শুক্রবার সকালে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। ভূমিকম্পের প্রভাবে সড়ক, সরকারি ভবন ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীতেও কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। নতুন বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে থাকা প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম-এর বক্তব্যও কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ছয় দশমিক পাঁচ। উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলবর্তী গুয়েরেরো রাজ্যের কাছে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের কেন্দ্র থেকে প্রায় একশো আশি মাইল দূরের রাজধানী মেক্সিকো সিটিতেও তীব্র দোলন অনুভূত হয়।
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
গুয়েরেরো রাজ্যে একটি বাড়ি ধসে পড়ায় পঞ্চাশ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন বলে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে। রাজধানীতে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে সাতষট্টি বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর রাজ্যজুড়ে সড়কে ধস, গ্যাস লিক এবং ঘরবাড়ি ও হাসপাতালের ক্ষতির তথ্য সামনে আসে।
রাজধানীতে আতঙ্কের মুহূর্ত
সকাল আটটার কিছু আগে সতর্কতা অ্যালার্ম বাজতেই মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। অনেককে তোয়ালে কিংবা ঘুমের পোশাকেই বের হতে দেখা যায়, কারও কোলে ছিল আতঙ্কিত পোষা প্রাণী। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে অবস্থিত স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের সোনালি দেবদূত দুলতে থাকে, যা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন
জাতীয় প্রাসাদে চলমান সংবাদ সম্মেলনের মাঝেই কম্পন শুরু হলে প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম শান্তভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবার সম্মেলন শুরু করেন।
পরবর্তী কম্পন ও বিমান চলাচল
দুপুর পর্যন্ত দেশটির ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থা চার শতাধিক পরবর্তী কম্পনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল চার দশমিক সাত। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী ও আকাপুলকোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামান্য ক্ষতি হলেও উড়োজাহাজ চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনি।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















