১২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯ রাজশাহীতে গণপিটুনিতে নিহত এক, আহত ৭ ইরানের ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের বিস্তার রোধ করতে হবে ইরানে হামলার আগে মোদির ইসরায়েল সফর নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা

কয়েক মাস পরপরই দুবাইকে ঘিরে একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮.৫ বিলিয়ন দিরহাম) ব্যয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এমন একটি মিশ্র-ব্যবহার উন্নয়ন, যার আকৃতি হবে চাঁদের মতো বিশাল গোলক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান ও উদ্বোধনের সময় নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ালেও প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তবায়িত হবে, নাকি এটি ভাইরাল ধারণা হিসেবেই থেকে যাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মুন ওয়ার্ল্ড রিসোর্টস ইনকরপোরেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল আর হেন্ডারসন ও সান্দ্রা জি ম্যাথিউস সরাসরি কথা বলেছেন।

মুন প্রকল্প আসলে কী

মুন একটি বৃহৎ পর্যটনভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোলাকার স্থাপনা। এটি কোনো গম্বুজ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ গোলক—যার নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব।

এই বিশাল কাঠামোর ভেতরে থাকবে সমন্বিত রিসোর্ট। কনভেনশন ও ইভেন্ট সেন্টার, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কেন্দ্র, হোটেল, লাউঞ্জ ও রেস্টুরেন্ট—সবই থাকবে, তবে উদ্যোক্তাদের দাবি, এর প্রতিটি অংশ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার।

প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে কৃত্রিম চন্দ্রপৃষ্ঠ ও চন্দ্রঘাঁটি। দর্শনার্থীরা এমন এক পরিবেশে হাঁটার সুযোগ পাবেন, যা বাস্তব চাঁদের মাটির অভিজ্ঞতার মতো অনুভূতি দেবে। এখানে মহাকাশ প্রশিক্ষণ ও মহাকাশ পর্যটনের অভিজ্ঞতাও যুক্ত থাকবে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এটি কোনো সাধারণ থিম পার্ক নয়; বরং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় গোলকের চারপাশে থাকবে বৃহৎ লেগুন ও পার্ক এলাকা। এছাড়া থাকবে ১০ হাজার বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট। পুরো প্রকল্পটিকে একটি ক্ষুদ্র স্মার্ট সিটি হিসেবে ভাবা হয়েছে, যেখানে কাজ, বসবাস ও বিনোদন—সব একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

কেন দুবাইয়ের নাম বারবার উঠে আসছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটি একাধিকবার ভাইরাল হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি। তবে সব তথ্য যে সঠিকভাবে প্রচারিত হচ্ছে, তা নয়।

মুন ওয়ার্ল্ড রিসোর্টস মূলত একটি নকশা ও মেধাস্বত্ব লাইসেন্সিং প্রতিষ্ঠান, যার সদরদপ্তর কানাডায়। তারা সরাসরি নির্মাণ করবে না; বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১০টি মুন প্রকল্প লাইসেন্স দিতে চায়।

Moon Dubai: Is the Ambitious $5 Billion Project Set to Launch?

লাতিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, ওশেনিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য—সব অঞ্চলই তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবশ্যই একটি মুন প্রকল্প হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি সম্পৃক্ততা ও শক্তিশালী আঞ্চলিক উন্নয়ন অংশীদার।

দুবাইয়ের প্রতি আগ্রহের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। মহাকাশ পর্যটন এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনায়। দুবাইয়ের ব্র্যান্ড আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। আর চাঁদ এমন একটি প্রতীক, যা বিশ্বজুড়ে সবার কাছে পরিচিত। এই তিনটি উপাদানের সমন্বয় দুবাইকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সামনে এনেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত নাকি অন্য দেশ

সৌদি আরবের নামও আলোচনায় আসে। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, বাস্তবতা ও আর্থিক হিসাব বিবেচনায় সৌদি আরব আপাতত উপযুক্ত নয়। প্রকল্পটি যৌক্তিক ও গাণিতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিকল্পিত, এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য হতে হবে।

বাহরাইন ও ওমান আংশিকভাবে উপযুক্ত হতে পারে। কাতারও একটি সম্ভাব্য প্রতিযোগী। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন সক্ষমতায় অনেক এগিয়ে। দুবাই ও আবুধাবি—উভয় শহরেই প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রয়েছে।

সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিউস জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো অলস বা অকার্যকর প্রকল্প নয়। বরং যেখানে নির্মিত হবে, সেখানকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব ফেলবে। পর্যটন, নির্মাণ, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সুস্থতা—বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অভিজ্ঞতাটি হবে বাস্তবসম্মত ও বিস্ময়কর।

সময়সীমা, ব্যয় ও বাস্তবতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২৭ সালে দুবাইয়ে উদ্বোধনের গুঞ্জন শোনা গেলেও উদ্যোক্তারা তা নাকচ করেছেন। বাস্তবসম্মত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে নির্মাণ শুরু হলে প্রথম মুন প্রকল্প চালু হতে পারে ২০৩২ সালের দিকে। বড় প্রকল্পে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগাই স্বাভাবিক।

একটি প্রকল্প সম্পন্ন হলে পরবর্তী প্রকল্পগুলো নির্মাণ সহজ হবে, কারণ প্রায় ৯৫ শতাংশ নকশা একই থাকবে।

চন্দ্রপৃষ্ঠ অভিজ্ঞতার জন্য ৯০ মিনিটের টিকিট মূল্য ধরা হয়েছে ৫০০ ডলার। উদ্যোক্তাদের মতে, এটি একটি বড় কনসার্টের টিকিটের সমান। বছরে প্রায় ২৫ লাখ দর্শনার্থীকে এই অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পে থাকবে চার হাজার স্যুইটের পাঁচতারকা হোটেল, যা বিলাসবহুল হলেও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সেবা দেবে। পাশাপাশি থাকবে উচ্চমূল্যের একটি ছোট বুটিক হোটেল।

কেন এখনো চূড়ান্ত অংশীদার নেই

আঞ্চলিক উন্নয়ন অংশীদার এখনো নির্ধারিত হয়নি। কারণ অধিকাংশ স্থানীয় ডেভেলপার স্বল্পমেয়াদি আবাসন প্রকল্পে বেশি আগ্রহী, যেখানে দ্রুত বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু মুন একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন সম্পদ, যা সময় নিয়ে আয় দেবে।

উদ্যোক্তাদের মতে, অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানই এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম। সরকারি সম্পৃক্ততা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে মুন দুবাই কি সত্যিই আসছে

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা দৃঢ়। কাগজে-কলমে সংযুক্ত আরব আমিরাত যথেষ্ট উপযুক্ত, আর দুবাই সেই গল্পের সঙ্গে মানানসই—যা জনমনে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে।

এখন অপেক্ষা শুধু সরকারি সমর্থন ও সঠিক উন্নয়ন অংশীদারের।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী

মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা

১০:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

কয়েক মাস পরপরই দুবাইকে ঘিরে একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮.৫ বিলিয়ন দিরহাম) ব্যয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এমন একটি মিশ্র-ব্যবহার উন্নয়ন, যার আকৃতি হবে চাঁদের মতো বিশাল গোলক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান ও উদ্বোধনের সময় নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ালেও প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তবায়িত হবে, নাকি এটি ভাইরাল ধারণা হিসেবেই থেকে যাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রকল্পটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মুন ওয়ার্ল্ড রিসোর্টস ইনকরপোরেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল আর হেন্ডারসন ও সান্দ্রা জি ম্যাথিউস সরাসরি কথা বলেছেন।

মুন প্রকল্প আসলে কী

মুন একটি বৃহৎ পর্যটনভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোলাকার স্থাপনা। এটি কোনো গম্বুজ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ গোলক—যার নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব।

এই বিশাল কাঠামোর ভেতরে থাকবে সমন্বিত রিসোর্ট। কনভেনশন ও ইভেন্ট সেন্টার, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কেন্দ্র, হোটেল, লাউঞ্জ ও রেস্টুরেন্ট—সবই থাকবে, তবে উদ্যোক্তাদের দাবি, এর প্রতিটি অংশ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার।

প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে কৃত্রিম চন্দ্রপৃষ্ঠ ও চন্দ্রঘাঁটি। দর্শনার্থীরা এমন এক পরিবেশে হাঁটার সুযোগ পাবেন, যা বাস্তব চাঁদের মাটির অভিজ্ঞতার মতো অনুভূতি দেবে। এখানে মহাকাশ প্রশিক্ষণ ও মহাকাশ পর্যটনের অভিজ্ঞতাও যুক্ত থাকবে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এটি কোনো সাধারণ থিম পার্ক নয়; বরং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় গোলকের চারপাশে থাকবে বৃহৎ লেগুন ও পার্ক এলাকা। এছাড়া থাকবে ১০ হাজার বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট। পুরো প্রকল্পটিকে একটি ক্ষুদ্র স্মার্ট সিটি হিসেবে ভাবা হয়েছে, যেখানে কাজ, বসবাস ও বিনোদন—সব একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

কেন দুবাইয়ের নাম বারবার উঠে আসছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটি একাধিকবার ভাইরাল হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি। তবে সব তথ্য যে সঠিকভাবে প্রচারিত হচ্ছে, তা নয়।

মুন ওয়ার্ল্ড রিসোর্টস মূলত একটি নকশা ও মেধাস্বত্ব লাইসেন্সিং প্রতিষ্ঠান, যার সদরদপ্তর কানাডায়। তারা সরাসরি নির্মাণ করবে না; বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১০টি মুন প্রকল্প লাইসেন্স দিতে চায়।

Moon Dubai: Is the Ambitious $5 Billion Project Set to Launch?

লাতিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, ওশেনিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য—সব অঞ্চলই তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবশ্যই একটি মুন প্রকল্প হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি সম্পৃক্ততা ও শক্তিশালী আঞ্চলিক উন্নয়ন অংশীদার।

দুবাইয়ের প্রতি আগ্রহের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। মহাকাশ পর্যটন এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনায়। দুবাইয়ের ব্র্যান্ড আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। আর চাঁদ এমন একটি প্রতীক, যা বিশ্বজুড়ে সবার কাছে পরিচিত। এই তিনটি উপাদানের সমন্বয় দুবাইকে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সামনে এনেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত নাকি অন্য দেশ

সৌদি আরবের নামও আলোচনায় আসে। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, বাস্তবতা ও আর্থিক হিসাব বিবেচনায় সৌদি আরব আপাতত উপযুক্ত নয়। প্রকল্পটি যৌক্তিক ও গাণিতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিকল্পিত, এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য হতে হবে।

বাহরাইন ও ওমান আংশিকভাবে উপযুক্ত হতে পারে। কাতারও একটি সম্ভাব্য প্রতিযোগী। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত অবকাঠামো, বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন সক্ষমতায় অনেক এগিয়ে। দুবাই ও আবুধাবি—উভয় শহরেই প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রয়েছে।

সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিউস জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো অলস বা অকার্যকর প্রকল্প নয়। বরং যেখানে নির্মিত হবে, সেখানকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় প্রভাব ফেলবে। পর্যটন, নির্মাণ, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সুস্থতা—বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অভিজ্ঞতাটি হবে বাস্তবসম্মত ও বিস্ময়কর।

সময়সীমা, ব্যয় ও বাস্তবতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০২৭ সালে দুবাইয়ে উদ্বোধনের গুঞ্জন শোনা গেলেও উদ্যোক্তারা তা নাকচ করেছেন। বাস্তবসম্মত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে নির্মাণ শুরু হলে প্রথম মুন প্রকল্প চালু হতে পারে ২০৩২ সালের দিকে। বড় প্রকল্পে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগাই স্বাভাবিক।

একটি প্রকল্প সম্পন্ন হলে পরবর্তী প্রকল্পগুলো নির্মাণ সহজ হবে, কারণ প্রায় ৯৫ শতাংশ নকশা একই থাকবে।

চন্দ্রপৃষ্ঠ অভিজ্ঞতার জন্য ৯০ মিনিটের টিকিট মূল্য ধরা হয়েছে ৫০০ ডলার। উদ্যোক্তাদের মতে, এটি একটি বড় কনসার্টের টিকিটের সমান। বছরে প্রায় ২৫ লাখ দর্শনার্থীকে এই অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পে থাকবে চার হাজার স্যুইটের পাঁচতারকা হোটেল, যা বিলাসবহুল হলেও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সেবা দেবে। পাশাপাশি থাকবে উচ্চমূল্যের একটি ছোট বুটিক হোটেল।

কেন এখনো চূড়ান্ত অংশীদার নেই

আঞ্চলিক উন্নয়ন অংশীদার এখনো নির্ধারিত হয়নি। কারণ অধিকাংশ স্থানীয় ডেভেলপার স্বল্পমেয়াদি আবাসন প্রকল্পে বেশি আগ্রহী, যেখানে দ্রুত বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু মুন একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন সম্পদ, যা সময় নিয়ে আয় দেবে।

উদ্যোক্তাদের মতে, অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানই এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম। সরকারি সম্পৃক্ততা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে মুন দুবাই কি সত্যিই আসছে

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা দৃঢ়। কাগজে-কলমে সংযুক্ত আরব আমিরাত যথেষ্ট উপযুক্ত, আর দুবাই সেই গল্পের সঙ্গে মানানসই—যা জনমনে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে।

এখন অপেক্ষা শুধু সরকারি সমর্থন ও সঠিক উন্নয়ন অংশীদারের।