রংপুর মহানগরের কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১১ জন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া সদস্যদের মধ্যে ছয়জন কর্মকর্তা এবং পাঁচজন কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, আলম বাদশা ও আক্তারুল ইসলাম; সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও মেহেরুন্নেসা; এবং কনস্টেবল মুশফিকুর রহমান, মুখলেছুর রহমান, রাকিব আহমেদ, লিমা সরেন ও ভাবনা রানী।
ঘটনার তদন্তে কমিটি
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩ জুন কোতোয়ালি থানায় ঘটে যাওয়া একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত অবহেলা, অদক্ষতা, অপেশাদার আচরণ এবং অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে রাকিবুজ্জামান রাকিব, সিরাজুম মুনিরা মৌফি এবং রুমান বাবুকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ১১ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আগেই সরানো হয়েছিল ওসিকে
এ ঘটনার পর এর আগেই কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে ওসি আজাদ রহমানকে খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল সেদিন?
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঈদের আগে নগরীর সিইও বাজার এলাকার একটি নিখোঁজ দম্পতিকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। পরে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে ৩ জুন কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়।
দম্পতির পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসায় সহযোগিতা করতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিব থানায় যান। সেখানে গিয়ে রাকিব দেখতে পান, উদ্ধার হওয়া দম্পতিকে পুলিশ সদস্যরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করলে তৎকালীন ওসি আজাদ রহমান এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়া
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাত প্রায় ১১টার দিকে ওই দম্পতিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আহত রাকিবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শূন্য সহনশীলতার বার্তা
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেছেন, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে মহানগর পুলিশ ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
রংপুর কোতোয়ালি থানায় মারধরের অভিযোগে ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















