সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট শহর ক্রঁ-মন্তানা-তে নববর্ষের রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বার অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় শতাধিক মানুষ এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আহতদের বড় একটি অংশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশেষ বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আগুনের উৎস নিয়ে প্রাথমিক ধারণা
স্থানীয় কৌঁসুলি কার্যালয়ের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লে কনস্টেলেশন নামের বারে উদ্যাপনের সময় ব্যবহৃত ঝলমলে আতশবাজি ধরনের মোমবাতি বা শ্যাম্পেন বোতলে লাগানো আলো ছাদে খুব কাছে নিয়ে যাওয়ার কারণেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বারে তা ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তকারীরা ছাদের ইনসুলেশন উপাদান আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

পরিচয় শনাক্তে কঠিন চ্যালেঞ্জ
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ লাশগুলোর অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে পরিচয় শনাক্ত করতে সময় লাগছে। সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব মৃতের নাম প্রকাশে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। ইতিমধ্যে আহতদের মধ্যে বহুজনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও নিহতদের পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করা এখনো সম্ভব হয়নি।
ইউরোপজুড়ে চিকিৎসা, জীবন-মৃত্যুর লড়াই
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, অন্তত ৫০ জন আহতকে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের বড় অংশ তরুণ, যাঁরা নববর্ষ উদ্যাপনে বারে উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেকেই এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

নিখোঁজদের খোঁজে পরিবার-পরিজন
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ তরুণদের পরিবার ও বন্ধুরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতালি ও ফ্রান্সসহ একাধিক দেশের দূতাবাস নিজেদের নাগরিকদের খোঁজে তৎপর। ঘটনাস্থলের বাইরে স্বজনদের কান্না আর অপেক্ষার দৃশ্য হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে।
শহরজুড়ে শোক ও নীরবতা
ক্রঁ-মন্তানা শহরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। বারের সামনে ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। অনেকের ভাষায়, এটি আধুনিক সুইজারল্যান্ডের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















