০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়লেন ১৭৩ রোগী ফ্লোরিডা জ্বালানি সংকটে পড়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশে তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি- বিদ্যুৎমন্ত্রীর দাবি ফেসবুক-মেসেঞ্জারে হঠাৎ বিভ্রাট, বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি রংপুর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, ১১ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কেন? ঢাকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত কাতারের গোপন তৎপরতা: গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নেতৃত্বের ফাঁদে আটকে ট্রাম্প ও পুতিন: যুদ্ধ শুরু করা সহজ, শেষ করা কঠিন বিলি আইলিশ ও জেমস ক্যামেরনের 3D কনসার্ট ফিল্ম প্যারামাউন্ট প্লাসে আসছে — ‘টাইটানিক’-এর পরিচালক এবার পপস্টারকে পর্দায় অমর করলেন পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, আশ্বস্ত করলেন গভর্নর

পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, আশ্বস্ত করলেন গভর্নর

দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু এই পাঁচ ব্যাংকই নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংকের কিছু সমস্যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিতে রয়েছে। তবে একসঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে বিকল্প উপায়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শুক্রবার বিকেলে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান

গভর্নর জানান, আলোচিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগে থেকেই নানা সমস্যার মধ্যে ছিল। এসব ব্যাংকের জন্য গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে একবারে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলার পথ খোঁজা হচ্ছে।

তারল্য সংকট নিয়ে উদ্বেগ নেই

ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন গভর্নর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কোনো ব্যাংকের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নেই, যেখানে আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন না।

তিনি বলেন, জনগণ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে অর্থ রাখতে পারেন। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।

ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপির অভিযোগও নাকচ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, অতীতে যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠান কখনও উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করেনি এবং কোনো সময় ঋণখেলাপিও হয়নি।

তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ কোটির বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। শুরুতে স্বল্প সুদের সুবিধা থাকলেও পরবর্তীতে সুদের হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে সময় লেগেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি কখনও ঋণখেলাপি হয়নি এবং ১০০ কোটির বেশি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয় বারবার বলা হলে অনেক সময় সেটিকে সত্য বলে মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো বকেয়া ঋণ ছিল না।

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের কান্না কি কেউ শুনতে পায়?

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’

ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের কারণে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি একক কিউআর প্ল্যাটফর্মে সবাই সবার সঙ্গে সহজে লেনদেন করতে পারবে।

প্রতিবেশী দেশের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একক কিউআর ব্যবস্থা ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। বাংলাদেশেও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব স্তরে কিউআরভিত্তিক লেনদেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমে আসবে।

গভর্নর জানান, ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট

পাঁচ সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়লেন ১৭৩ রোগী

পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, আশ্বস্ত করলেন গভর্নর

০৮:১২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু এই পাঁচ ব্যাংকই নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংকের কিছু সমস্যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিতে রয়েছে। তবে একসঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে বিকল্প উপায়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শুক্রবার বিকেলে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান

গভর্নর জানান, আলোচিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগে থেকেই নানা সমস্যার মধ্যে ছিল। এসব ব্যাংকের জন্য গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে একবারে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলার পথ খোঁজা হচ্ছে।

তারল্য সংকট নিয়ে উদ্বেগ নেই

ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন গভর্নর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কোনো ব্যাংকের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নেই, যেখানে আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন না।

তিনি বলেন, জনগণ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে অর্থ রাখতে পারেন। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।

ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপির অভিযোগও নাকচ করেন গভর্নর। তিনি বলেন, অতীতে যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠান কখনও উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করেনি এবং কোনো সময় ঋণখেলাপিও হয়নি।

তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ কোটির বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। শুরুতে স্বল্প সুদের সুবিধা থাকলেও পরবর্তীতে সুদের হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে সময় লেগেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি কখনও ঋণখেলাপি হয়নি এবং ১০০ কোটির বেশি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয় বারবার বলা হলে অনেক সময় সেটিকে সত্য বলে মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো বকেয়া ঋণ ছিল না।

পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের কান্না কি কেউ শুনতে পায়?

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’

ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের কারণে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি একক কিউআর প্ল্যাটফর্মে সবাই সবার সঙ্গে সহজে লেনদেন করতে পারবে।

প্রতিবেশী দেশের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একক কিউআর ব্যবস্থা ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। বাংলাদেশেও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সব স্তরে কিউআরভিত্তিক লেনদেন দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমে আসবে।

গভর্নর জানান, ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট

পাঁচ সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। একই সঙ্গে ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা এসেছে।