ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার এক তরুণ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার ভোরে ফেনী শহরের দিকে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণের পরিচয়
নিহত তরুণের নাম বাদশা ফয়সাল। তিনি সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছারাইটকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবা প্রয়াত সাহাব উদ্দিন, যিনি ওসমান আলী মিয়াজী বাড়ির সদস্য ছিলেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে ফয়সাল মোটরসাইকেলে করে খেজুরের রস নিয়ে ফেনী শহরে যাচ্ছিলেন। তিনি নিয়মিত অনলাইনে অর্ডার নিয়ে গ্রাহকদের কাছে রস পৌঁছে দিতেন। সোনাগাজী–ফেনী আঞ্চলিক সড়কের মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের ডাকবাংলা পেট্রল পাম্প এলাকার সামনে পৌঁছালে ঘন কুয়াশার মধ্যে একটি পিকআপ ভ্যান তাঁকে চাপা দেয়।
স্থানীয়দের উদ্ধার ও মৃত্যু
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।

পারিবারিক অবস্থা ও দাফন
ফয়সালের পরিবারে স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এশার নামাজের পর নিজ গ্রামের বাড়িতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ফয়সালের জীবন ও কর্ম
এলাকাবাসী ফয়সালকে পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল তরুণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আগে সোনাগাজী এলাকায় একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের শাখায় দায়িত্বে ছিলেন। পরে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা শুরু করেন। শীত মৌসুমে তিনি মুহুরী প্রকল্প এলাকা থেকে খেজুরের তাজা রস সংগ্রহ করে অর্ডার অনুযায়ী গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করতেন। দুর্ঘটনার দিনও তিনি রস সংগ্রহ শেষে ফেনীর পথে রওনা হয়েছিলেন। অনেকের ধারণা, ঘন কুয়াশার কারণে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে খেজুরের রস সংগ্রহের সময় ফয়সালের করা একটি সরাসরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁর উপদেশমূলক ও অনুপ্রেরণামূলক কথাবার্তা সোনাগাজীর মানুষের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের বক্তব্য
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















