমতার পরিধিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতিকে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে দেখিয়ে ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দাবি করেছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই আইনি যুক্তি নাকচ করে দেয়। এরপরও ট্রাম্প বিভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

The price is not high enough – Foreign and security policy | IPS Journal

নতুন বিলটি পাস হলে প্রেসিডেন্টের হাতে আবারও এমন একটি ক্ষমতা ফিরে আসতে পারে, যা আদালত আগে সীমিত করেছিল। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে ভারতসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাণিজ্য সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি বিবেচনার সময় শুল্কসংক্রান্ত অংশ বাদ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

ইউক্রেনের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা

ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য শুল্কের পরিবর্তে বাস্তব ও সামরিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেশটির জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতও সীমিত। তাই ইউক্রেনকে নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ দিতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন প্রযুক্তি ও অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেন নিজের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে পারবে।

পুতিনকে দিতে হবে স্পষ্ট বার্তা

সামরিক সহায়তার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনকে বোঝাতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইউক্রেনকে পরাজিত হতে দেবে না।

ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং পুতিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার আগ্রহ এই বার্তা দেওয়াকে কঠিন করে তুলেছে। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বাইরেও দীর্ঘদিন কাজ করবে। ইউক্রেনের প্রতি যত বড় ও দৃঢ় রাজনৈতিক সমর্থন কংগ্রেস দেখাতে পারবে, পুতিনের কাছে তত দ্রুত পরিষ্কার হবে যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বদলে ক্ষতি মেনে আলোচনায় বসাই তাঁর জন্য বেশি লাভজনক।