রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের চাপ ও কূটনৈতিক সমীকরণ জটিল হয়ে ওঠার মুহূর্তে ইউক্রেনের রাষ্ট্রক্ষমতায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তিনি নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কিরিলো বুদানোভকে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ড্রোন ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ একজন নেতার নাম।
নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে নতুন অগ্রাধিকার
কিয়েভের এই সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা ও কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থনে শান্তি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করতেই এই রদবদল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় এখন নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী ও কূটনীতিতে আরও গভীর মনোযোগ প্রয়োজন।

বুদানোভের নিয়োগের তাৎপর্য
৩৯ বছর বয়সী কিরিলো বুদানোভ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান গোয়েন্দা দপ্তরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুই হাজার বিশ সাল থেকে। যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য ও গোপন অভিযানে ভূমিকার কারণে তিনি দেশের ভেতরে ব্যাপক সম্মান অর্জন করেছেন। সাধারণত এই পদে বেসামরিক রাজনীতিকরা দায়িত্ব পেতেন, সেখানে একজন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বসানো প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় বুদানোভ বলেছেন, তিনি রাষ্ট্রের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কাজ করবেন।
ইয়েরমাকের বিদায় ও আস্থার সংকট
এই পদে এত দিন ছিলেন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগী আন্দ্রি ইয়েরমাক। দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে জনরোষের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর বিদায়ের পর নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রযুক্তির জোর
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে মিখাইলো ফেদোরভের নাম। তিনি আগে উপপ্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ড্রোন প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রীয় সেবার ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতাকে যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। সংসদের অনুমোদন মিললে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেনিস শ্মিহালের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এখানেই পরিবর্তন শেষ নয়। সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের নতুন প্রধান, সীমান্ত বাহিনীর নেতৃত্বসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আসছে। যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও শক্ত ও কার্যকর কাঠামো গড়তেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















