০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়লেন ১৭৩ রোগী ফ্লোরিডা জ্বালানি সংকটে পড়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশে তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি- বিদ্যুৎমন্ত্রীর দাবি ফেসবুক-মেসেঞ্জারে হঠাৎ বিভ্রাট, বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি রংপুর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের অভিযোগ, ১১ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কেন? ঢাকায় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত কাতারের গোপন তৎপরতা: গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নেতৃত্বের ফাঁদে আটকে ট্রাম্প ও পুতিন: যুদ্ধ শুরু করা সহজ, শেষ করা কঠিন বিলি আইলিশ ও জেমস ক্যামেরনের 3D কনসার্ট ফিল্ম প্যারামাউন্ট প্লাসে আসছে — ‘টাইটানিক’-এর পরিচালক এবার পপস্টারকে পর্দায় অমর করলেন পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, আশ্বস্ত করলেন গভর্নর

গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী

দীর্ঘদিন পর গুচির মঞ্চে আবারও শরীর, ঝলক আর আলোড়নের দাপট। নব্বই দশকে টম ফোর্ড যে তীব্র আকাঙ্ক্ষার ঢেউ তুলেছিলেন, সেটিকেই নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেন গুচির নতুন সৃজন পরিচালক ডেমনা। তবে চমক, তারকা আর সাহসী নকশা থাকলেও সেই পুরনো উন্মাদনা পুরোপুরি কি ফিরল? প্রশ্ন রয়ে গেল।

নব্বইয়ের স্মৃতি, নতুন মঞ্চ

১৯৯৫ সালে টম ফোর্ডের একটি প্রদর্শনী রাতারাতি গুচিকে বদলে দিয়েছিল। সেই সময় কেট মসের নীল সিল্কের শার্ট আর ভেলভেট হিপ-হাগার যেন বিলাসী জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। দোকানে ভিড় পড়েছিল, বাজার ভরে গিয়েছিল অনুকরণে।

বহু বছর পর গুচির মঞ্চে সেই ধরনের স্পন্দন ফেরানোর চেষ্টাই করলেন ডেমনা। তিনি কৃত্রিম জাদুঘরসদৃশ পটভূমিতে রোমান দেবতার ভাস্কর্যের আবহ তৈরি করেন। প্রদর্শনীর শেষ মুহূর্তে কেট মসকে ফেরানো হয় মঞ্চে। ঝলমলে কালো পোশাকে তার উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট বার্তা—গুচি আবার সাহসী, আবার দেহমুখী।

Let's Get Physical: Getting to Grips with Demna's New Gucci | BoF

শরীরঘেঁষা নকশার দাপট

এই প্রদর্শনীর মূল সুর ছিল শরীরকে জোরালোভাবে সামনে আনা। পোশাকগুলো এতটাই আঁটসাঁট যে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো যেন শরীরের ওপর আঁকা। নারীদের পোশাকে ছিল ঝকঝকে লেইস, ধাতব চামড়া আর ঝিলমিল জালের ব্যবহার। পুরুষদের পোশাকেও ছিল ঢিলেঢালা নিম্নাভিমুখী প্যান্ট, স্পষ্ট লোগো আর রাস্তার রুক্ষ ভাব।

মঞ্চে ছিলেন কার্লি ক্লস, এমিলি রাতাজকোভস্কি, র‍্যাপশিল্পী ফেকমিঙ্ক ও নেটস্পেন্ডসহ একাধিক পরিচিত মুখ। সব মিলিয়ে ছিল তারকাখচিত উপস্থিতি ও সাহসী বার্তা।

বিক্রি কমে যাওয়ার চাপ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুচির বিক্রি কমেছে। ফলে ব্র্যান্ডটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—আবারও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে ফেরা। টম ফোর্ডের সময় যেমন রূপকথার মতো উত্থান ঘটেছিল, তেমনই এক পরিবর্তনের প্রত্যাশা এখন ডেমনার কাছ থেকে।

তবে সমালোচকদের মতে, প্রদর্শনীটি যতটা সাহসী, ততটাই পরিকল্পিত। নব্বইয়ের উচ্ছ্বাস, স্বাধীনতা আর দুষ্টুমিভরা আবহ পুরোপুরি ধরা পড়েনি। স্মার্টফোনের যুগে দর্শক অনেক বেশি জানে, অনেক বেশি দেখে—ফলে চমক তৈরি করা আগের মতো সহজ নয়।

Demna Struts Into Gucci - The New York Times

ব্যাগেই বড় সাফল্য

সবকিছুর মাঝেও প্রদর্শনীর বড় শক্তি ছিল ব্যাগের সংগ্রহ। ১৯৬১ সালের জ্যাকি ব্যাগ নতুন রূপে এসেছে বড় আকার ও জিপার বন্ধে। ১৯৪৭ সালের বাঁশের ব্যাগও নতুনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেখানে চামড়ার হাতলকে বাঁশের মতো করে তৈরি করা হয়েছে। এই অংশটিকে অনেকেই প্রদর্শনীর সবচেয়ে স্মার্ট পদক্ষেপ বলছেন।

এছাড়া গুচির বিভিন্ন যুগের প্রতি ইঙ্গিত ছিল নকশায়। ফ্লোরা ছাপের সিল্ক পোশাক, লেইস বডিস্যুট, পশমি স্লাইড—সবই অতীতের স্মৃতিকে নতুনভাবে হাজির করেছে। সামনের সারিতে ছিলেন আলেসান্দ্রো মিকেলে ও ডোনাতেলা ভার্সাচেসহ একাধিক পরিচিত মুখ।

এখনো অসম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তন

প্রদর্শনীতে ঝলক, আত্মবিশ্বাস ও দেহমোহ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু নব্বই দশকের যে নির্ভার উল্লাস ও বিলাসী আনন্দ গুচিকে অনিবার্য করে তুলেছিল, সেটি পুরোপুরি ধরা পড়েনি। শেষ মুহূর্তে কেট মস যখন সামান্য অস্বস্তি লুকোতে পেছনে হাত রাখেন, অনেকের কাছে সেটিই যেন প্রতীক—গুচির প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে এখনো কিছুটা পথ বাকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছাড়লেন ১৭৩ রোগী

গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী

১২:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘদিন পর গুচির মঞ্চে আবারও শরীর, ঝলক আর আলোড়নের দাপট। নব্বই দশকে টম ফোর্ড যে তীব্র আকাঙ্ক্ষার ঢেউ তুলেছিলেন, সেটিকেই নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেন গুচির নতুন সৃজন পরিচালক ডেমনা। তবে চমক, তারকা আর সাহসী নকশা থাকলেও সেই পুরনো উন্মাদনা পুরোপুরি কি ফিরল? প্রশ্ন রয়ে গেল।

নব্বইয়ের স্মৃতি, নতুন মঞ্চ

১৯৯৫ সালে টম ফোর্ডের একটি প্রদর্শনী রাতারাতি গুচিকে বদলে দিয়েছিল। সেই সময় কেট মসের নীল সিল্কের শার্ট আর ভেলভেট হিপ-হাগার যেন বিলাসী জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। দোকানে ভিড় পড়েছিল, বাজার ভরে গিয়েছিল অনুকরণে।

বহু বছর পর গুচির মঞ্চে সেই ধরনের স্পন্দন ফেরানোর চেষ্টাই করলেন ডেমনা। তিনি কৃত্রিম জাদুঘরসদৃশ পটভূমিতে রোমান দেবতার ভাস্কর্যের আবহ তৈরি করেন। প্রদর্শনীর শেষ মুহূর্তে কেট মসকে ফেরানো হয় মঞ্চে। ঝলমলে কালো পোশাকে তার উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট বার্তা—গুচি আবার সাহসী, আবার দেহমুখী।

Let's Get Physical: Getting to Grips with Demna's New Gucci | BoF

শরীরঘেঁষা নকশার দাপট

এই প্রদর্শনীর মূল সুর ছিল শরীরকে জোরালোভাবে সামনে আনা। পোশাকগুলো এতটাই আঁটসাঁট যে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো যেন শরীরের ওপর আঁকা। নারীদের পোশাকে ছিল ঝকঝকে লেইস, ধাতব চামড়া আর ঝিলমিল জালের ব্যবহার। পুরুষদের পোশাকেও ছিল ঢিলেঢালা নিম্নাভিমুখী প্যান্ট, স্পষ্ট লোগো আর রাস্তার রুক্ষ ভাব।

মঞ্চে ছিলেন কার্লি ক্লস, এমিলি রাতাজকোভস্কি, র‍্যাপশিল্পী ফেকমিঙ্ক ও নেটস্পেন্ডসহ একাধিক পরিচিত মুখ। সব মিলিয়ে ছিল তারকাখচিত উপস্থিতি ও সাহসী বার্তা।

বিক্রি কমে যাওয়ার চাপ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুচির বিক্রি কমেছে। ফলে ব্র্যান্ডটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—আবারও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে ফেরা। টম ফোর্ডের সময় যেমন রূপকথার মতো উত্থান ঘটেছিল, তেমনই এক পরিবর্তনের প্রত্যাশা এখন ডেমনার কাছ থেকে।

তবে সমালোচকদের মতে, প্রদর্শনীটি যতটা সাহসী, ততটাই পরিকল্পিত। নব্বইয়ের উচ্ছ্বাস, স্বাধীনতা আর দুষ্টুমিভরা আবহ পুরোপুরি ধরা পড়েনি। স্মার্টফোনের যুগে দর্শক অনেক বেশি জানে, অনেক বেশি দেখে—ফলে চমক তৈরি করা আগের মতো সহজ নয়।

Demna Struts Into Gucci - The New York Times

ব্যাগেই বড় সাফল্য

সবকিছুর মাঝেও প্রদর্শনীর বড় শক্তি ছিল ব্যাগের সংগ্রহ। ১৯৬১ সালের জ্যাকি ব্যাগ নতুন রূপে এসেছে বড় আকার ও জিপার বন্ধে। ১৯৪৭ সালের বাঁশের ব্যাগও নতুনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেখানে চামড়ার হাতলকে বাঁশের মতো করে তৈরি করা হয়েছে। এই অংশটিকে অনেকেই প্রদর্শনীর সবচেয়ে স্মার্ট পদক্ষেপ বলছেন।

এছাড়া গুচির বিভিন্ন যুগের প্রতি ইঙ্গিত ছিল নকশায়। ফ্লোরা ছাপের সিল্ক পোশাক, লেইস বডিস্যুট, পশমি স্লাইড—সবই অতীতের স্মৃতিকে নতুনভাবে হাজির করেছে। সামনের সারিতে ছিলেন আলেসান্দ্রো মিকেলে ও ডোনাতেলা ভার্সাচেসহ একাধিক পরিচিত মুখ।

এখনো অসম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তন

প্রদর্শনীতে ঝলক, আত্মবিশ্বাস ও দেহমোহ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু নব্বই দশকের যে নির্ভার উল্লাস ও বিলাসী আনন্দ গুচিকে অনিবার্য করে তুলেছিল, সেটি পুরোপুরি ধরা পড়েনি। শেষ মুহূর্তে কেট মস যখন সামান্য অস্বস্তি লুকোতে পেছনে হাত রাখেন, অনেকের কাছে সেটিই যেন প্রতীক—গুচির প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে এখনো কিছুটা পথ বাকি।