বহু ডিভাইসে কাজ করা সহজ করছে নতুন উপায়
[লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত সিইএস প্রযুক্তি মেলায় একটি ক্ষুদ্র মহাকাশচারী আকৃতির ডংগল মনোযোগ কেড়েছে। হার্ডওয়্যার নির্মাতা জে৫ক্রিয়েট তৈরি করা এই ৭০ ডলারের ইউএসবি‑সি ডংগলটি উইন্ডোজ ল্যাপটপ ও অ্যাপলের আইপ্যাডের মধ্যে বেতার সংযোগ গড়ে দেয়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ছবি, নথি এবং অন্যান্য ফাইল সহজে আদান‑প্রদান করতে পারেন; পাশাপাশি দুটি পর্দার মধ্যে মিররিং করা এবং একই মাউস‑কীবোর্ড শেয়ার করা সম্ভব। পনের বছর আগে জে৫ক্রিয়েট এমন একটি কেবল চালু করেছিল যাতে পিসি ও ম্যাকের মধ্যে ড্র্যাগ‑অ্যান্ড‑ড্রপ করা যেত। নতুন ডংগলটি সেই ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে, কারণ এখন অনেক মানুষ একাধিক ডিভাইস ও অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন। ডংগলটি ল্যাপটপের ইউএসবি‑সি পোর্টে লাগিয়ে আইপ্যাডে সমন্বিত অ্যাপ চালু করলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দুই ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয় এবং ফাইল আদান‑প্রদান করা যায়। যে পর্দা মিরর করা হবে, সেটি অপর ডিভাইসে একটি উইন্ডোর মাধ্যমে দেখা যায়—যা উপস্থাপনা বা সৃজনশীল কাজে সুবিধা দেয়।
খেলনার মতো চেহারার পেছনে রয়েছে কার্যকরী উদ্দেশ্য। দূরবর্তী কাজ ও ডিজিটাল নোম্যাড জীবনে অনেকেই ট্যাবলেট দিয়ে নোট নেওয়া বা স্কেচ করার পাশাপাশি উইন্ডোজ ল্যাপটপে ভারি সফটওয়্যার চালান। আগে এই দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করতে ক্লাউড স্টোরেজ বা আলাদা কেবল লাগত। জে৫ক্রিয়েটের ডংগল বেতার সংযোগ ব্যবহার করে সরাসরি সেতুবন্ধ তৈরি করে—বিশেষত যাদের ইন্টারনেট সীমিত। কোম্পানিটি বলছে, এটি ওয়াই‑ফাই ডিরেক্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাতে রাউটার ছাড়াই দ্রুত ফাইল ট্রান্সফার সম্ভব। তবে মেলার মতো ব্যস্ত স্থানে পরীক্ষাকারীরা লেটেন্সি ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। তারপরও অল্প সময়ে ক্রস‑প্ল্যাটফর্ম কাজকে সহজ করে তোলার জন্য ডিভাইসটি প্রশংসা পেয়েছে।
ফাইল শেয়ারের চেয়ে বেশি সুবিধা
ডংগলের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মাউস ও কীবোর্ড দুই ডিভাইসে শেয়ার করতে দেয়, ফলে আইপ্যাড দ্বিতীয় পর্দা বা গ্রাফিক ট্যাবলেট হিসেবে কাজ করে। সংযোগ সক্রিয় থাকলে ল্যাপটপের পর্দার কিনারে কার্সর নিয়ে গেলে তা আইপ্যাডে চলে যায়—অ্যাপলের ইউনিভার্সাল কন্ট্রোলের মতো, তবে এখন দুই ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে। এতে শিল্পীরা আইপ্যাডে আঁকা স্কেচ তৎক্ষণাৎ উইন্ডোজ সফটওয়্যারে নিতে পারবেন, আবার অফিস কর্মীরা এক পর্দায় ইমেইল ও অন্য পর্দায় নথি সম্পাদনা করতে পারবেন। ডংগলটি স্ক্রিন রেকর্ডিং ও স্ক্রিনশট ধারণের সুবিধাও দেয়, যা শিক্ষক, লাইভ স্ট্রিমার ও প্রযুক্তি সহায়তাকারীদের কাজে লাগবে।
সিইএসে মেলাটি ডিভাইসের মধ্যে দেয়াল ভাঙার প্রবণতা তুলে ধরে। অনেক ল্যাপটপ এখন একই সঙ্গে উইন্ডোজ ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ চালাতে পারে; গেমিং কনসোল থেকে ট্যাবলেটে স্ট্রিম করা যায়। তবে এই মহাকাশচারী ডংগলটি বিশেষ কারণ এটি অ্যাপলের রক্ষনশীল ইকোসিস্টেম ও উইন্ডোজ জগতের মধ্যে সেতুবন্ধনে লক্ষ্য রাখে। সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ: আইপ্যাডের বিক্রি ভালো হলেও অনেক সৃজনশীল ও প্রকৌশলী সফটওয়্যার এখনও উইন্ডোজে সীমাবদ্ধ। এমন একটি সেতু সরঞ্জাম ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে। কোম্পানি বলছে, শিক্ষার্থী, ডিজাইনার ও অফিস কর্মীদের কাছ থেকে চাহিদার আভাস মিলছে।
প্রথম প্রজন্মের যেকোনো পণ্যের মতো কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়—ভবিষ্যৎ অপারেটিং সিস্টেম আপডেটে ডংগলটি কতটা টেকসই হবে বা নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা নিশ্চিত। জে৫ক্রিয়েট জানিয়েছে, ডংগলের মাধ্যমে স্থানান্তরিত ডেটা এনক্রিপ্ট করা এবং কেবল সংযুক্ত ডিভাইসেই থাকে; তারা ফার্মওয়্যার আপডেটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আপাতত, এই ক্ষুদ্র মহাকাশচারী ডিভাইসটি ক্রস‑প্ল্যাটফর্ম কাজকে সহজ করার জন্য ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হলে মাইক্রোসফ্ট ও অ্যাপল তাদের ইকোসিস্টেম আরও উন্মুক্ত করতে পারে, কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীরা অনুরূপ প্রযুক্তি বানাতে উৎসাহিত হতে পারে। যাই হোক, আপনার ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের মাঝে হয়তো শীঘ্রই একটি ছোট মহাকাশচারী জায়গা করে নেবে, যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে আরও মজায় কাজ করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















