০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড কি সম্পদ, নাকি জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা? হালান্ড বনাম ভিনিসিয়ুস, বিশ্বকাপে ব্রাজিল-নরওয়ে মহারণে চোখ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাছের জিন গবেষণায় নতুন দিগন্ত, উন্নত চাষে বদলাচ্ছে জলজ খাদ্যের ভবিষ্যৎ স্পেসএক্সে বিনিয়োগ না করে কী হারালেন, কী শিখলেন এক বিনিয়োগকারী আপত্তিকর উপাদানমুক্ত বিস্কুটে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, ছোট উদ্যোগ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সাফল্য প্রাক্তন কিশোর অপরাধী থেকে সফল উদ্যোক্তা, রান্নাঘরেই জীবনের নতুন ঠিকানা গড়লেন রিউবেন পর্দার দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার আনন্দ, পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বড় পরিবার মানেই দায় নয়: সন্তান বেশি হলেই কেন প্রশ্নের মুখে পড়েন অভিভাবকেরা অনলাইন নিরাপত্তায় শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, পরিবার ও সচেতনতাই হতে পারে বড় সমাধান বাংলাদেশিসহ শতাধিক অভিবাসী শ্রমিকের বেতন আটকে সংকট, ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত পরিবার

জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল

মার্কিন বেসরকারি ইকুইটি খাতে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে জাপানের খুচরা ধনী বিনিয়োগকারীদের দিকে নজর বাড়িয়েছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপ্রবাহে ভাটা ও শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়লেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের স্থির মনোভাব এই দুই জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য আশার বার্তা হয়ে উঠেছে।

মার্কিন বাজারে ধাক্কা, জাপানে স্থিরতা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বেসরকারি ঋণ তহবিল থেকে অর্থ তুলে নেওয়া এবং বেসরকারি ইকুইটি শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। একাধিক তহবিলে আগাম অর্থ ফেরতের প্রবণতাও দেখা গেছে। তবে জাপানে একই চিত্র দেখা যায়নি। ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর, কার্লাইল ও অ্যাপোলো যে বেসরকারি সম্পদ তহবিলগুলো বাজারজাত করছিল, সেগুলো থেকে বড় ধরনের অর্থ প্রত্যাহারের হিড়িক পড়েনি।

কেকেআরের টোকিও কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, জাপানি বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেন, কিন্তু একবার বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখেন। স্বল্পমেয়াদি বাজার ওঠানামায় তারা ততটা বিচলিত হন না। তাদের ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা এখন বড় সম্পদে পরিণত হয়েছে।

বেসরকারি ইকুইটির মোড় ঘোরার সময়

পরামর্শক সংস্থাগুলোর মতে, বেসরকারি ইকুইটি শিল্প এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে, বড় তহবিলগুলো বাজার দখলে এগিয়ে থাকলেও মাঝারি ও ছোট সংস্থাগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন। উচ্চ সুদের হার ও ধীর গতির সম্পদ বিক্রির কারণে গত কয়েক বছর তহবিল সংগ্রহে স্থবিরতা দেখা গেছে।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে সফটওয়্যার খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক বেসরকারি ঋণ প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের বিনিয়োগ এই খাতে থাকায় বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। পাশাপাশি সীমিত তারল্য ও স্বচ্ছতার অভাবও চিন্তার কারণ।

কেন জাপান এখন কেন্দ্রবিন্দু

কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত সম্পদ বাজারে পরিণত হতে পারে জাপান। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাইরে গিয়ে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে জোর দিচ্ছে তারা। এতে মূলধনের ভিত্তি বিস্তৃত হবে এবং ঋণনির্ভরতা কমবে।

গত বছর ব্ল্যাকস্টোন জাপানে ব্যাপক গণবিজ্ঞাপন চালায়। টেলিভিশন, মেট্রো স্টেশন ও জাতীয় দৈনিকে তাদের বেসরকারি সম্পদ তহবিলের প্রচার দেখা গেছে। অন্যরাও একই পথে হেঁটেছে। লক্ষ্য একটাই, জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন।

জাপানের বিনিয়োগ সংস্কৃতির পরিবর্তন

একসময় অতিরিক্ত সতর্ক বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত ছিল জাপান। বিপুল পরিমাণ অর্থ কম সুদের সঞ্চয় হিসাবে পড়ে থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেয়ারবাজারের উত্থান ও সরকারি নীতিগত উৎসাহে বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, এখন অর্ধেকের বেশি মানুষ বিনিয়োগ করেন বা বিনিয়োগে আগ্রহী।

অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানিও বাড়তি খরচ ও সক্রিয় শেয়ারহোল্ডারদের চাপ এড়াতে বাজার ছাড়ছে। এতে বেসরকারি ইকুইটির জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি সম্পদ প্রকাশ্য বাজারের তুলনায় কম ওঠানামায় ভালো ফল দিয়েছে।

সবাই কি একই পথে

তবে সব বেসরকারি ইকুইটি প্রতিষ্ঠান খুচরা বাজারে যাচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ক্ষেত্র অবকাঠামো ও আবাসনসহ বহুমুখী, তারাই বেশি সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, মার্কিন বাজারে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই জাপানের ধৈর্যশীল ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা হয়ে উঠছেন বেসরকারি ইকুইটি জায়ান্টদের নতুন ভরসা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড কি সম্পদ, নাকি জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা?

জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল

১১:০৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

মার্কিন বেসরকারি ইকুইটি খাতে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে জাপানের খুচরা ধনী বিনিয়োগকারীদের দিকে নজর বাড়িয়েছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপ্রবাহে ভাটা ও শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়লেও জাপানি বিনিয়োগকারীদের স্থির মনোভাব এই দুই জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য আশার বার্তা হয়ে উঠেছে।

মার্কিন বাজারে ধাক্কা, জাপানে স্থিরতা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বেসরকারি ঋণ তহবিল থেকে অর্থ তুলে নেওয়া এবং বেসরকারি ইকুইটি শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়েছে। একাধিক তহবিলে আগাম অর্থ ফেরতের প্রবণতাও দেখা গেছে। তবে জাপানে একই চিত্র দেখা যায়নি। ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর, কার্লাইল ও অ্যাপোলো যে বেসরকারি সম্পদ তহবিলগুলো বাজারজাত করছিল, সেগুলো থেকে বড় ধরনের অর্থ প্রত্যাহারের হিড়িক পড়েনি।

কেকেআরের টোকিও কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, জাপানি বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেন, কিন্তু একবার বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখেন। স্বল্পমেয়াদি বাজার ওঠানামায় তারা ততটা বিচলিত হন না। তাদের ধৈর্য ও স্থিতিশীলতা এখন বড় সম্পদে পরিণত হয়েছে।

বেসরকারি ইকুইটির মোড় ঘোরার সময়

পরামর্শক সংস্থাগুলোর মতে, বেসরকারি ইকুইটি শিল্প এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে, বড় তহবিলগুলো বাজার দখলে এগিয়ে থাকলেও মাঝারি ও ছোট সংস্থাগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন। উচ্চ সুদের হার ও ধীর গতির সম্পদ বিক্রির কারণে গত কয়েক বছর তহবিল সংগ্রহে স্থবিরতা দেখা গেছে।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে সফটওয়্যার খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক বেসরকারি ঋণ প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের বিনিয়োগ এই খাতে থাকায় বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। পাশাপাশি সীমিত তারল্য ও স্বচ্ছতার অভাবও চিন্তার কারণ।

কেন জাপান এখন কেন্দ্রবিন্দু

কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত সম্পদ বাজারে পরিণত হতে পারে জাপান। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাইরে গিয়ে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে জোর দিচ্ছে তারা। এতে মূলধনের ভিত্তি বিস্তৃত হবে এবং ঋণনির্ভরতা কমবে।

গত বছর ব্ল্যাকস্টোন জাপানে ব্যাপক গণবিজ্ঞাপন চালায়। টেলিভিশন, মেট্রো স্টেশন ও জাতীয় দৈনিকে তাদের বেসরকারি সম্পদ তহবিলের প্রচার দেখা গেছে। অন্যরাও একই পথে হেঁটেছে। লক্ষ্য একটাই, জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন।

জাপানের বিনিয়োগ সংস্কৃতির পরিবর্তন

একসময় অতিরিক্ত সতর্ক বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত ছিল জাপান। বিপুল পরিমাণ অর্থ কম সুদের সঞ্চয় হিসাবে পড়ে থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেয়ারবাজারের উত্থান ও সরকারি নীতিগত উৎসাহে বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, এখন অর্ধেকের বেশি মানুষ বিনিয়োগ করেন বা বিনিয়োগে আগ্রহী।

অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানিও বাড়তি খরচ ও সক্রিয় শেয়ারহোল্ডারদের চাপ এড়াতে বাজার ছাড়ছে। এতে বেসরকারি ইকুইটির জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি সম্পদ প্রকাশ্য বাজারের তুলনায় কম ওঠানামায় ভালো ফল দিয়েছে।

সবাই কি একই পথে

তবে সব বেসরকারি ইকুইটি প্রতিষ্ঠান খুচরা বাজারে যাচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ক্ষেত্র অবকাঠামো ও আবাসনসহ বহুমুখী, তারাই বেশি সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, মার্কিন বাজারে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, ততই জাপানের ধৈর্যশীল ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা হয়ে উঠছেন বেসরকারি ইকুইটি জায়ান্টদের নতুন ভরসা।