১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯ রাজশাহীতে গণপিটুনিতে নিহত এক, আহত ৭ ইরানের ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের বিস্তার রোধ করতে হবে ইরানে হামলার আগে মোদির ইসরায়েল সফর নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা ইরানের পর ট্রাম্প, তেল ও তাইওয়ান নিয়ে কঠিন হিসাবের মুখে চীন পাকিস্তানের হামলার লক্ষ্য বাগরাম ঘাঁটি, দাবি আফগানিস্তানের

সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

সাউথ চায়না সি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানে একটি আচরণবিধি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চললেও ২০২৬ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ এক বিশেষজ্ঞ। বেইজিং ও ম্যানিলার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সংশয় কাটছে না।

আচরণবিধি চূড়ান্ত করা কঠিন কেন

সাউথ চায়না সি গবেষণাবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উ শিচুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, চলতি বছরে এই নথি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা শতভাগ অনিশ্চিত। তার মতে, ফিলিপাইন যখন আসিয়ান-এর ঘূর্ণায়মান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছে, তখন তাদের মেয়াদকালে এই আলোচনায় সাফল্য আসা কঠিন।

উ শিচুনের আশঙ্কা, ফিলিপাইন আবারও ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি রায়ের বিষয়টি সামনে আনবে। হেগের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ওই রায়ে সাউথ চায়না সি-র অধিকাংশ এলাকায় চীনের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক অধিকার দাবিকে নাকচ করে দেয়। তবে বেইজিং শুরু থেকেই এই সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি এবং রায়ও মেনে নেয়নি। চীনের দাবি ছিল, সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত বিরোধে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নেই।

এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ প্রায়ই উল্লেখ করে চীনের আন্তর্জাতিক আইন মেনে না চলার অভিযোগ তোলে। ফলে আলোচনার টেবিলে পুরোনো অবস্থানগুলো আবারও সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

হালকা কাঠামো কি সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত কিছু ধারাসম্পন্ন একটি সহজ কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। তবে আসিয়ান দেশগুলো এমন আপসের পথে হাঁটতে অনিচ্ছুক। এর আগে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তাদের চেয়ারম্যানশিপের সময়ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করতে পারেনি। ফলে ফিলিপাইনের মেয়াদেও অগ্রগতি অনিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সাউথ চায়না সি-র গুরুত্ব

সাউথ চায়না সি কেবল সামুদ্রিক সীমারেখা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্র নয়; এটি ইতিহাস, অর্থনীতি ও সামরিক কৌশলের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিশাল বাণিজ্যপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বেইজিং এই জলসীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইসহ একাধিক দেশও এখানে নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে।

অগ্রগতি আটকে আছে যেসব কারণে

২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হবে কি না এবং কোন কোন সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড এর আওতায় আসবে—এসব মৌলিক প্রশ্নে দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ আলোচনার পরও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত।

চীন-ফিলিপাইন সম্পর্কের বাস্তবতা

চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও উ শিচুন মনে করেন, বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। সাউথ চায়না সি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে অতীতে একাধিকবার উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ফিলিপাইন সাবেক নৌ কর্মকর্তা রোজেলিও ভিলানুয়েভা জুনিয়রকে সামুদ্রিক বিষয়ক প্রথম সরকারি মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞের। তার মতে, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম; বরং কোস্টগার্ড এই ইস্যুতে বেশি সক্রিয় ও দৃঢ় অবস্থান নেয়।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রেক্ষাপট

গত মাসে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে আয়োজিত এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা লাজারো এবং আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হৌর্ণ চলতি বছরের মধ্যেই আচরণবিধি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশাবাদকে কতটা সমর্থন করবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

যৌথ টহলের সম্ভাবনা

ম্যানিলা জানিয়েছে, বিতর্কিত জলসীমায় যৌথ কোস্টগার্ড টহল শুরু করতে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ মাসের শেষ নাগাদ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ফিলিপাইনের দাবি, চীনা রাষ্ট্রদূত জিং ছুয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী উভয় দেশ যৌথ টহল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও সামগ্রিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে তা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা

সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

০৯:০০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

সাউথ চায়না সি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসানে একটি আচরণবিধি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চললেও ২০২৬ সালের মধ্যে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ এক বিশেষজ্ঞ। বেইজিং ও ম্যানিলার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিলেও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সংশয় কাটছে না।

আচরণবিধি চূড়ান্ত করা কঠিন কেন

সাউথ চায়না সি গবেষণাবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উ শিচুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, চলতি বছরে এই নথি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা শতভাগ অনিশ্চিত। তার মতে, ফিলিপাইন যখন আসিয়ান-এর ঘূর্ণায়মান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছে, তখন তাদের মেয়াদকালে এই আলোচনায় সাফল্য আসা কঠিন।

উ শিচুনের আশঙ্কা, ফিলিপাইন আবারও ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি রায়ের বিষয়টি সামনে আনবে। হেগের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ওই রায়ে সাউথ চায়না সি-র অধিকাংশ এলাকায় চীনের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক অধিকার দাবিকে নাকচ করে দেয়। তবে বেইজিং শুরু থেকেই এই সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি এবং রায়ও মেনে নেয়নি। চীনের দাবি ছিল, সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত বিরোধে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার নেই।

এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ প্রায়ই উল্লেখ করে চীনের আন্তর্জাতিক আইন মেনে না চলার অভিযোগ তোলে। ফলে আলোচনার টেবিলে পুরোনো অবস্থানগুলো আবারও সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

হালকা কাঠামো কি সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত কিছু ধারাসম্পন্ন একটি সহজ কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। তবে আসিয়ান দেশগুলো এমন আপসের পথে হাঁটতে অনিচ্ছুক। এর আগে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া তাদের চেয়ারম্যানশিপের সময়ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করতে পারেনি। ফলে ফিলিপাইনের মেয়াদেও অগ্রগতি অনিশ্চিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সাউথ চায়না সি-র গুরুত্ব

সাউথ চায়না সি কেবল সামুদ্রিক সীমারেখা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্র নয়; এটি ইতিহাস, অর্থনীতি ও সামরিক কৌশলের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিশাল বাণিজ্যপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বেইজিং এই জলসীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইসহ একাধিক দেশও এখানে নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে।

অগ্রগতি আটকে আছে যেসব কারণে

২০০০ সালের শুরুর দিক থেকে আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হবে কি না এবং কোন কোন সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড এর আওতায় আসবে—এসব মৌলিক প্রশ্নে দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ আলোচনার পরও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত।

চীন-ফিলিপাইন সম্পর্কের বাস্তবতা

চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও উ শিচুন মনে করেন, বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। সাউথ চায়না সি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে অতীতে একাধিকবার উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ফিলিপাইন সাবেক নৌ কর্মকর্তা রোজেলিও ভিলানুয়েভা জুনিয়রকে সামুদ্রিক বিষয়ক প্রথম সরকারি মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ পরিস্থিতির বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞের। তার মতে, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম; বরং কোস্টগার্ড এই ইস্যুতে বেশি সক্রিয় ও দৃঢ় অবস্থান নেয়।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রেক্ষাপট

গত মাসে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে আয়োজিত এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা লাজারো এবং আসিয়ান মহাসচিব কাও কিম হৌর্ণ চলতি বছরের মধ্যেই আচরণবিধি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি সেই আশাবাদকে কতটা সমর্থন করবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

যৌথ টহলের সম্ভাবনা

ম্যানিলা জানিয়েছে, বিতর্কিত জলসীমায় যৌথ কোস্টগার্ড টহল শুরু করতে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ মাসের শেষ নাগাদ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ফিলিপাইনের দাবি, চীনা রাষ্ট্রদূত জিং ছুয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী উভয় দেশ যৌথ টহল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও সামগ্রিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে তা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।