০২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

আমার মতো আর কারও না হোক

রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক পরিবার তার মতো সর্বস্ব হারাবে। তার একটাই আকুতি—নিজের মতো আর যেন কোনো নারীর জীবন এমনভাবে ভেঙে না পড়ে।

বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুরাইয়া বেগম বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড নতুন নয়। আগেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। এসব ঘটনায় যদি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। এতে অন্তত ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

স্বামীর শেষ কথার স্মৃতি তুলে ধরে আবেগাপ্লুত সুরাইয়া বেগম বলেন, ঘটনার আগের সন্ধ্যায় মুছাব্বির তাকে এক কাপ কফি বানিয়ে দিতে বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নামাজ পড়ে বাইরে যাবেন। সেই কথাই ছিল তার জীবনের শেষ কথা।

সুরাইয়া জানান, বাইরে গেলে তার স্বামী খুব বেশি ফোন করতেন না এবং কার সঙ্গে আছেন সেটিও বিস্তারিত জানাতেন না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মুছাব্বিরের মোবাইল ফোন নজরদারিতে ছিল বলে তিনি মনে করতেন।

ঘটনার পেছনে কাউকে সন্দেহ করছেন কি না—এমন প্রশ্নে সুরাইয়া বেগম বলেন, তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করতে পারছেন না। তিনি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, সংসার আর সন্তানদের দেখভালই ছিল তার প্রধান দায়িত্ব।

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

স্বামীর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, রাজনীতির পাশাপাশি মুছাব্বির প্রায় ২০ বছর ধরে পানি সরবরাহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা শহরে এই ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে তাদের বড় ভূমিকা ছিল। তিনি ২০২০ সালে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কয়েক দিন আগেই মুছাব্বির তাকে জানিয়েছিলেন, এখন দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই তিনি অনুসরণ করবেন।

স্বামীহারা এই নারীর সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে, এক মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং বড় মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।

স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করতে হয়েছিল।

তার পরিচিত মো. শাহিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে মুছাব্বির ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর সমিতির একটি অনুষ্ঠান শেষে স্টার কাবাবের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

আমার মতো আর কারও না হোক

০৯:১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক পরিবার তার মতো সর্বস্ব হারাবে। তার একটাই আকুতি—নিজের মতো আর যেন কোনো নারীর জীবন এমনভাবে ভেঙে না পড়ে।

বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুরাইয়া বেগম বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড নতুন নয়। আগেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে, ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। এসব ঘটনায় যদি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। এতে অন্তত ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

স্বামীর শেষ কথার স্মৃতি তুলে ধরে আবেগাপ্লুত সুরাইয়া বেগম বলেন, ঘটনার আগের সন্ধ্যায় মুছাব্বির তাকে এক কাপ কফি বানিয়ে দিতে বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নামাজ পড়ে বাইরে যাবেন। সেই কথাই ছিল তার জীবনের শেষ কথা।

সুরাইয়া জানান, বাইরে গেলে তার স্বামী খুব বেশি ফোন করতেন না এবং কার সঙ্গে আছেন সেটিও বিস্তারিত জানাতেন না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মুছাব্বিরের মোবাইল ফোন নজরদারিতে ছিল বলে তিনি মনে করতেন।

ঘটনার পেছনে কাউকে সন্দেহ করছেন কি না—এমন প্রশ্নে সুরাইয়া বেগম বলেন, তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করতে পারছেন না। তিনি রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, সংসার আর সন্তানদের দেখভালই ছিল তার প্রধান দায়িত্ব।

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা

স্বামীর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, রাজনীতির পাশাপাশি মুছাব্বির প্রায় ২০ বছর ধরে পানি সরবরাহ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা শহরে এই ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে তাদের বড় ভূমিকা ছিল। তিনি ২০২০ সালে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কয়েক দিন আগেই মুছাব্বির তাকে জানিয়েছিলেন, এখন দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই তিনি অনুসরণ করবেন।

স্বামীহারা এই নারীর সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে, এক মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং বড় মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।

স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করতে হয়েছিল।

তার পরিচিত মো. শাহিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে মুছাব্বির ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর সমিতির একটি অনুষ্ঠান শেষে স্টার কাবাবের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।