জাপানের পোশাক খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং চলতি অর্থবছরের আয় ও মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। শক্তিশালী বিক্রি আর মুনাফার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী আগস্টে শেষ হওয়া অর্থবছরে তাদের মোট আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং নিট মুনাফাও ইতিবাচক গতিতে এগোবে। জাপান ও চীনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আশঙ্কা থাকলেও আপাতত সেই প্রভাব ব্যবসায় পড়েনি বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন পূর্বাভাসে কী বলছে প্রতিষ্ঠান
ফাস্ট রিটেইলিং এর হিসাবে, আসন্ন অর্থবছরে মোট বিক্রি আগের বছরের তুলনায় প্রায় বারো শতাংশ বেড়ে পৌঁছাতে পারে বিশাল অঙ্কে। একই সময়ে নিট মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের গড় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। পরিচালন মুনাফার ক্ষেত্রেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সংশোধিত পূর্বাভাস আগের অক্টোবর মাসে দেওয়া হিসাবের তুলনায় অনেকটাই আশাব্যঞ্জক।
নভেম্বর প্রান্তিকে শক্ত ভিত
এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নভেম্বর মাসে শেষ হওয়া তিন মাসের ফলাফল। ওই সময়ে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের মোট বিক্রি দ্বিগুণ অঙ্কের কাছাকাছি হারে বেড়েছে এবং পরিচালন মুনাফায় লাফ দেখা গেছে। নিট মুনাফাও একই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পুরো বছরের হিসাবকে শক্ত ভিত দিয়েছে।
বিদেশি বাজারে ইউনিক্লোর দাপট
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ব্র্যান্ড ইউনিক্লো বিদেশি বাজারে বিশেষ করে শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে। জাপানের বাইরে ইউনিক্লোর বিক্রি বড় হারে বেড়েছে, পাশাপাশি দেশীয় বাজারেও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। মূল ভূখণ্ড চীনে বিক্রি ও মুনাফা উভয়ই বেড়েছে, যদিও বেইজিং ও টোকিওর কূটনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল।

চীনে আবহাওয়া ও বিপণনের প্রভাব
চীনে অক্টোবরের শেষ দিকে ঠান্ডা পড়তে শুরু করায় মৌসুমি পোশাকের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। এর সঙ্গে সফল বিপণন কৌশল যুক্ত হয়ে বিক্রিকে টেনে তোলে। অনলাইন ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে কিছুটা মন্দা দেখা দিলেও জানুয়ারিতে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পর্যটক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা
চীনা পর্যটকেরা জাপানে ইউনিক্লোর দোকানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। বৃহত্তর চীন অঞ্চলে ইউনিক্লোর বিপুলসংখ্যক দোকান রয়েছে এবং এই অঞ্চল ব্র্যান্ডটির মোট বিক্রির বড় অংশ জুড়ে আছে। তবে তাইওয়ান প্রসঙ্গকে ঘিরে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা, ভ্রমণ সতর্কতা ও ফ্লাইট কমে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বার্তা
ফাস্ট রিটেইলিংয়ের অর্থবিষয়ক প্রধান তাকেশি ওকাজাকি বলেছেন, পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা কঠিন। তবে গ্রাহকের চাহিদা সঠিকভাবে বুঝে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা চালাতে পারলেই সাফল্য আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
আগের বছরের চ্যালেঞ্জ
উল্লেখ্য, আগের অর্থবছরে বৃহত্তর চীন অঞ্চলে ভোক্তা চাহিদা দুর্বল থাকায় ফাস্ট রিটেইলিং কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। পুনর্গঠন কার্যক্রমের কারণে আয় ও ব্যবসায়িক মুনাফা তখন কমেছিল। চলতি বছরের শক্ত ফলাফল সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Sarakhon Report 



















