প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্রুত গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা অর্থ গ্রহণের দিনই গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে। এতে প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের ভোগান্তি কমবে এবং ব্যাংকিং সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নির্দেশনার উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা
বৃহস্পতিবার জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, রেমিট্যান্স জমায় বিলম্ব কমানো, পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বাড়ানো এবং গ্রাহকসেবার সামগ্রিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। সার্কুলার অনুযায়ী, নির্দেশনা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
কারিগরি প্রস্তুতিতে সময়সীমা
যদিও আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর, তবে প্রয়োজনীয় কারিগরি অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত করতে ব্যাংকগুলোকে সময় দেওয়া হয়েছে আগামী মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে সব ব্যাংককে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
রেমিট্যান্স জমার সময়সীমা স্পষ্ট
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে যে রেমিট্যান্স আসবে, তা একই কর্মদিবসেই গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে। আর ব্যাংকিং সময় শেষ হওয়ার পর রেমিট্যান্স এলে, সর্বোচ্চ পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে তা জমা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রযুক্তির ব্যবহার
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং বা ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুত পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে থাকলে আগে টাকা জমা দিয়ে পরে কাগজপত্র বা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
যাচাই ও নিষ্পত্তির সময়সীমা
যেসব ক্ষেত্রে জমার পর পর্যালোচনা সম্ভব নয়, সেসব লেনদেন সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে যাচাই ও নিষ্পত্তি শেষ করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও স্বচ্ছতা
রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে শুরু করে গ্রাহকের হিসাবে জমা হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালি ট্র্যাক করা যাবে।
ম্যানুয়াল কাগজপত্র কমানোর উদ্যোগ
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শক্তিশালী করা হবে। ধাপে ধাপে ফরম সি ও ফরম সি আইসিটি সহ ম্যানুয়াল কাগজপত্রের ব্যবহার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসায়ী মহলের প্রতিক্রিয়া
ব্যবসায়ী ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এটি আর্থিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি জানান, রূপান্তরের সময় কিছু কার্যগত চ্যালেঞ্জ থাকলেও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও দ্রুত নিষ্পত্তি দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















