০৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি টিসিবির পণ্য না পেয়ে ক্ষোভে ফুটছে কুড়িগ্রামের কার্ডধারীরা, তিন দিন লাইনে থেকেও মিলছে না সহায়তা গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ: জাহেদ উর রহমান নিজামীর ছেলের এনসিপিতে যোগ, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত ব্যাংককে তাপমাত্রা নয়, তাপ অনুভূতি ৫২ ডিগ্রি ছাড়াল, চরম বিপদের সতর্কতা জারি

মার্কিনদের মতে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক নেতৃত্বে পিছিয়ে, তবে তারা পরিবর্তন চায়

জরিপে বৈপরীত্য, চীনের উত্থান ও নীতিতে বিভাজন

এনপিআর ও ইপসোস পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পূর্তিতে অনেক আমেরিকান তাদের দেশের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে দ্বিধায় আছেন। ১,০২১ প্রাপ্তবয়স্কের উপর করা এই জরিপে দেখা গেছে, দুই‑তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রকে নৈতিক নেতৃত্ব দিতে দেখতে চান, কিন্তু মাত্র ৪০ শতাংশ মনে করেন দেশটি বর্তমানে সে ভূমিকা পালন করছে। ইপসোসের জনমত বিষয়ক সহ‑সভাপতি ম্যালরি নিউওয়াল বলেন, ২০১৭ সালের অনুরূপ জরিপের তুলনায় আস্থার এই অবক্ষয় উল্লেখযোগ্য। ত্রুটি সীমা ±৩.৩ শতাংশ পয়েন্ট হলেও প্রবণতা পরিষ্কার: মানুষ নৈতিক স্পষ্টতা চায় কিন্তু নেতৃত্বের প্রতি সন্দিহান।

জরিপে জাতীয় ক্ষমতা নিয়েও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের প্রধান সামরিক শক্তি মনে করলেও অর্ধেক বলছেন, গত পাঁচ বছরে দেশটির প্রভাব কমেছে। ৫৭ শতাংশ মনে করেন চীনের প্রভাব বাড়ছে, এবং চারজনের মধ্যে দুইজন মনে করেন প্রযুক্তি উন্নয়নে এখন চীন এগিয়ে—যেখানে মাত্র ২৩ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রণী বলেছেন। এই পরিবর্তনের মূল কারণ ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতি ও ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান, যা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে টানাপোড়েনে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নীতির ফলে বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি বদলেছে।

Hostility toward the U.S. in China has dropped sharply, new poll shows

বিদেশনীতি নিয়ে মতভেদ ও মূল্যবোধের সংঘাত

বিদেশনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি; ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই মত মাত্র ২৯ শতাংশের। বরং ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রচারে গুরুত্ব দিতে চান, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই মত ১৬ শতাংশের। স্বতন্ত্ররা বিভক্ত; ৪৫ শতাংশ তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেন, ৩৫ শতাংশ বৈশ্বিক মূল্যের পক্ষে। এই বিভাজন ইউক্রেনে সহায়তা নিয়েও দেখা যায়: ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৪৩ শতাংশ স্বতন্ত্র মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে যথেষ্ট সাহায্য করছে না, অথচ এক‑তৃতীয়াংশ রিপাবলিকান মনে করেন সহায়তা অতিরিক্ত। একইভাবে, ৬২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে খুব বেশি সুবিধা দিচ্ছে, কিন্তু এই মত ৩২ শতাংশ রিপাবলিকানের।

তাইওয়ান নিয়ে অঙ্গীকারও বিতর্কিত। জরিপে দেখা গেছে, চীন দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করলে মাত্র ৩৬ শতাংশ আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের সেনা পাঠানোর দায়িত্ব আছে বলে মনে করেন; ৪১ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে দীর্ঘ সংঘাতের পর জনগণ নতুন সামরিক জটিলতায় জড়াতে অনিচ্ছুক। অর্থনৈতিক উদ্বেগও বৈদেশিক নীতির ধারণাকে প্রভাবিত করছে; যারা মুদ্রাস্ফীতি ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, তারা দেশের বাইরে সামরিক জড়িতিতে কম আগ্রহী। জরিপকারীরা উল্লেখ করেন, বৈদেশিক বিষয়ে মতামত ক্রমেই ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় মিডিয়া খরচের সঙ্গে জড়িত।

US viewed more positively as China sinks in approval, poll shows | Politics  News | Al Jazeera

এই তথ্য এমন সময়ে এসেছে যখন ট্রাম্পের নীতি দীর্ঘদিনের মিত্রতায় চাপ সৃষ্টি করেছে। তার উচ্চ শুল্ক ইউরোপ ও এশিয়ার অংশীদারদের ক্ষুব্ধ করেছে এবং জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা প্রতিবাদ উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে চীন দ্রুত তার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব বাড়াচ্ছে, যা অনেক আমেরিকানকে উদ্বিগ্ন করছে। তারা মনে করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বার্তা হয়তো কর্তৃত্ববাদী উন্নয়নের মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এ কারণে অংশগ্রহণকারীরা নৈতিক নেতৃত্ব চান, কিন্তু কঠোর ভূরাজনীতি ও ঘরোয়া অর্থনৈতিক চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।

সব মিলিয়ে জরিপটি দেখায়, আমেরিকানরা একটি নতুন পথ খুঁজছে। তারা শক্তিশালী সামরিক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি চায়, কিন্তু একই সঙ্গে এমন একটি দেশ চায় যাকে মূল্যবোধের জন্য সম্মান করা হবে। এই ভারসাম্য অর্জন করতে নীতি পরিবর্তন ও জাতীয় আলোচনার প্রয়োজন হবে। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে জনমতের এই দ্বিধা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র কি বাড়িতে আস্থা ও বাইরে সম্মান ফিরে পেতে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে দলীয় বিভাজন কমিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ কৌশল গ্রহণের উপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি

মার্কিনদের মতে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক নেতৃত্বে পিছিয়ে, তবে তারা পরিবর্তন চায়

০৫:৫১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

জরিপে বৈপরীত্য, চীনের উত্থান ও নীতিতে বিভাজন

এনপিআর ও ইপসোস পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পূর্তিতে অনেক আমেরিকান তাদের দেশের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়ে দ্বিধায় আছেন। ১,০২১ প্রাপ্তবয়স্কের উপর করা এই জরিপে দেখা গেছে, দুই‑তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী যুক্তরাষ্ট্রকে নৈতিক নেতৃত্ব দিতে দেখতে চান, কিন্তু মাত্র ৪০ শতাংশ মনে করেন দেশটি বর্তমানে সে ভূমিকা পালন করছে। ইপসোসের জনমত বিষয়ক সহ‑সভাপতি ম্যালরি নিউওয়াল বলেন, ২০১৭ সালের অনুরূপ জরিপের তুলনায় আস্থার এই অবক্ষয় উল্লেখযোগ্য। ত্রুটি সীমা ±৩.৩ শতাংশ পয়েন্ট হলেও প্রবণতা পরিষ্কার: মানুষ নৈতিক স্পষ্টতা চায় কিন্তু নেতৃত্বের প্রতি সন্দিহান।

জরিপে জাতীয় ক্ষমতা নিয়েও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের প্রধান সামরিক শক্তি মনে করলেও অর্ধেক বলছেন, গত পাঁচ বছরে দেশটির প্রভাব কমেছে। ৫৭ শতাংশ মনে করেন চীনের প্রভাব বাড়ছে, এবং চারজনের মধ্যে দুইজন মনে করেন প্রযুক্তি উন্নয়নে এখন চীন এগিয়ে—যেখানে মাত্র ২৩ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রণী বলেছেন। এই পরিবর্তনের মূল কারণ ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতি ও ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান, যা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে টানাপোড়েনে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নীতির ফলে বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি বদলেছে।

Hostility toward the U.S. in China has dropped sharply, new poll shows

বিদেশনীতি নিয়ে মতভেদ ও মূল্যবোধের সংঘাত

বিদেশনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি; ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই মত মাত্র ২৯ শতাংশের। বরং ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রচারে গুরুত্ব দিতে চান, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই মত ১৬ শতাংশের। স্বতন্ত্ররা বিভক্ত; ৪৫ শতাংশ তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেন, ৩৫ শতাংশ বৈশ্বিক মূল্যের পক্ষে। এই বিভাজন ইউক্রেনে সহায়তা নিয়েও দেখা যায়: ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৪৩ শতাংশ স্বতন্ত্র মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে যথেষ্ট সাহায্য করছে না, অথচ এক‑তৃতীয়াংশ রিপাবলিকান মনে করেন সহায়তা অতিরিক্ত। একইভাবে, ৬২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে খুব বেশি সুবিধা দিচ্ছে, কিন্তু এই মত ৩২ শতাংশ রিপাবলিকানের।

তাইওয়ান নিয়ে অঙ্গীকারও বিতর্কিত। জরিপে দেখা গেছে, চীন দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করলে মাত্র ৩৬ শতাংশ আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্রের সেনা পাঠানোর দায়িত্ব আছে বলে মনে করেন; ৪১ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে দীর্ঘ সংঘাতের পর জনগণ নতুন সামরিক জটিলতায় জড়াতে অনিচ্ছুক। অর্থনৈতিক উদ্বেগও বৈদেশিক নীতির ধারণাকে প্রভাবিত করছে; যারা মুদ্রাস্ফীতি ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, তারা দেশের বাইরে সামরিক জড়িতিতে কম আগ্রহী। জরিপকারীরা উল্লেখ করেন, বৈদেশিক বিষয়ে মতামত ক্রমেই ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় মিডিয়া খরচের সঙ্গে জড়িত।

US viewed more positively as China sinks in approval, poll shows | Politics  News | Al Jazeera

এই তথ্য এমন সময়ে এসেছে যখন ট্রাম্পের নীতি দীর্ঘদিনের মিত্রতায় চাপ সৃষ্টি করেছে। তার উচ্চ শুল্ক ইউরোপ ও এশিয়ার অংশীদারদের ক্ষুব্ধ করেছে এবং জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা প্রতিবাদ উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে চীন দ্রুত তার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব বাড়াচ্ছে, যা অনেক আমেরিকানকে উদ্বিগ্ন করছে। তারা মনে করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বার্তা হয়তো কর্তৃত্ববাদী উন্নয়নের মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এ কারণে অংশগ্রহণকারীরা নৈতিক নেতৃত্ব চান, কিন্তু কঠোর ভূরাজনীতি ও ঘরোয়া অর্থনৈতিক চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।

সব মিলিয়ে জরিপটি দেখায়, আমেরিকানরা একটি নতুন পথ খুঁজছে। তারা শক্তিশালী সামরিক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি চায়, কিন্তু একই সঙ্গে এমন একটি দেশ চায় যাকে মূল্যবোধের জন্য সম্মান করা হবে। এই ভারসাম্য অর্জন করতে নীতি পরিবর্তন ও জাতীয় আলোচনার প্রয়োজন হবে। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে জনমতের এই দ্বিধা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র কি বাড়িতে আস্থা ও বাইরে সম্মান ফিরে পেতে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে দলীয় বিভাজন কমিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ কৌশল গ্রহণের উপর।